টানা বৃষ্টি ও ঢলে বন্যার পদধ্বনি

বিশেষ প্রতিবেদক ।

কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা নদী তীরবর্তী চার জেলার নিম্নাঞ্চলও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নেত্রকোনা চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটির কিছু এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এদিকে, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা বন্যা পরিস্থিতির অবনতির খবর জানিয়েছেন।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, দেশের ১৩ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির আশংকা রয়েছে। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। গতকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া ও দোয়ানি পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১২.২৫ সেন্টিমিটার ও সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ৭.২০ সেন্টিমিটার, সারিগোয়াইন নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী নদীর পানি দুর্গাপুর পয়েন্টে ১২.৪০ সেন্টিমিটার ও কমলাকান্দা পয়েন্টে ৬.৬০ সেন্টিমিটার, কংস নদীর পানি জারিয়াজাজইল পয়েন্টে ৯.৯৫ সেন্টিমিটার, সাঙ্গু নদীর পানি দৌহাজারি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার, মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ১২.২৫ সেন্টিমিটার ও চিরিংগা পয়েন্টে ৬.২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, গতকাল থেকে সন্ধ্যায় হালদা নদীর দুটি পয়েন্টে আর সিলেটের কুশিয়ারা নদীর পানি শেরপুর ও সিলেট পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এদিকে, পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক ইরি-বোরো ক্ষেতও তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ২ হাজার পরিবার। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার সঙ্গে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি। নদীর তীরবর্তী ২০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক গ্রামের লোকজন। অপরদিকে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর মুহুরী, সিলোনিয়া, কহুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে নিম্ন এলাকায় ১৩ স্থানে ১৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

চট্টগ্রামে পাহাড় ধস: প্রবল বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার পোড়া কলোনি পাহাড়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, বৃষ্টিপাতে কাটগড়, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, ষোলশহর, শুলকবহরসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতে পাহাড় থেকে বালি ও মাটি সড়কে এসে পড়ায় রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানের বিভিন্ন সড়ক এলাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়।

সিলেট ও সুনাগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানে স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সড়ক ডুবিয়ে নদীর পানি ফসলের মাঠ বিশেষ করে আমনের বীজ তলা তলিয়ে গেছে। অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়ছে। সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার সব কটি উপজেলা এবং সিলেট মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা নতুন করে বন্যা কবলিত হওয়ার খবর এসেছে। সুনামগঞ্জের ৮ টি উপজেলায় ১৮৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬ উপজেলায় ৫০ টি মাধ্যমিক ও মাদ্রাসায় পানি ঢুকেছে। অনেক স্থানে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ১৬ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে দেড় হাজার মানুষ পানিবন্দী আছেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গতকাল বৃহস্পতিবার ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক জানান।

এদিকে, ছাতকে টানা এক সপ্তাহ ধরে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *