আড়ং-প্রাণ-মিল্কভিটা-ইগলুসহ ৭ দুধে ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিক

বিশেষ প্রতিবেদক ।

আড়ং-প্রাণ-মিল্কভিটা-ইগলু-ফার্মফ্রেশসহ বাজারে প্রচলিত সাতটি পাস্তুরিত দুধে মানবচিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার ও ফার্মেসি অনুষদের গবেষকরা। এসব কোম্পানির দুধে যে পরিমাণ ‘ফ্যাট ইন মিল্ক’ এবং ‘সলিড নট ফ্যাট’ থাকা দরকার নমুনায় সে পরিমাণ উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে ফার্মেসি বিভাগ। 

এ সময় বক্তব্য রাখেন সেন্টারের পরিচালক ও ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, আমরা ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষকেরা সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজার থেকে কিছু খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোর গুণগত মান পরীক্ষা করেছি। খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিয়ে সরকার ও জনগণের গভীর উদ্বেগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মহলের অবগতি ও ভোক্তা হিসেবে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এ সংবাদ সম্মেলনের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আমাদের পরীক্ষায় পাস্তুরিত দুধের সাতটি নমুনার সবগুলোতেই মানবচিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক লেভোফ্লক্সসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও এজিথ্রোমাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও অপাস্তুরিত দুধের একটি নমুনাতে ফরমালিনও পাওয়া মিলেছে। অন্য একটিতে পাওয়া গেছে ডিটারজেন্ট।

আর টোটাল ব্যাকটেরিয়া কাউন্টও ছিল পাস্তুরিত দুধের সবগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। কলিফর্ম কাউন্ট পাস্তুরিত দুধের দু’টি নমুনাতে ছিল অনেক বেশি। আর স্টেফাইলোকক্কাস স্পেসিজ শূন্য থাকার কথা থাকলেও পাস্তুরিত দুধের পাঁচটিতে এর জীবাণুর উপস্থিতিতো ছিলই, এমনকি এর পরিমাণও ছিল অনেক বেশি।

পরীক্ষকরা জানান, ফ্রুট ড্রিংকসের ১১ টি নমুনার সবগুলোতে নিষিদ্ধ ক্ষতিকর সাইক্লামেট পেয়েছেন তারা। এগুলো হলো, স্টার শিপ ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংকস, সেজান ম্যাংগো ড্রিংক, প্রাণ ফ্রুটো, অরেনজি, প্রাণ জুনিয়র ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক, রিটল ফ্রুটিকা, সান ড্রপ, চাবা রেড এপল, সানভাইটাল নেক্টার ডি ম্যাংগো, লোটে সুইটেন্ডএপল ও ট্রপিকানা টুইস্টার।

এ ছাড়া আড়ং, বাঘাবাড়ি, প্রাণ, মিল্ক ভিটা, মিল্কম্যান, সুমির ও টিনে বিক্রি হওয়া ঘি মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। রূপচাঁদা, পুষ্টি, সুরেশ, ড্যানিশ ও বসুধা সরিষা তেলসহ বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ভোজ্যতেলেও মানহীনতার চিত্র উঠে আসে প্রতিবেদনে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *