ধর্ষণ ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ১৭ দিন পর

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ।

গত ২৩ মে নারায়ণগঞ্জের আদমজীনগরের র‍্যাব-১১ এর কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন মনোয়ারা বেগম মদিনা (৬০)। সেখানে বলা হয়, তার মেয়ে মিনু আক্তার (৩৫) গত ২১ মে ভোর ৩টার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। সোনারগাঁ থানায় একটি জিডিও (জিডি নং -৯২৪ তারিখ ২৩ মে ২০১৯) করেন তিনি। অবশেষে আজই মেয়ে মিনু আক্তারের লাশ উদ্ধার করেছে র‍্যাব।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

১৭ দিন পর উন্মোচিত হয়েছে ধর্ষণ এবং রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।    মা মনোয়ারার অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে জুনায়েদ (৪০) নামে এক ব্যক্তির সাথে কাপড়ের ব্যবসার সূত্র ধরে মিনু আক্তারের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। ২০১৬ সালে মিনুর সাথে জুনায়েদের বিয়ে হয়। কিন্তু ওটা ছিল জুনায়েদের দ্বিতীয় বিয়ে। এর পর মিনুর সাথে জুনায়েদের দাম্পত্য সম্পর্ক অবনতির দিকে যায়। স্বামী সাথে তার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। জুনায়েদ তাকে প্রায়ই মারধর করতেন এবং বিভিন্ন ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দিতেন। এরপর গত বছর জুনায়েদ মিনুকে তালাক দেন। কিন্তু তালাক দেওয়ার পরও তিনি মিনুর সাথে জোরপূর্বক মেলামেশার চেষ্টা করতেন। কিন্তু মিনু আর সম্পর্কে জড়িয়ে থাকতে রাজি নন। তারপর কোনভাবে দেখা করার জন্যে জুনায়েদ মিনুকে রাজি করান। এরই প্রেক্ষিতে গত ২১ মে ভোর ৩টার দিকে জুনায়েদ মিনুকে ফোন দিয়ে তারই এক ভাড়া করা বাসায় ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে মিনুর আর কোনো খোঁজ নেই। পরদিন সকালে তাদের বাসায় গেলে দরজায় তালা দেয়া দেখেন মনোয়ারা। তালা ভেঙে বাসা তল্লাশি করে দেখা যায়, বাসার মেঝে রক্তে ভরা। আরো মেলে জুনায়েদের রক্তমাখা লুঙ্গি এবং মিনুর রক্তমাখা ওড়না। বাড়ির আশেপাশে খোঁজাখুঁজির পর মিনুর মাথার চুলও পাওয়া যায়।      অভিযোগ দায়েরের পর পরই র‍্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল নিখোঁজ মিনু আক্তারের সন্ধান ও সন্দেহভাজন জুনয়েদকে গ্রেপ্তারের জন্যে কার্যক্রম শুরু করে। বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বশেষ ৬ জুন দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চিটাং রোড এলাকা থেকে আসামি জুনায়েদকে আটক করা হয়। তিনি ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলার নাছিরনগর থাকার মৃত সৈয়দ রফিক উদ্দিনের ছেলে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে একটি বাসা ভাড়া থাকতেন।   গ্রেপ্তারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, মো. জুনায়েদ কাঁচপুরে জিহাদ খানের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বাস করতেন। তিনি অলিম্পিক কম্পানির পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। তার প্রথম স্ত্রী রোকিয়াও একই প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। গত ২০১৬ সালে মিনু আক্তারের সাথে মো. জুনায়েদের দ্বিতীয় বিয়ে হয় এবং ২০১৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এর পর থেকে জুনায়েদের প্রথম স্ত্রী নাইট ডিউটিতে গেলে জুনায়েদ দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে রাত কাটাতেন। গত ২১ মে ভোর ৩টার দিকে মিনু তার বাসায় আসেন। এ সময় জুনায়েদ তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইলে মিনু বাধা দেন। এক পর্যায়ে জুনায়েদ তাকে ধর্ষণ করেন। কিছুক্ষণ পর মিনু ঈদে কাপড়ের ব্যবসার জন্যে জুনায়েদের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করলে জুনায়েদ তাকে মারধর করেন। ঘরের মধ্যে থাকা একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে মিনুর মাথায় আঘাত করলে তিনি সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। ওই সময়ই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ভোর ৪টার দিকে নিহত মিনুর বুকে রশি বেঁধে বিবস্ত্র অবস্থায় ঘর থেকে টানতে টানতে বাড়ির পাশের পুকুরের কচুরীপানার ভেতরে রেখে দিয়ে জুনায়েদ ঘরে ফিরে আসেন। সকালেই কর্মস্থলে চলে যান জুনায়েদ। ২১ মে দিবাগত রাত ১০টার দিকে মিনুর মৃতদেহ তুলে পাশের বালি ফেলার স্থানে নিয়ে গিয়ে গর্ত করে লাশটি গুম করেন।    অনুসন্ধানের সময় র‍্যাব জুনায়েদ ও নিখোঁজ মিনু আক্তারের মোবাইল কললিস্ট ও ঘটনার দিনের গতিবিধি পর্যালোচনা করে। জুনায়েদ তার অপকর্ম আড়াল করতে মিনু আক্তারকে হত্যা করে তার লাশ গুম করেন। জুনায়েদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী র‍্যাবের আভিযানিক দল আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় জনসাধারণ, সাংবাদিক ও পুলিশের উপস্থিতিতে তার বাড়ির পাশের ড্রেজার এলাকার মাটি খুঁড়ে নিহত মিনু আক্তারের লাশ উদ্ধার করে সোনারগাঁ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।     এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত জুনায়েদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *