শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যশোর বোর্ডের এসএসসি বাংলা ২য় পত্রের এমসিকিউ পরীক্ষা স্থগিত জুমা’র দিনে গোসল ও সুগন্ধির ব্যবহার সম্পর্কে যা বলেছেন বিশ্বনবি ইলিশ মাছের গড় আয়ু কত? নবজাতক শিশুর যত্নে, জন্মের পর করনীয় চুল এবং ত্বকের যত্নে থাকুক টক দই লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বাবার লাশ উঠানে, রুমাল হাতে ছেলে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘুমধুম সীমান্তে আবারও গোলাগুলির শব্দ পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন মানিক সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত মোয়াজ্জেম হোসেনকে গার্ড অব অনার প্রদান গুয়েতেমালায় কনসার্টে পদদলিত হয়ে নিহত ৯, আহত ২০ কারাগারে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন ৩ আসামি পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি করোনায় আক্রান্ত সিইসি হাবিবুল আউয়াল বেনাপোল সীমান্তে মাদকসহ আটক ১ সরকার সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিশ্বাসী : সেতুমন্ত্রী রাঙ্গাকে অব্যাহতির কারণ জানালেন জাপা মহাসচিব নড়াইলে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় দেয়া হলো দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন! সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু রানির শেষকৃত্যে অংশ নিতে লন্ডনের পথে প্রধানমন্ত্রী
Uncategorized

৩ জেলায় ১৪৬ ডাকাতের উৎপাত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০১৫
  • ২৬ দেখা হয়েছে

86439_x8
চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ফেনীর উপকূল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ১৪৬ জন ডাকাত। এসব জলদস্যু বা ডাকাতের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এর বাইরে রসুল্লা বাহিনী, ভাগিনা কালাম বাহিনী, আফসার বাহিনী, রুস্তম বাহিনী, হাসেম্যা বাহিনী, এস্কান্দার বাহিনী, মোস্তফা বাহিনী, গাজী বাহিনী, জাহানারা বাহিনী, মিশন বাহিনী, কমান্ডার বাহিনী, মোজাম বাহিনী, কালাম বাহিনী ও ভুট্টো ওরফে লাল ভুট্টো বাহিনীর হয়ে ডাকাতরা দস্যুতামূলক কাজকর্ম করে যাচ্ছে। তাদের যেন রুখবার কেউ নেই। গেল মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত ডাকাত/দস্যুদের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে একটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার গোপনীয় প্রতিবেদন যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিস্তারিত তথ্যসহ নাম- পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে র‌্যাবের মহাপরিচালককে নির্দেশনা দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী ওসমানপুর, ইছাখালী, কাটাছড়া, মিঠানালা, মঘাদিয়া, শায়েরখালী, ডোমখালী, বদিউল্ল্যাহ পুরো উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের বেশির ভাগ মৎস্য শিকার, গরু-ছাগল-মহিষ লালনপালন ও চর এলাকায় হালচাষ করে জীবিকানির্বাহ করে থাকে। মীরসরাই উপকূলীয় এলাকার কৃষিজীবী এসব মানুষ স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী ও ফেনী এলাকার ডাকাত/জলদস্যুদর হিংস্রতার শিকার হয়। ফেনীর উপকূলীয় এলাকা সোনাগাজী, উড়িরচর, হাতিয়া ও কোম্পানিগঞ্জ এলাকার ডাকাত/জলদস্যুরা রামদা, কিরিচ, পাইপগান, দেশীয় বন্দুক, কাটা রাইফেল এবং বিদেশী পিস্তল, এলজি, সিঙ্গেল ল্যান্সার, একে-৪৭, একে-২২ রাইফেলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে ইঞ্জিতচালিত ট্রলার/নৌকায় হামলা করে গরু-মহিষ, নৌকা, জাল, ট্রলার লুট করে নিয়ে যায়। অনেক সময় জেলেদের মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করে নির্যাতনপূর্বক বিকাশ বা অন্য বিভিন্ন মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। সম্প্রতি ডাকাত বা জলদস্যুরা বিকাশ নম্বর ০১৮৫২৫৯৮১৭৬, ০১৮২৪০৪২০৪৩, ০১৮১৪১৮৯৮৫৫ ব্যবহার করে জেলেদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করছে। মুক্তিপণের টাকা না পেলে কখনো কখনো জেলেদের অনেককে হত্যাও করা হয়। প্রতিবেদনে মন্তব্য আকারে বলা হয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় দস্যুতা দমনে কোস্টগার্ড আন্তরিক হলেও জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে প্রায়ই তারা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। এলাকাগুলো থানা থেকে ২৫/২৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে সাফল্য পায় না। এছাড়া ইলিশ মাছ ধরার মওসুম শুরু হলে নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ ও হাতিয়া উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুতের উৎপাত বেড়ে যায়। এসব এলাকায় কোস্টগার্ড ও পুলিশের ক্যাম্প দ্রুত স্থাপন করা হলে দস্যুতা কমে আসবে। প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম জেলায় ৬৯ জন ডাকাত ও চারজন পৃষ্ঠপোষকতাকারী রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পৃষ্ঠপোষকতাকারী চারজন হলেন- চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ১৬নং সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল মোস্তফা, মীরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পৌরসভার মেয়র মো. জাফর উল্লাহ টিটু ও সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন মিশন। ফেনী জেলার উপকূলীয় এলাকা ২৫ ডাকাত নিয়ন্ত্রণ করে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ জেলার ডাকাতরা ভাগিনা কালাম বাহিনী, আফসার বাহিনী, রুস্তম বাহিনী, হাসেম্যা বাহিনী, এস্কান্দার বাহিনী, মোস্তফা বাহিনী ও গাজী বাহিনীর অধীনে দস্যুতা করে থাকে। ফেনী জেলার ডাকাতদের পৃষ্ঠপোষকতাকারী হিসেবে ফেনী’র দুটি আসনের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য, ফেনী সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক (হিরন), ৮নং আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, সোনাগাজী থানার ৫নং চর দরবেশ ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থক চেয়ারম্যান আবুল কালাম ও সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম রয়েছেন। নোয়াখালী জেলার উপকূলীয় এলাকায় ৫২ জন ডাকাত দস্যুতা করছে। এ জেলায় জাহানারা বাহিনী, মিশন বাহিনী, কমান্ডার বাহিনী, মোজাম বাহিনী, কালাম বাহিনী ও ভুট্টো ওরফে লাল ভুট্টো বাহিনী তাদের উৎপাত অব্যাহত রেখেছে। পৃষ্ঠপোষকতাকারী হিসেবে রয়েছে অনেক জনপ্রতিনিধির নাম। এসব ডাকাত নির্মূলের জন্য ছয়টি সুপারিশ দেয়া হয়েছে গোপনীয় প্রতিবেদনে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় দস্যুতা দমনের জন্য কোস্টগার্ড, র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা যায়। জলদস্যু/ডাকাতদের কিছু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহায়তা করে থাকেন। তাদের আশ্রয়-প্রশয়ে ডাকাত/জলদস্যুরা এসব লুটতরাজ করে থাকে। তাই দায়ী জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায়। একই সঙ্গে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যায়।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী

© All rights reserved by Crimereporter24.com
রি-ডিজাইনঃ Cumilla IT Institute
themesba-lates1749691102