শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যশোর বোর্ডের এসএসসি বাংলা ২য় পত্রের এমসিকিউ পরীক্ষা স্থগিত জুমা’র দিনে গোসল ও সুগন্ধির ব্যবহার সম্পর্কে যা বলেছেন বিশ্বনবি ইলিশ মাছের গড় আয়ু কত? নবজাতক শিশুর যত্নে, জন্মের পর করনীয় চুল এবং ত্বকের যত্নে থাকুক টক দই লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বাবার লাশ উঠানে, রুমাল হাতে ছেলে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘুমধুম সীমান্তে আবারও গোলাগুলির শব্দ পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন মানিক সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত মোয়াজ্জেম হোসেনকে গার্ড অব অনার প্রদান গুয়েতেমালায় কনসার্টে পদদলিত হয়ে নিহত ৯, আহত ২০ কারাগারে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন ৩ আসামি পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি করোনায় আক্রান্ত সিইসি হাবিবুল আউয়াল বেনাপোল সীমান্তে মাদকসহ আটক ১ সরকার সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিশ্বাসী : সেতুমন্ত্রী রাঙ্গাকে অব্যাহতির কারণ জানালেন জাপা মহাসচিব নড়াইলে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় দেয়া হলো দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন! সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু রানির শেষকৃত্যে অংশ নিতে লন্ডনের পথে প্রধানমন্ত্রী
Uncategorized

বৃষ্টিতে বিপন্ন দেশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫
  • ৫২ দেখা হয়েছে

pic-15_249469
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। পর্যাপ্ত ত্রাণ তৎপরতা না থাকায় খাবার ও ওষুধের সংকটে পড়েছে বন্যাকবলিতরা। গত রবিবার রাত থেকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-চন্দনাইশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। কক্সবাজারের চার উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এর মধ্যে গত দুই দিনে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে বান্দরবানে গতকাল বিকেল থেকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ফেনীর ফুলগাজীতে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ভোলায় তেঁতুলিয়া নদী উপচে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সাতক্ষীরার কলারোয়া ও তালা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে।

ভারি বর্ষণে চাঁদপুর, কুমিল্লা, বাগেরহাটে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল, ফসলি জমি। এর মধ্যে ফেনীর দাগনভূঁঞায় ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে নদী উত্তাল থাকায় দেশের বিভিন্ন রুটে নৌ চলাচল বন্ধ ও ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সাত রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পটুয়াখালী অভ্যন্তরীণ নৌরুটের ৬৫ ফুটের নিচে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মেঘনার ভাঙনে ভোলার ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে গতকাল সকাল থেকে ফেরি চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এবার সার্বিকভাবে দেশে গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পূর্বাভাসে জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপের কারণে ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানির উচ্চতা কমছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারি বর্ষণে কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলাগুলোর কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে। বিস্তারিত ঢাকার বাইরে থেকে আমাদের আঞ্চলিক অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গত রবিবার থেকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-চন্দনাইশ উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় হাজারো মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। বন্ধ হয়ে গেছে যোগাযোগব্যবস্থা। খাবার ও ওষুধ সংকটে কবলিত এলাকায় জনজীবন বিপন্ন প্রায়। বেশির ভাগ মানুষ পানিবন্দি। তবে স্থানীয় স্কুল ভবনের শ্রেণিকক্ষে গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে অনেকে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি পর্যায়ে কিছু ত্রাণ বিতরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বলেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দ্রুত ত্রাণ বিলি করা সম্ভব হয়নি। আজ-কালের মধ্যে বিলি করা হবে।’

চন্দনাইশে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে হাঁটুপানি থাকায় কিছু যাত্রীবাহী বাস ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বড়দুয়ারা, বাজালিয়া ও দস্তিদার এলাকায় ডুবে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-বান্দরবান রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

বান্দরবানে গতকাল সকালে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বিকেল নাগাদ বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বান্দরবান-কেরানিরহাট ও বান্দরবান-রাঙামাটি সড়ক এখনো জলমগ্ন থাকায় সারা দেশের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে বান্দরবান। এদিকে নীলগিরিসংলগ্ন এলাকায় বান্দরবান-থানচি সড়কের একটি অংশ ধসে পড়লে থানচি ও রুমার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে মিডিয়াকর্মীসহ বেশ কয়েকজন পর্যটক আটকা পড়েন। পরে বিকল্প পথে হেঁটে তাঁরা বান্দরবান পৌঁছেছেন।

কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, রামু উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল রাত পর্যন্ত কক্সবাজার, টেকনাফ এবং কক্সবাজারের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে কক্সবাজার জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ওদিকে পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি দুই তীর উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গত দুই দিনে তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

ফেনীর ফুলগাজীতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ফলে ৫০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রবিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মুহুরী ও কহুয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে ফুলগাজী, দৌলতপুর, সাহাপাড়া ও বাসুরা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাঁচটি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফেনী সদরের কয়েকটি গ্রামে বন্যার পানি ওঠায় শতাধিক মানুষ সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়ার বিরলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

ভোলায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধির প্রভাবে মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে। এতে তলিয়ে গেছে বাঁধের ভিতর-বাহির ও নিচু এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, পুকুর ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জোয়ারের পানিতে ভোলা সদর উপজেলার রামদাসপুর ইউনিয়নের নাছিরমাঝি, মাঝেরচর গ্রাম; দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের মেদুয়া গ্রাম, নেয়ামতপুর গ্রাম; বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের হাকিমুদ্দিন গ্রাম, মির্জাকালু গ্রাম; তজুমদ্দিন উপজেলার চর জহির উদ্দিন গ্রাম, মনপুরা উপজেলার কলাতলী, ঢালচর, সোনারচর; লালমোহন উপজেলার কচুয়াখালীরচর ও চরফ্যাশন উপজেলার কুকরী-মুকরী, ঢালচর ও চর পাতিলাসহ উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ওই সব এলাকার অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে।

সাতক্ষীরার কলারোয়া ও তালা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম এক সপ্তাহ ধরে তলিয়ে আছে। পানিতে ডুবে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে বীজতলাসহ প্রায় দুই হাজার বিঘা জমির আমন ধান। প্রতিদিন পানি বাড়তে থাকায় ওই জনপদের মানুষ ঘরবড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসাসহ এলাকার উঁচু স্থানে। এলাকার বৃদ্ধ ও শিশুরা ভুগছে সর্দি-কাশিসহ পানিবাহিত নানা রোগে।

বাগেরহাট সদরসহ কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এলাকার কয়েক শ বিঘা ফসলের জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে।

ভারি বর্ষণে জলাবন্ধতা : চাঁদপুরে কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। তবে গতকাল ঝোড়ো ও দমকা হাওয়া ছিল আগের তুলনায় কম। চাঁদপুর সেচ প্রকল্প ও মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ভেসে গেছে শত শত খামারের মাছ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে।

কুমিল্লা নগরীসহ নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নগরীতে কাজের সন্ধানে আসা দিনমজুর ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা কাজহীন হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। নগরীর প্রায় বেশির ভাগ সড়কে পানি জমে থাকায় চলাচলকারীরা পোহাচ্ছে চরম ভোগান্তি। এদিকে বৃষ্টিতে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কৃষকের বীজতলা ডুবে গেছে। ফেনীর দাগনভূঞার রাজাপুর, সিন্দুরপুর ও সদর ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের ভারি বর্ষণের ফলে দাগনভূঞার ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেনি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

বৈরী আবহাওয়ায় নৌ চলাচল ব্যাহত : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে নদী উত্তাল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন রুটে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল দুপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সাতটি রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।। নদী উত্তাল থাকায় চাঁদপুর, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জসহ সাত রুটে প্রায় ৭০টি লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে গত রবিবার বিকেল ৫টা থেকে ১৫ ঘণ্টা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল সকাল ৮টার দিকে আবারও চালু হলেও একই কারণে দুপুর ১টার দিকে আবারও বন্ধ করা হয়। ফলে দৌলতদিয়া ঘাটে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। পটুয়াখালী অভ্যন্তরীণ নৌ রুটের ৬৫ ফুটের নিচে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডাব্লিউটিএ। এদিকে সমুদ্রবন্দর পায়রাকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ রুটে গতকাল সকাল থেকে ফেরি চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মেঘনার ভাঙনে ভোলার ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌ রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ ছিল। দুর্ঘটনা এড়াতে উভয় ঘাট থেকে লঞ্চ, সি-বোট, ট্রলারসহ ছোট ছোট নৌযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে গতকাল ডাম্প ফেরিসহ সব ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তিনটি রো রোসহ ১৪টি ফেরি চলাচল করেছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত শিমুলিয়ায় ২০টি বাস এবং ১০০ ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। কাওড়াকান্দিতে ছিল শতাধিক যান।

মেঘনা নদীতে ভাঙন : কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে মেঘনা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ভোলার ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নসংলগ্ন ফেরিঘাট এলাকায় চলছে ভাঙন। এ ছাড়া চলতি বর্ষা মৌসুমে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের কালুপুর, সোনাডগী, মুরাদ সফিউল্লাহ, বাঘার হাওলাসহ অন্তত ১০টি গ্রামের পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে।

স্থানীয়রা ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে জানায়, কয়েক দিনের মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ওই এলাকার দুটি মাছ ঘাট, বাজারের অর্ধশত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভেঙে গেছে ইলিশা ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক। অনেকেই ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও দোকানঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হেকিম ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০ কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। এ মুহূর্তে বিশ্বরোড এলাকা দিয়ে প্রটেকশন কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি।’

সার্বিকভাবে ৩০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত : জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে দুই হাজার ৯৮৩ মিলিমিটার। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এ সময় বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল এক হাজার ৪২৯ মিলিমিটার। ওই বিভাগে ১০৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। শুধু খুলনা নয়, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অনেক জেলায়।

সার্বিকভাবে দেশে গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ বাড়তি বৃষ্টি বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির তৈরি করেছে। চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জেলায় আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে ও জমিতে পানি বেশি থাকায় চারা আবাদ করা যাচ্ছে না। অতি বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে সতর্কতা হিসেবে কৃষিসংক্রান্ত গবেষণা সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থার জমিতে বীজতলা তৈরির জন্য নির্দেশ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বৃষ্টির কারণে মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সবজির দামও অনেকখানি বেড়ে গেছে। প্রায় সব ধরনের সবজির দামই এখন কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি।

দক্ষিণে অতি বৃষ্টি হলেও উত্তরবঙ্গের দুই বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বৃষ্টিপাত কম হচ্ছে। এতে জমিতে আবাদ ও বীজতলা তৈরির জন্য অনেক জেলায় কৃষকরা পানি পাচ্ছেন না। অনেকে কৃত্রিম সেচ দিয়ে আমন আবাদের চেষ্টা করছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে জানান, চলতি মাসে গত বছরের চেয়ে এ বছর ২৫-৩০ শতাংশ বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৭ দিনে ঢাকা বিভাগে দুই হাজার ১৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল এক হাজার ৫৯০ মিলিমিটার। এবার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টিপাত বেশি হচ্ছে। তবে উত্তরে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টি কম হচ্ছে। রংপুর বিভাগে বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল এক হাজার ৪৭ মিলিমিটার, হয়েছে ৭৫৭ মিলিমিটার। রাজশাহীতে ৮৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এটাও স্বাভাবিকের তুলনায় কম।

গত বছর আগস্ট মাসে বেশি বৃষ্টি হয়েছিল। তখন ১৩ জেলায় প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। তবে আগাম বাড়তি বৃষ্টি হওয়ায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হয়েছে। তবে কী পরিমাণ জমির বীজতলা পানির নিয়ে তলিয়ে গেছে, ক্ষয়ক্ষতি কী পরিমাণ তার কোনো হিসাব এখনো তৈরি করেনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)।

অধিদপ্তরটির সরেজমিন শাখার কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে জানান, এ বছর তিন লাখ ২০ হাজার ৭১৮ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। গত বছর দুই লাখ ৮১ হাজার ৬৬৪ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছিল।

এদিকে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ১০টি জেলায় বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বীজতলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডিএইর সরেজমিন শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, বীজতলা বেশি দিন পানির নিচে থাকলে তা নষ্ট হয়ে যায়। তবে ক্ষতি কী পরিমাণ তা জানা যাবে কিছুদিন পরে।

তিনি জানান, আপৎকালে চারা সরবরাহের জন্য কৃষিসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়। প্রয়োজনে সেই চারা কৃষকদের মধ্যে বিরতণ করা হয়। এবারও বীজতলা তৈরির জন্য সংস্থাগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এবার সার্বিকভাবে আমন আবাদে কিছু বিলম্ব হতে পারে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তবে এতে বিশেষ কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে জানান, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে অনেক জেলায় সবজির ক্ষেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ঢাকায় সবজির সরবরাহ কমে গেছে। বেশির ভাগ সবজি এখন কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মোজাম্মেল হক ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে বলেন, রোজার শেষ দিকে বেগুন ৪০ টাকায় নেমেছিল। এখন তা ৬০ টাকায় উঠেছে। সব সবজির দামই ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। এমনকি কাঁচা পেঁপেও এখন ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী

© All rights reserved by Crimereporter24.com
রি-ডিজাইনঃ Cumilla IT Institute
themesba-lates1749691102