বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যশোর বোর্ডের এসএসসি বাংলা ২য় পত্রের এমসিকিউ পরীক্ষা স্থগিত জুমা’র দিনে গোসল ও সুগন্ধির ব্যবহার সম্পর্কে যা বলেছেন বিশ্বনবি ইলিশ মাছের গড় আয়ু কত? নবজাতক শিশুর যত্নে, জন্মের পর করনীয় চুল এবং ত্বকের যত্নে থাকুক টক দই লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বাবার লাশ উঠানে, রুমাল হাতে ছেলে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘুমধুম সীমান্তে আবারও গোলাগুলির শব্দ পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন মানিক সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত মোয়াজ্জেম হোসেনকে গার্ড অব অনার প্রদান গুয়েতেমালায় কনসার্টে পদদলিত হয়ে নিহত ৯, আহত ২০ কারাগারে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন ৩ আসামি পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি করোনায় আক্রান্ত সিইসি হাবিবুল আউয়াল বেনাপোল সীমান্তে মাদকসহ আটক ১ সরকার সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিশ্বাসী : সেতুমন্ত্রী রাঙ্গাকে অব্যাহতির কারণ জানালেন জাপা মহাসচিব নড়াইলে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় দেয়া হলো দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন! সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু রানির শেষকৃত্যে অংশ নিতে লন্ডনের পথে প্রধানমন্ত্রী
Uncategorized

বিতর্কিত গম বিতরণ শেষ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০১৫
  • ২৩ দেখা হয়েছে

80849_thumb_101
নানা বিতর্কের মধ্যেই ব্রাজিল থেকে আমদানি করা ‘বিতর্কিত’ গম বিতরণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই গম বিষাক্ত কি না- তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই বিতরণ করায় নতুন করে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। কারণ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত গম বিতরণ না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল দেশের বিভিন্ন মহল। ইতিমধ্যেই পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই গম খেয়ে পুলিশ সদস্যরা শারীরিকভাবে দুুর্বল হয়ে পড়েছেন। ব্রাজিল থেকে আমদানি করা নিুমানের গম পুলিশকে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ।
আমদানি করা এই গম বিভিন্ন গবেষণাগারে তিন ধাপে পরীক্ষা করা হলেও সেগুলো বিষাক্ত কিনা তা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এটি (বিষাক্ত) নিশ্চিত করতে গমের নমুনা পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএআরআই) ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটে (বিআরআরআই)। এদিকে নিুমানের গমের কারণে এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ওএমএসের কার্যক্রম। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই গমের নমুনা সংগ্রহ করে ভালো মানের গম সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘ব্রাজিলের গমের বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। আগামী রোববার এ বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানি হবে। কাজেই বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আমি কোনো কথা বলব না। তাছাড়া বিষয়টি খাদ্য অধিদফতরের, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নয়।’
জানা গেছে, চলতি বছর মোট ৬ লাখ টন গম আমদানির জন্য ১২টি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে ৪টি দরপত্রের বিপরীতে দু’টি কোম্পানি (ইমপেক্ট ইন্টারন্যাশনাল ও ওলাম ইন্টারন্যাশনাল) ফেব্র“য়ারি মাসে প্রায় সোয়া ৪০০ কোটি টাকা দামের দুই লাখ টন গম ব্রাজিল থেকে আমদানি করে। এসব গমের আটা বিজিবি, পুলিশ, আনসার, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের মধ্যে রেশন দেয়া হয়। পাশাপাশি টিআর-কাবিখার কর্মসূচিও চালানো হয়। প্রথমে পুলিশ ও পরে বিভিন্ন সংস্থা থেকে লিখিতভাবে এ আটা গ্রহণে অসম্মতি জানানো হয়। তারা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করলে তিনি খাদ্য সচিবকে ডেকে পোকায় খাওয়া গম দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা তদন্ত করে বের করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই মূলত নড়েচড়ে বসে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা থেকে গম সংগ্রহ করে খাদ্য অধিদফতরের গবেষণাগারে পরীক্ষা করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা শেষে ব্রাজিলের গম খাদ্য উপযোগী বলে দাবি করা হয়। পরে বিভিন্ন মহল থেকে নিরপেক্ষ কোনো পরীক্ষাগার থেকে গম পরীক্ষার দাবি উঠলে তা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের গবেষণাগারে পাঠানো হয়। ওই পরীক্ষায় ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত গম অত্যন্ত নিুমানের বলে প্রমাণিত হয়। তাতে প্রতি ৭৫ কেজি গম ওজন করে তা আদর্শ মাপ অনুযায়ী পাওয়া যায়নি। খাদ্য অধিদফতরের আমদানির শর্ত অনুযায়ী, ৭৫ কেজির বস্তার ওজন যদি ৭২ কেজির কম থাকে তাহলে তা বন্দর থেকে খালাস করা যাবে না, ফেরত দিতে হবে। অথচ ৭৫ কেজির স্থলে বিভিন্ন পরীক্ষায় তা ৭১ কেজি থেকে সাড়ে ৭১ কেজি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গমের নষ্ট দানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত গ্রহণ করার কথা থাকলেও সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশও পাওয়া গেছে। এছাড়া শুকনো, কুঁচকানো ও ভাঙা দানার পরিমাণ সর্বনিম্ন থাকার কথা ৫ শতাংশ। কিন্তু বেশির ভাগ জেলার খাদ্যগুদামে তা ৮ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। কিন্তু এসব পরীক্ষায় গমে কোনো বিষাক্ত পদার্থ আছে কিনা তা নিয়ে কোনো পরীক্ষা করা হয়নি।
গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গমে কোনো বিষাক্ত পদার্থ আছে কিনা তা চিহ্নিত করতে ব্রাজিল থেকে আনা গমের নমুনা গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সব প্রশ্নের অবসানে দু-একদিনের মধ্যে ব্রাজিলের গম পরীক্ষা করতে গাজীপুরের ধান ও কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে সব ধরনের পরীক্ষা করা হবে। একই ধরনের ইঙ্গিত দিলেন খাদ্য অধিদফতরের একজন পরিচালকও। যিনি ব্রাজিলের গম কেনাকাটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ করে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
খাদ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, ব্রাজিল থেকে আমদানি করা ২ লাখ টন গমের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টন গম বিতরণ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার জুনের শেষ দিন হওয়ায় বাকি ৫০ হাজার টন গমও উত্তোলন করবে সারা দেশের বিভিন্ন কর্মসূচি সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে খাদ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. বাদরুল হাসান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ব্রাজিলের গম প্রায় বিতরণ শেষ পর্যায়ে। আজ (মঙ্গলবার) জুন ক্লোজিং হওয়ায় সারা দেশের বিভিন্ন গুদাম থেকে প্রায় সব গম বিতরণ করা হবে। ফলে ব্রাজিলের গম পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে বিতরণ শেষ হবে। অল্প কিছু গম থাকতেও পারে। এর আগে গত রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম দাবি করে বলেছিলেন, ২ লাখ টন গমের মধ্যে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার টন বিতরণ করা হয়েছে। অথচ কোথাও থেকে তো গম পচা এমন প্রশ্ন ওঠেনি। গত চার মাস ধরে ওই গম সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হয়েছে।
ব্রাজিল থেকে আনা নিুমানের গম রেশন হিসেবে দেয়ায় সাধারণ পুলিশ সদস্যরাও ক্ষোভ জানিয়েছেন। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (সাপ্লাই) রেজাউল করিম এ বিষয়ে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, খাদ্য অধিদফতর থেকে নিুমানের গম সরবরাহ প্রসঙ্গে লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। কিন্তু নিুমানের গম সরবরাহ বন্ধ হয়নি। এসব পুরনো ও নিুমানের গমই পুলিশকে বাধ্য হয়ে নিতে হয়। আগের চালানের গম শেষ না হলে পরের চালানের গম দেয়া হয় না।
নিুমানের গমের বিষয়ে এসপিবিএনের কনস্টেবল মোহাম্মদ ইব্রাহিম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘রেশনে আমরা যে আটা পাই সেটা অনেক ক্ষেত্রেই খাওয়ার উপযোগী থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে ওই আটা রাজারবাগ পুলিশ লাইনেই অর্ধেক দামে বিক্রি করে বাজার থেকে খাওয়ার উপযোগী প্যাকেট আটা বেশি দামে কিনতে হয়।’ এছাড়া মঙ্গলবার ডিএমপি কন্ট্রোল রুম ব্যারাকে কথা হয় এএসআই রকিবল, কনস্টেবল জালাল, আরিফ ও হোসেনের সঙ্গে। তারাও রেশনে পাওয়া গম নিুমানের বলে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান। পুলিশ সদর দফতরের কর্মরত নারী কনস্টেবল ফাতেমা জানান, রেশনের পাওয়া আটা প্রায় অর্ধেক দামে রাজারবাগ পুলিশ লাইনেই বিক্রি করে দিতে হয়। অথবা দুর্গন্ধ ও পোকামাকড়যুক্ত আটা খেতে হয়।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী

© All rights reserved by Crimereporter24.com
রি-ডিজাইনঃ Cumilla IT Institute
themesba-lates1749691102