বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যশোর বোর্ডের এসএসসি বাংলা ২য় পত্রের এমসিকিউ পরীক্ষা স্থগিত জুমা’র দিনে গোসল ও সুগন্ধির ব্যবহার সম্পর্কে যা বলেছেন বিশ্বনবি ইলিশ মাছের গড় আয়ু কত? নবজাতক শিশুর যত্নে, জন্মের পর করনীয় চুল এবং ত্বকের যত্নে থাকুক টক দই লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বাবার লাশ উঠানে, রুমাল হাতে ছেলে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘুমধুম সীমান্তে আবারও গোলাগুলির শব্দ পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন মানিক সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত মোয়াজ্জেম হোসেনকে গার্ড অব অনার প্রদান গুয়েতেমালায় কনসার্টে পদদলিত হয়ে নিহত ৯, আহত ২০ কারাগারে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন ৩ আসামি পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি করোনায় আক্রান্ত সিইসি হাবিবুল আউয়াল বেনাপোল সীমান্তে মাদকসহ আটক ১ সরকার সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিশ্বাসী : সেতুমন্ত্রী রাঙ্গাকে অব্যাহতির কারণ জানালেন জাপা মহাসচিব নড়াইলে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় দেয়া হলো দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন! সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু রানির শেষকৃত্যে অংশ নিতে লন্ডনের পথে প্রধানমন্ত্রী
Uncategorized

কুলি থেকে কোটিপতি জালিয়াত রহিম শেখ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০১৫
  • ৩৪ দেখা হয়েছে

5_286034
রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় কোটি টাকার জাল নোটসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এর মধ্যে চক্রের মূল হোতার নাম আবদুর রহিম শেখ। তিনি এক সময় কুলি ছিলেন। করেছেন বাসের হেলপারিও। এখন রহিম শেখ কোটি টাকার মালিক। আছে বাড়ি-গাড়িও। ঈদকে সামনে রেখে আরও দু’মাস আগে থেকে জাল নোট তৈরি শুরু করে রহিম চক্র। বাজারে প্রায় ১০ কোটি টাকার জাল নোট ছেড়ে বিনিময়ে ৩ কোটি টাকার আসল নোট আয়ের পরিকল্পনা করে তারা।
রোববার দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে গ্রেফতার পাঁচজনকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়। অন্যরা হলেন রহিম শেখের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী রুবিনা খাতুন, মোহাম্মদ আসাদ ও তাজিম হোসেন। এ সময় তারা জাল টাকা বাণিজ্যের বিষয়ে নানা তথ্য দেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এদিন ভোরে বনশ্রীর ‘কে’ ব্লকের ১৬ রোডের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার জাল টাকা, ১১টি টাকা তৈরির স্ক্রিন শট, ৩টি বোর্ড, ২টি বিশেষ ডট কালার প্রিন্টার, ২টি ল্যাপটপ, ৪ রোল টাকার ভেতরের নিরাপত্তা সুতার ফয়েল, ২ কৌটা টাকার জলছাপে ব্যবহৃত আইপিআই প্রিন্টিং কালি, ২০০টি প্রিন্টারের কার্টিজ, ১ বোতল রেডোসার কেমিক্যাল, ৮ রিম কাগজ, ১টি টাকা স্ক্যানার, ১টি লেমিনেটিং মেশিন এবং ২টি টাকা কাটিং গ্লাস জব্দ করে র‌্যাব।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরেই জাল নোটের ব্যবসা করে আসছে। আর এ চক্রের মূল হোতা আবদুর রহিম। তিনি তার দুই স্ত্রী ফাতেমা ও রুবিনাকে এ কাজে ব্যবহার করেন। তাদের হাত হয়ে বিভিন্ন গ্রুপের কাছে কমিশনের ভিত্তিতে জাল নোট সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, এবারের ঈদের এই চক্র ১০ কোটি টাকার জাল নোট তৈরির পরিকল্পনা করেছিল, যা বাজারে ছেড়ে তারা তিন কোটি টাকার আসল নোট সংগ্রহ করতেন।
আবদুর রহিম স্বীকার করেন, ২০০৮ সালে হুমায়ুন নামে জাল টাকা তৈরির কারিগর ও চক্রের মূল হোতার সঙ্গে সে জড়িয়ে পড়ে। সে হুমায়ুনের জাল টাকা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করত। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার ফলে সে জাল টাকা তৈরির বিদ্যা হাতে-কলমে শিখে নেয় এবং বনশ্রীর এই ফ্ল্যাট ভাড়া করে জাল টাকা তৈরির ব্যবসা শুরু করে।
রুবিনা ও ফাতেমা স্বীকার করেন, তারা টাকার ভেতরের নিরাপত্তা সুতার ফয়েল চকবাজার, স্ক্রিন ও বোর্ড মালিটোলা, রেডোসার কেমিক্যাল মালিটোলা থেকে সংগ্রহ করে থাকে। তাদের চক্রের আরও ১০ থেকে ১২ জন সদস্য রয়েছে। যারা জাল নোট বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। চক্রের আরেক সদস্য আসাদ স্বীকার করেন, এই ঈদে তারা জাল টাকার পাশাপাশি ইন্ডিয়ান জাল রুপি ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। রুপি কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হবে এর একটি ছকও তারা তৈরি করে রেখেছিল।
র‌্যাব হেফাজতে রহিম শেখ জানান, টাকা তৈরির জন্য তিনি প্রথমে টিসু কাগজের এক পাশে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি স্ক্রিনের নিচে রেখে গাম দিয়ে ছাপ দেন। এরপর ৫০০ ও ১০০০ লেখা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রামের ছাপ দেয়া হয়। পরে অপর একটি টিসুপেপার নিয়ে ফয়েল পেপার থেকে টাকার পরিমাপ অনুযায়ী নিরাপত্তা সুতা কাটা হয়। সুতা কাটার পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি জলছাপ দেয়া টিসুপেপারের সঙ্গে গাম দিয়ে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। এভাবে টিসুপেপার প্রস্তুত করে বিশেষ ডট কালার প্রিন্টারের মাধ্যমে ল্যাপটপে সেভ করা টাকার ছাপ অনুযায়ী প্রিন্ট করা হতো। আবদুর রহিম জানান, জাল টাকা তৈরির পর বিশেষভাবে বান্ডিল করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত তার চক্র।
আবদুর রহিম শেখ বলেন, তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে কুলিগিরি করেন। তারপর তেজগাঁওয়ে ট্রাকস্ট্যান্ডে হেলপারির কাজ শুরু করেন। এরপর ২০০৮ সালে অসাধু জাল টাকা তৈরি চক্রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই চক্রটির মূল হোতা হুমায়ুন মোহাম্মদপুরে জাল টাকা তৈরি করত। আবদুর রহিম ওই চক্রের কাছ থেকে জাল টাকা সংগ্রহ করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করত।
আবদুর রহিম বলেন, দুই স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে খুব কষ্টে দিন যাপন করত। তাই তিনি জাল টাকা তৈরির কৌশল শিখে নিজেই জাল টাকা তৈরি শুরু করেন। এ ব্যবসা শুরু করার পর থেকেই তার অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। তিনি এখন দুই স্ত্রীকে নিয়ে বনশ্রীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে থাকেন। বাড়ি করেছেন পিরোজপুরে। সম্প্রতি কিনেছেন একটি ব্যক্তিগত গাড়িও। জাল টাকা তৈরির কৌশল আয়ত্ত করে দুই স্ত্রীকে গ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন তিনি। কয়েকজন নিকটাত্মীয়কেও ঢাকায় এনে এ ব্যবসায় জড়ান।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী

© All rights reserved by Crimereporter24.com
রি-ডিজাইনঃ Cumilla IT Institute
themesba-lates1749691102