শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যশোর বোর্ডের এসএসসি বাংলা ২য় পত্রের এমসিকিউ পরীক্ষা স্থগিত জুমা’র দিনে গোসল ও সুগন্ধির ব্যবহার সম্পর্কে যা বলেছেন বিশ্বনবি ইলিশ মাছের গড় আয়ু কত? নবজাতক শিশুর যত্নে, জন্মের পর করনীয় চুল এবং ত্বকের যত্নে থাকুক টক দই লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বাবার লাশ উঠানে, রুমাল হাতে ছেলে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘুমধুম সীমান্তে আবারও গোলাগুলির শব্দ পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন মানিক সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত মোয়াজ্জেম হোসেনকে গার্ড অব অনার প্রদান গুয়েতেমালায় কনসার্টে পদদলিত হয়ে নিহত ৯, আহত ২০ কারাগারে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন ৩ আসামি পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি করোনায় আক্রান্ত সিইসি হাবিবুল আউয়াল বেনাপোল সীমান্তে মাদকসহ আটক ১ সরকার সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিশ্বাসী : সেতুমন্ত্রী রাঙ্গাকে অব্যাহতির কারণ জানালেন জাপা মহাসচিব নড়াইলে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় দেয়া হলো দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন! সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু রানির শেষকৃত্যে অংশ নিতে লন্ডনের পথে প্রধানমন্ত্রী

সমতলের আদিবাসী ও কারাম উৎসব

শিশির সমরাট ।
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২৩১ দেখা হয়েছে

 

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২(সোমবার) ১০:২৪ এএম

সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব “কারাম”। যা আদিবাসী মাহাতো জাতির নাগরী ভাষায় লিখিত।সমতলের আদিবাসী মাহাতো ও ওঁরাওদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব “সোহরায়”। এই উৎসব কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে হয়ে থাকে। এর পরেই স্থান পায় দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব কারাম।খবর ক্রাইম রিপোর্টার২৪.কমের।

কারাম পূজা ভাদ্র মাসের এই একাদশীতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সমতলের বিশেষ করে রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা, সিলেট, অঞ্চলে এই সময় অনেক চঞ্চলতা ও ধর্মীয় উদ্দীপনার সাথে কারাম উৎসব পালন করা হয়। সাঁওতাল, ওঁরাও, মাহাতো, বড়াইক, কুর্মি, সিং, পাহান, মাহালি সহ আরো কতিপয় আদিবাসী গোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ রীতিতে পালন করে থাকে।

কারাম নামক গাছের ডাল কেটে বিভিন্ন প্রাচীন প্রথা মান্য করে এই উৎসব করা হয় তাই এর নাম কারাম। ডাল গেড়ে পুজো করা হয় তাই এটি কোথাও কোথাও ডাল পুজো বা বৃক্ষ পুজো নামে পরিচিত।

কারাম উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা ৫ দিনের। কোথাও কোথাও ৭ দিন যাবত এই অনুষ্ঠান করা হয়। প্রথম দিন থেকেই কেরমেতিদের আমিষ হলুদ, তেল ও সকল প্রকার মসলা জাতীয় খাদ্য পরিহার করতে হয়। কেরমেতি বলতে যারা কারাম পুঁজায় অংশ গ্রহণ করে তাদের বোঝায়। তারা বিশ্বাস করে যদি এই খাবার পদ্ধতির কেউ অনিয়ম করে তাহলে ওরা অংশের জাঁওয়া মরে যায়। জাঁওয়া বলতে বোঝায় মাটি, বালি, মুং, কুর্থি, ছোলা ইত্যাদি উপকরণ সামগ্রীর সমন্বয়ে চারা গাছের যে ডালা তৈরি করা হয়। এটি আসল অর্থ বৃক্ষের অঙ্কুরোদগমকেই বোঝায়।

বৃক্ষের সাথে আদিবাসীদের আত্মার সম্পর্ক। বিভিন্ন রকম আচার ও গীত এর মাধ্যমে জাঁওয়া তোলা হয়। প্রত্যেক দিন রাতে একই রকম আচার, গীত ও ঝুমুর এর মধ্য দিয়ে জাঁওয়াতে পানি দেওয়া ও জাগানো হয়। অর্থাৎ প্রকৃতির বন্দনা করা হয়। নিয়মিত পরিচর্যায় বীজগুলো এ সময় দুই পাতা বিশিষ্ট হলুদাভ সবুজ চারাগাছে পরিণত হয়। প্রতীকী অর্থে বৃক্ষ রোপণ করার পর তার পরিচর্যাকে বোঝানো হয়।

শেষের দিন কেরমেতিরা রাতে আঙ্গিনায় কারাম ডাল গেড়ে শাপলা ফুল, শসা, ফিতা প্রভৃতি দিয়ে সাজিয়ে, ডালের গোড়ায় ডালাগুলো রেখে জ্বলন্ত প্রদীপ ও বরণ সাজে সজ্জিত কাসার থালা নিয়ে অধীর আগ্রহে কাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রথা বুকে লালন করে পুজোয় মনোনিবেশ করে। কার্মা ধার্মার উপদেশ মূলক গল্প জানা বৃদ্ধার নীতি গল্প শুনতে শুনতে এবং সঠিক সময়ে ডালকে প্রণাম ও ফুল ছিটয়ে ঐ রাতেই পুজোর কাজ সমাপ্ত হয়। গল্পটি সকলের চরিত্র গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। পরক্ষণে রাতভর কারাম ডালকে ঘিরে ঢোল, কাশি ও নিজ নিজ বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ঝুমুর ও গীত পরিবেশিত হয়। শিশু কিশোর, যুবক যুবতী, বয়স্কদের সমন্বয়ে ঢোলের বাড়ি ও প্রদীপের আলোর পুরো আদিবাসী পল্লীগুলোতে নৈসর্গিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরের দিন সকালে সকলে মিলে বিভিন্ন আচার সেরে গীত গাইতে গাইতে কারাম ডালকে নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।

বিসর্জন গীত:

“জাঁওয়া জাঁওয়া কারাম গাঁসা
কাঁস ন্যাদিই পার
ঘুঁরি ভাঁদার মাসে
আনাবোও ঘুরাইকে,
দিহে দিহে কারাম গাঁসা দিহে আশিস।”

কারাম উৎসবে মূলত কেরমেতিরা তার বাবা ও ভাই এর দীর্ঘায়ু কামনা করে। সেই সাথে বৃক্ষের বন্দনা করে থাকে।

২০১৩ সালের শেষের দিকে সমতলের মাহাতো জাতির ভাষা ও সংস্কৃতি সংবলিত গ্রন্থ “কারাম” প্রকাশিত হয়। যুগে যুগে কারাম নিয়ে গান, কবিতা, উপন্যাস, বিভিন্ন রকম প্রবন্ধ তৈরি হলেও তার সংখ্যা অতি নগণ্য। পার্বত্য অঞ্চলের বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক প্রভৃতি উৎসবের মত কারাম উৎসবের তেমন জনপ্রিয়তা নেই। কারাম ঐতিহ্যবাহী হওয়া সত্ত্বেও এটি অনেকের কাছে অপরিচিত।

মানুষ যখন সারা বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে ঠিক এই সময়েও সমতলের আদিবাসীরা বাড়ীর আঙ্গিনায় কারাম ডাল গেড়ে পুজো করছে। এক বিংশ শতাব্দীতে এসেও সমতলের আদিবাসীরা তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞ।

আদিবাসি হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সমতলের মাহাতো, কুর্মি, পাহান, সিং, বড়াই, প্রভৃতি জনগোষ্ঠী বাদ পড়ে যায় আদিবাসীর তালিকা থেকে। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিয়েও রয়েছে বিভিন্ন রকম ধুম্রজাল। সংশ্লিষ্ট সকলের সহায়তা পেলেই রক্ষা পাবে সমতলের আদিবাসীদের বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে থাকা নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি।খবর ক্রাইম রিপোর্টার২৪.কমের।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী

© All rights reserved by Crimereporter24.com
রি-ডিজাইনঃ Cumilla IT Institute
themesba-lates1749691102