বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

পানিতে ডুবে আছে গ্রামের পর গ্রাম, ত্রাণের জন্য হাহাকার 

বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২২ জুন, ২০২২
  • ৩১ দেখা হয়েছে

 

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২২(বুধবার)১০:৫৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিতাস নদী এবং কাজলা বিলের পানি অব্যাহত ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে বিজয়নগর উপজেলার ৩০ টি  গ্রাম। পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে কৃষকের জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল ও ফসলের মাঠ। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। রাস্তাঘাটও তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। আয় উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পরেছে বন্যা কবলিত মানুষগুলো। এ অবস্থায় এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি এ লক্ষ্য কাজ করছেন তারা।খবর ক্রাইম রিপোর্টার২৪.কমের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস নদীর পূর্বাঞ্চল, বিজয়নগর উপজেলার চর ইসলামপুর, পত্তন, হরষপুর, চান্দুরা, বুধন্তি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এরমধ্যে দত্ত খোলা, চর ইসলামপুর, মনিপুর, পত্তন, লক্ষিমোড়া, কালিসিমা, হরষপুর, মানিকপুর, বিন্নিঘাট, তালতলা, মেরাশানিসহ আরও অন্তত ১০টি গ্রাম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে এমন দুর্ভোগের মধ্যে থাকলেও সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো ধরনের ত্রাণ পৌঁছেনি বন্যাদুর্গত এলাকায়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষগুলো। মনিপুর এলাকার নায়েব মিয়া বলেন, গরু আছে কয়েকটা, ঘরে বাচ্চা আছে তাদের নিয়ে খুব বেশি সমস্যায় আছি। রান্নাঘর, টিউবওয়েল, বাথরুম সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে। খুব সমস্যার মধ্যে আছি। গরু রাখার কোনো জায়গা নেই। অন্য এলাকায় নিয়ে গরু রেখে আসছি। এভাবে যদি পানি বাড়তে থাকে তাহলে আমাদের বাড়িছাড়া হতে হবে।

চান্দুরা ইউনিয়নের কালিসীমা গ্রামের জয়নাল ইসলাম বলেন, খুব অসহায় অবস্থায় আছি আমরা। বাড়িঘর পানির নিচে চলে যাচ্ছে। মাছের খামার, পুকুরের মাছ সবকিছু ভেসে গেছে। আমরার অবস্থা খুব খারাপ। কষ্টের বিষয় হল এখানো পর্যন্ত আমাদের কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা এসে কত কথা বলে এখন কেউ আমাদের পাশে নাই।

আমেনা বেগম নামে এক নারী বলেন, প্রতিদিন আস্তে আস্তে পানি বাড়ছে। বাড়ীর উঠানে কোমড় পানি। বাড়িঘর থেকে বের হতে পারছি না। নামাজ পড়তে পারি না,বাথরুমে যেতে পারি না, রান্না করতেও পারি না সব জায়গায় শুধু পানি আর পানি। ঘরের ভিতরে কোনো রকম রান্না করে খেয়ে বেচে আছি। এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যান কেউ কোনো খোজ নেয়নি।

বিজয়নগর উপজেলা চর ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দানা মিয়া  ভূঁইয়া জানান, এখন পর্যন্ত তার এলাকায় কোন ধরনের সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি। এলাকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সবধরনের সাহায্য সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তবে তিনি জানান, আজ দুপুরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করছেন। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা শাহিনুর জাহান জানান, আজ বুধবার সকালে চর ইসলামপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি  বন্যা কবলিত গ্রামে ঘুরে এসেছি এবং ৬৮৬  টা পানি বন্দী পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের  প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ ইফরান উদ্দিন আহমেদ জানান, এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। গতকাল আমরা মিটিং করেছি এ বিষয় নিয়ে, প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শনাক্ত করে সহযোগীতা করা হবে। আমাদের উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সব কয়টা এলাকা ঘুরে দেখবেন। ত্রাণ তৎপরতায়  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আমি নিজে আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ কয়েকটি  গ্রামের খোজ খবর নিয়েছি। তাছাড়া আমরা জান মালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে  কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রও প্রস্তুত রেখেছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছে এবং গবাদিপশুর জন্য খাদ্য ও নিরাপদ স্থানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা চলছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার২৪.কমের।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী

© All rights reserved by Crimereporter24.com
themesba-lates1749691102