শিরোনাম

‘তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের দিনটিই আমাকে বদলে দিয়েছে’

বিনোদন প্রতিবেদক ।

অভিনেত্রী ও মডেল সোহানা সাবা। ছোট-বড় পর্দায় অভিনয় করে উপহার দিয়েছেন অনেক জনপ্রিয় নাটক সিনেমা। তিনি অভিনয় করেছেন সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তী অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী পরিচালিত ‘আয়না’ চলচ্চিত্রে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

শনিবার রাত ৮টায় ইত্তেফাক অনলাইনের নিয়মিত আয়োজন ‘টুনাইট শো’-এ হাজির হন সোহানা। ইত্তেফাক অনলাইন ইনচার্জ জনি হকের সঞ্চালনায় এসময় কবরীর সঙ্গে কাটানো সময় ও জীবনের অজানা নানান বিষয় শেয়ার করেছেন তিনি।

সোহানা সাবা তার ক্যারিয়ার শুরু করেন নাচের মাধ্যমে। বর্তমানে তিনি একজন অভিনয় শিল্পী হিসাবে সবার কাছে পরিচিত। তার অভিনয়ের শুরুটা হয়েছিলো কবরীর মাধ্যমেই। তিনি বলেন, ‘আমার সব সাক্ষাতকারেই কবরী আপুর কথা চলে আসে। আমি বলি- আমার মা আমাকে আমাকে জন্ম দিয়েছেন-অভিনয়ের জন্য প্রস্তুত করে তুলেছেন। কিন্তু আমাকে দ্বিতীয় জন্ম দিয়েছেন কবরী আপু। তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করাটা অনেক কঠিন কাজ।’

‘তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের দিনটিই আমাকে বদলে দিয়েছে’

আয়না ছবির জন্য প্রায় ২ শতাধিক মেয়েকে নিয়ে অডিশন হয়। এর মধ্য থেকে কবরীর ডাক পান সোহানা। কিংবদন্তীর সাথে প্রথমে দেখার পরের ঘটনা বর্ণনা দিয়ে সোহানা সাবা বলেন, ‘কবরী আপু আমাকে বললেন- শোন মেয়ে প্রথমদিন তোমাকে দেখে কী কারণে আমার মহাব্বাত এসেছে। আর কী কারণে আমার ভালো লেগেছে আমি জানিনা। উনি মহব্বতের কথাটা খুব বেশি বলেছেন।’

কবরী আপু আমাকে সব সময় একটা কথা বলতেন সেটা হলো- ‘শোনো মেয়ে- তুমি কখনো নিজেকে নায়িকা ভাববে না। তোমার প্রত্যেক আর্টিস্ট, কো-আর্টিস্টকে একটা টিম ভাববে। কারণ তুমি একা ভালো অভিনয় করে গেলে হবে না। তোমার টিমের সবাইকে ভালো করতে হবে। আর সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। তবেই ভালো কিছু সম্ভব।’

কবরীর সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রথমদিনের কথা শেয়ার করে সোহানা সাবা বলেন, “কবরী আপুর সঙ্গে দেখা হওয়ার দিনটি আমার জীবনটা বদলে দিয়েছে। ওইদিন রাজধানীর মগবাজারে গিয়েছিলাম অন্য একটি কাজে। সেই সিনেমা করার কোন চিন্তা আমার মাথায় ছিলো না। তখন একজন পরিচালক সাচ্চু ভাইয়ের সাথে কানেক্ট করে দিয়ে বললেন তিনি কবরী আপুর বাসায় যাচ্ছেন তুমি তার সাথে যোগাযোগ করো। এরপর দুই গাড়ি ভরা অনেকগুলো মেয়ে কবরী আপুর অফিসে যাই। তবে আমার মধ্যে একটা অনীহা কাজ করছিলো। কিন্তু ওখানে দিয়ে কবরী আপুকে দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। গোলাপি রংয়ের সুন্দর ড্রেস পড়া। তখন আমি ভাবছিলাম এমন একজন মানুষকেই আমি মনে মনে খুঁজছি।”

‘তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের দিনটিই আমাকে বদলে দিয়েছে’

সোহানা সাবার কথায়, “একদিন হঠাৎ করেই আপু আমাকে বললেন- শোনো মেয়ে, এই পেপারসে (আয়না ছবি) সাইন করো। তখন তো আমি আত্মহারা। এরপর আমি যখন ‘আয়না’ ছবির গল্প শুনি তখন অনেকই আমাকে বলেছিলো ওই ছবিতে কাজ না করতে বলেছিলো কিন্তু আমি শুধু কবরী আপুর দিকে তাকিয়েই ওই ছবিতে কাজ করেছি। দেড় মাসে কবরী আপু আমাকে প্রায়ই ডাকতেন। এরপর স্ক্রিপ্ট পড়াতেন। আজকে তার কথা ভাবতে আমার অবাক লাগে। কারণ অভিনয়ের প্রত্যেকটি বিষয় আমি তার কাছ থেকে শিখেছি।”

প্রথমে ‘আয়না’ ছবির শুটিং হয়েছিলো গ্রামের চিত্র দিয়ে। এজন্য আমারা সেখানে (পুবাইল) ৮দিন শুটিং করেছি। এই ছবিতে সুভাস দত্ত আমার বাবার চত্রিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সব থেকে মজার বিষয় হলো ‘সুতরাং’ ছবি দিয়ে অভিনয় শুরু করেছিলেন কবরী আপু। সেই ছবির পরিচালক ছিলেন সুভাস দত্ত দা। আমার প্রথম ছবিতেই আমি তাকে আমার বাবার চরিত্র পাচ্ছি। সেদিক থেকে এটি আমার জন্য ঐতিহাসিক ব্যাপার।

এই ছবির একটি গান ছিলো ‘তুমি আসবে বলে’ গান আছে। সেই গানটি কবরী আপুর প্রথম ছবি ‘সুতরাং’ থেকে নেওয়া। এই ছবিতে অনেকগুলো ঐতিহাসিক পার্ট আছে। কবরী আপু আমাকে সেই সুযোগটা দিয়েছেন। আমি সত্যিই অনেক ভাগ্যবতী যে আমি একজন কিংবদন্তীর সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি।’খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *