শিরোনাম

যৌন নিপীড়নবিরোধী দিবস আজ কঠোর আইনের পরও নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে না

বিশেষ প্রতিবেদক ।

কঠোর আইন, প্রচার-প্রচারণা ও উচ্চ আদালতের নানা ধরনের নির্দেশনার পরও নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে না।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

প্রতিদিন নানাভাবে নানা বয়সের নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা ও বাল্যবিয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। পুলিশের হিসাব মতে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ২০ হাজার ৭১৩ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬ হাজার ৯০০ জন নারী। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১২ মাসে ধর্ষণের শিকার হন ৬ হাজার ৭০০ জন।

নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় শুধু একটি সংখ্যা হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন আইন ও শালিস কেন্দ্রের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর নীনা গোস্বামী। তিনি বলেন, ‘লকডাউনের সময় তাদের পর্যবেক্ষণ মতে, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় নারীর প্রতি যৌন নির্যাতন বেড়েছে। এসব মামলার অপরাধী শেষ পর্যন্ত শাস্তি পায় না। এমনই এক পরিস্থিতিতে আজ ৪ মার্চ পালিত হচ্ছে বিশ্ব যৌন নিপীড়নবিরোধী দিবস।’

করোনাকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) কয়েক দফা জরিপ করে জানায়, প্র্রত্যেক দফায় এমন অনেক নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যারা আগে কখনো নির্যাতনের শিকার হয়নি। তাদের প্রথম জরিপ করা হয় গত বছরের এপ্রিল মাসে। ২৪টি সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে ২৭ জেলার ৫৮ উপজেলার ৬০২টি গ্রাম ও চারটি সিটি করপোরেশনের ১৭ হাজার ২০৩ জন নারী ও শিশুর সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে স্বামীর হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৪৮ নারী, মানসিক নির্যাতনের শিকার ২ হাজার ৮, যৌন নির্যাতনের শিকার ৮৫ জন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৩০৮ জন নারী। এর বাইরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন চার জন নারী, হত্যা করা হয়েছে এক জনকে এবং যৌন হয়রানি করা হয়েছে ২০ জন নারীকে।

মে মাসে দেশের ৫৩ জেলায় ১৩ হাজার ৪৯৪ জন নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে। ১১ হাজার ২৫ জন, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ঘটেছে স্বামীর হাতে। ৫৩ হাজার ৩৪০ জন নারী ও শিশুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘এ সময় শিশু ও প্রতিবন্ধী নারীও নির্যাতনের শিকার হয়। দুর্বল ও অপ্রকৃতিস্থ কেউ বাদ পরেনি নির্যাতনের হাত থেকে। দেশব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনও বেড়েছে। সেই সঙ্গে আছে নাগরিক সমাজ, সরকার ও তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের বিভিন্ন কার্যক্রম। ’

বর্তমান সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়ে মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান করি। স্বামীকে বেঁধে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণ, শিশু সন্তানের সামনে মাকে বিবস্ত্র করা এমন ঘটনাগুলো আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। আমরা কি এগিয়ে যাচ্ছি না কি পিছিয়ে যাচ্ছি। সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন, বিশেষ করে ধর্ষণ মূল সমস্যা। ধর্ষণের শিকার নারীর বিচার প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। শাস্তি বাড়ালেই হবে না। তা বাস্তবায়ন করতে হবে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *