শিরোনাম

কবর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদন!

বিশেষ প্রতিবেদক ।

মৃত মুক্তিযোদ্ধারা লিখিত আবেদন করেছেন! তাদের গেজেট নম্বর ও স্বাক্ষর দেওয়া একটি অভিযোগপত্র জমা পড়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

নারায়ণগঞ্জে চার সদস্যবিশিষ্ট বেসামরিক গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে মৃত মুক্তিযোদ্ধারা লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভারতীয় তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে আট জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট নম্বর ও স্বাক্ষর জাল করে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

সোনারগাঁও উপজেলায় বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য এ ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার মোহাম্মদ আলী বলেন, মৃত মুক্তিযোদ্ধারা কীভাবে এই লিখিত অভিযোগ করতে পারেন—তা আমার বোধগম্য নয়। মৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম, গেজেট নম্বর ও স্বাক্ষর জাল করে জেলা প্রশাসনে আবেদন করার ঘটনাটি সত্যি। এ ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করছি।

সূত্র জানায়, পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান ভুইয়া। তার গেজেট নম্বর-৬৭১। তার বাড়ি জামপুর ইউনিয়নের মিরেরবাগ গ্রামে। মৃত সোলায়মান ভুইয়ার ৬৭১ নম্বর গেজেটের নম্বরটি সোলায়মান মুন্সি নামের এক জনের নামের পাশে ব্যবহার করা হয়েছে। ৪৫ বছর আগে মারা যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মীরের গেজেট নম্বর-৭২৯। আবুল কাসেম নামে স্বাক্ষর করা এক জনের নামের পাশে ব্যবহার করা হয়েছে মৃত মোস্তফা মীরের গেজেট নম্বরটি। সাত বছর আগে মারা গেছেন মো. সামসুল হক। তার গেজেট নম্বর ৫৬২। মৃত সামসুল হকের গেজেট নম্বরটি মো. সৈয়দ হোসেনের স্বাক্ষর করা নামের পাশে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০ বছর আগে মারা গেছেন আবদুল লফিত। তার গেজেট নম্বর ৭২৩। মৃত আবদুল লতিফের গেজেট নম্বরটি ব্যবহার করে স্বাক্ষর করেছেন গোলাম মোস্তফা। এক মাস আগে মারা গেছেন মতিউর রহমান। তার গেজেট নম্বর ৭২৫। তিনি মারা যাওয়ার পরও অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন এমনটাই আবেদনে উল্লেখ আছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের একটি সূত্র জানায়, বেসামরিক গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগে মৃত মুক্তিযোদ্ধারা যাচাই-বাছাই কমিটিতে আলতাফ হোসেন ও অ্যাডভোকেট সফিউদ্দিন ভুঁইয়াকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার সোহেল রানা বলেন, মৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম, গেজেট নম্বর ও স্বাক্ষর জাল করে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে একটি চক্র। তদন্ত কমিটি গঠন করে এদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হোক।

সোনারগাঁও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গনি বলেন, চিহ্নিত চক্রটি বারবার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি করার জন্য এই ধরনের জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *