শিরোনাম

এক সতিনকে জেতাতে মাঠে তিন সতিন!


বগুড়া প্রতিবেদক ।

সতিনে সতিনে সংসারে ঝগড়া লেগে থাকার ঘটনা দেখা গেলেও ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে। এক সতিনের জন্য তিন সতিন মাঠে নেমেছেন ভোট চাওয়ার জন্য। বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মাজেদা বেগম প্রার্থী হয়েছেন।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

শিবগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ মাস্টার। তার চার স্ত্রীর মধ্যে তিন স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মেজো স্ত্রীর জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন তিনি। আর সতিনের জন্য ভোট চাইছেন তিন স্ত্রী। এদিকে তিন সতিন একই সঙ্গে ভোট চাওয়ায় বিষয়টি ভোটারদের মধ্যেও বেশ আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক জন ভোটার বলেন, বর্তমান সময়ে যখন সতিনদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত হয় না, তখন এক সতিনের জয়ের জন্য আরও তিন সতিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভোট চাওয়ার বিষয়টি একটি ভালো দৃষ্টান্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভা নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই পৌর এলাকার বন্তেঘরী মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুস সামাদ তার স্ত্রীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। যে কোনো এক স্ত্রীকে দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী করার প্রস্তাব তোলেন। পরে সিদ্ধান্ত হয় সামাদের তৃতীয় স্ত্রী মাজেদা বেগমই হবেন সেই প্রার্থী। এর পর সিদ্ধান্ত হয়, জয় পেতে তিন সতিন একসঙ্গে ভোটারের কাছে গিয়ে ভোট চাইবেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাজেদা বেগম ২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ড থেকে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রতিদিন ভোরে তারা তিন সতিন মিনু বেগম, রেনু বেগম ও মাজেদা বেগম স্বামী আব্দুস সামাদকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় বের হন। গভীর রাত পর্যন্ত জয়ের আশায় ওয়ার্ডের এ-বাড়ি থেকে ও-বাড়ি ক্লান্তিহীনভাবে ছুটে বেড়াচ্ছেন। বন্তেঘরী গ্রামের ভোটার ফজলুর রহমান (৪৫) বলেন, ‘সতিন মানেই যে খারাপ কিছু নয় তা আব্দুস সামাদের স্ত্রীরা প্রমাণ করেছেন। তাদের এই তিন সতিনের প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে আলাদা একটা উত্সাহ নিয়ে এসেছে। মাজেদা বেগম এখন এ পৌরসভার আলোচিত প্রার্থী।’ মিনু বেগম বলেন, ‘আমাদের আলাদা আলাদা হাঁড়ি। কিন্তু সবাই আপন বোনের মতো। শুধু ভোট নয়, সুখে-দুখে আমরা একে অন্যের পাশে দাঁড়াই।’

মাজেদা বেগম বলেন, ‘সতিন মানেই মনে করা হয় শত্রু। কিন্তু আমি ভাগ্যবান। সতিনরা আমার কাছে বোনের মতো। অতি আপনজন। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এলাকায় নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখব।’ আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমার স্ত্রীদের নিয়ে আমি খুশি। তারা সব সমস্যাকে মিলেমিশে মানিয়ে নিতে পারে। আর তাদের এই মধুর সম্পর্কের কথা ভোটাররা জানতে পেরে সবাই অনেক খুশি।’

আব্দুস সামাদের চার স্ত্রী। এর মধ্যে বড় স্ত্রী সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করার জন্য নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না। তবে এতে তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং তিনি ছুটির দিনে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি নির্বাচনি প্রচারে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করছেন। মাজেদা বেগম বর্তমানেও ঐ সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *