শিরোনাম

তদন্ত স্থগিতের ঘোষণায় শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক ।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে শেয়ার মূল্যের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের তদন্ত স্থগিত করার ঘোষণায় গতকাল বৃস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে এক দিনে ডিএসইর বাজার মূলধন ১১ হাজার কোটি টাকার ওপর বেড়েছে। যার মাধ্যমে ৫ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড মাইলফলক স্পর্শ করেছে ডিএসইর বাজার মূলধন। পাশাপাশি ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা, যা আগের দিন ছিল ৪ লাখ ৯০ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। এর আগে গত মঙ্গলবার বিএসইসি থেকে যেসব কোম্পানির শেয়ার দাম ৫০ শতাংশের ওপরে বেড়েছে বা কমেছে তার কারণ তদন্তের জন্য দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে গত বুধবার দেশের শেয়ারবাজারে ধস নামে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৯১ পয়েন্ট পড়ে যায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে গত বুধবার বিকেলে তদন্তের নির্দেশ স্থগিত করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যার সুফল বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই দেখা যায়। লেনদেন শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স ১০৮ পয়েন্ট বেড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সূচকের উত্থান প্রবণতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সূচকটি ১৭২ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে লেনদেনের শেষ দিকে সূচকের উত্থান প্রবণতা কিছুটা কমে।

গতকাল দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ১৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯০৯ পয়েন্টে উঠেছে। এর মাধ্যমে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির পর সূচকটি সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি সূচকটি ৫ হাজার ৯২৪ পয়েন্টে ছিল।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বড় উত্থান হয়েছে ডিএসইর অপর দুই সূচকের। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৭৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৩টির। ৭০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মূল্যসূচক ও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। অবশ্য লেনদেন ২ হাজার কোটি টাকার ওপরে হয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৭০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ২ হাজার ১০৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে ৩৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১৮৪ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার ১২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৯৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রবি। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইতে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সামিট পাওয়ার, লাফার্জহোলসিম, আইএফআইসি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পাওয়ার গ্রিড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪২২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৭টির এবং ৪২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *