শিরোনাম

বিএনপি নেতার ছেলের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদের’ প্রমাণ পায়নি ভারতীয় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ।

বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ছেলের বিরুদ্ধে ভারতের চেন্নাইয়ের এক ব্যবসায়ী কথিত ‘লাভ জিহাদের’ যে অভিযোগে মামলা করেছিলেন তার সত্যতা খুঁজে পায়নি দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

গত মে মাসে ওই ব্যবসায়ী দাবি করেন, তার মেয়েকে ‘লন্ডনে অপহরণ করে ধর্মান্তরের’ মাধ্যমে বিয়ে করেছেন বকুলের ছেলে নাফিজ। এই ঘটনায় ভারতের কট্টর হিন্দুরা মেয়ের বাবার সঙ্গে সুর মিলিয়ে ‘লাভ জিহাদের’ অভিযোগ তোলেন। কিন্তু গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র উদ্ধৃত করে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ বুধবার জানিয়েছে, এই ঘটনায় লাভ জিহাদের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

চেন্নাইয়ের ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে বকুলের ছেলের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয় গত মে মাসে।

টাইমস নাউ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চেন্নাইয়ের ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে বকুলের ছেলের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়েরের পরে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্তভার দেওয়া হয় এনআইএ-এর হাতে।

মামলায় বলা হয়েছে, চেন্নাইয়ের ওই ব্যবসায়ীর মেয়ে লন্ডনে পড়তে গিয়ে উগ্রপন্থী একটি গ্রুপের চক্করে পড়েন। যে গ্রুপে বাংলাদেশিরাও আছেন।

টাইমস নাউ নিউজ লিখেছে, বিএনপির সাবেক এমপি বকুলের ছেলে সরকার নাফিজ ভারতীয় ওই ব্যবসায়ীর মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন এবং তাকে ‘ধর্মান্তরে বাধ্য করে অপহরণ’ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। আর ওই উগ্রপন্থী গ্রুপটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আন্তর্জাতিক সর্ব জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা জাকির নায়েককেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় ষড়যন্ত্র, অপহরণ, মানব পাচার, যৌন অসদাচরণ, আটকে রাখা এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি তামিল নাড়ু পুলিশ এনআইএ-কে তদন্তের ভার দেয়।

এরপর ভারতীয় কর্মকর্তারা মেয়েটির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। তিনি জানিয়ে দেন, নিজের ইচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়ে বাংলাদেশি মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনআইয়ের এক অফিসার টাইমসকে বলেছেন, ‘খুব সুখে আছেন বলে মেয়েটি আমাদের জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তাকে কোনো ধরনের চাপ দেওয়া হয়নি।’ তদন্ত শেষ হয়েছে জানিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, খুব দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

ছেলের নামে মামলা হওয়ার পর বকুল বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, অপহরণের অভিযোগটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে তথ্য দিয়েছে, তাও মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক। আমার ছেলে যুক্তরাজ্যে ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল)’ এ পড়ত। সেখানে কৃতিত্বের সঙ্গে মাস্টার্স পাস করেছে। আমার ছেলে ও আমার পুত্রবধূ একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। তারা বুঝে-শুনে বিয়ে করেছে। ব্রিটেনের বার্মিংহাম পুলিশ এই বিষয়টি জানে।

তিনি আরো বলেন, আমার পুত্রবধূ ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসটিংশনসহ মাস্টার্স পাস করেছে। সে কারও প্ররোচনা ব্যতীত সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় সুস্থ মস্তিষ্কে আমার ছেলেকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে উভয়ের ইচ্ছায় তাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর পুত্রবধূর পরিবারের সদস্যরা নিমন্ত্রণ রক্ষায় ঢাকায় এসেছিলেন।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *