শিরোনাম

সাইবার বুলিং বাড়ছে

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক।

দেশে সাইবার বুলিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই সাইবার অপরাধের যারা শিকার হচ্ছেন তাদের অধিকাংশই নারী। সিআইডির সদর দপ্তর সূত্র বলছে, চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সাইবার পুলিশ সেন্টারের ফেসবুক পেজে ১৭ হাজার ৭০৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এছাড়া এ বছর ফোনে অভিযোগ করেছেন ৩৮ হাজার ৬১০ জন ভুক্তভোগী। এর মধ্যে হয়রানির অভিযোগ ৩৬৫টি। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৮২টি। মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১১৮টি। বাকিগুলোর তদন্ত চলছে। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, দুদিন আগে ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন (পিসিএসডব্লিউ)’ ফেসবুক পেজ চালু করেছে সংস্থাটি। চালু হওয়ার দুই দিনেই ৬৯১টি অভিযোগ এসেছে। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ৬৮ শতাংশ নারী সাইবার স্পেসে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া এসব নারীর প্রায় সবাই তরুণী। ১৪ থেকে ২৩ বছর বয়সি এসব নারীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ ঘটনাই ঘটছে সম্পর্কের টানাপড়েনের জের ধরে। সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের মধ্যে পর্নোগ্রাফি, ব্ল্যাকমেইল, ফেসবুক আইডি হ্যাক, অর্থ আদায় এবং হত্যার হুমকি উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, তুচ্ছ ঘটনায় সম্পর্ক নষ্ট করা, ডিজিটাল প্ল্যাটফরম সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় এসব ঘটনা বারবার ঘটছে। তবে শুধু আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই এ ধরনের অনেক ঘটনা কমে যাবে বলে মনে করেন তারা।

সম্প্রতি মোহাম্মদ ইয়াসিন রাতুল নামের এক তরুণকে গ্রেফতার করে সিআইডি। অন্তত ২০ জন তরুণীর সঙ্গে প্রেমের নামে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে ভিডিও ধারণ করেছে সে। ঐসব ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আত্মসাত্ করে আবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্যও করেছে সে। সিআইডি জানায়, সর্বশেষ ছয় মাস আগে রাতুলের সঙ্গে রাজধানীর এক তরুণীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একদিন তারা তিন বন্ধু মিলে রাতুলের সঙ্গে লঞ্চে চাঁদপুর ঘুরতেও যান। সেখানে তার অজান্তে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে রাতুল। লঞ্চ থেকে নামার পর তার মোবাইল ফোনটি কথা বলার জন্য চেয়ে নেয়। এরপর পালিয়ে যায়। ঐ দিন থেকেই তাকে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করতে থাকে রাতুল। তরুণীর অভিযোগ পেয়ে গত সোমবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা থেকে সিআইডির সাইবার টিমের সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে।

সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, রাতুলের সম্পর্কে আরো দুই তরুণী অভিযোগ করেছেন। তাদেরকেও প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভিডিও ধারণ করে প্রতারণা করেছে রাতুল। সব মিলিয়ে তার হাতে প্রতারিত হয়েছেন প্রায় ২০ তরুণী।

সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, রাতুলের মতো এমন অনেককেই তারা আইনের আওতায় এনেছেন। অপরাধের গুরুত্ব বুঝে মামলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের মতে, সিআইডির কাছে যতগুলো অভিযোগ এসেছে, তার অধিকাংশই প্রেমঘটিত সাইবার ক্রাইম। এসব ক্ষেত্রে তরুণীদের আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, সাইবার ক্রাইম যে পর্যায়ে চলে গেছে, এখন লজ্জা আর ভয় পেলে চলবে না। ভুক্তভোগীদের অনুরোধ করব, সাইবার স্পেসে হয়রানির শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত সাইবার অ্যাক্টে ৬ হাজার ১০০ মামলা হয়েছে। এই অপরাধগুলো নিয়ে ডিএমপি, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই কাজ করছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *