শিরোনাম

দেশে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক

বিশেষ প্রতিবেদক ।

দেশে মানব মৃত্যু দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো স্ট্রোক। আর পঙ্গু হওয়ার ক্ষেত্রে স্ট্রোকের অবস্থান এক নম্বরে। বর্তমানে স্ট্রোকজনিত মৃত্যু শুধু জাতীয় সমস্যা নয়; বিশ্বজনীন সমস্যা। স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতি মিনিটে চার জন আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ। আর সরকারি হাসপাতালে যত রোগী মারা যায় তার ২০ শতাংশই স্ট্রোক রোগী।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

২০১৯ সালে ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্বে প্রতি ২ সেকেন্ডে ১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং প্রতি ৪ সেকেন্ডে ১ জন মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্ব জুড়ে স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮ কোটির বেশি, এর মধ্যে স্থায়ীভাবে নিস্ক্রিয় অথবা পঙ্গুত্ব হয়ে বেঁচে আছেন প্রায় ৫ কোটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালিত হয়। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে দিনব্যাপী সভা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারের মধ্যে এই দিবসটি পালন করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের যৌথ সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি ১ হাজার জনের মধ্যে ১১ দশমিক ৩৯ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মূলত ৪০ বা তার বেশি বয়স্ক মানুষদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক বেশি। স্ট্রোকের ঝুঁকির জন্য বেশি দায়ী উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ধূপমান। বিখ্যাত গবেষণাপত্র ল্যানসেটের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ২১ শতাংশ মানুষ ধূপমানে অভ্যস্ত। প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এছাড়া গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এখন অনেক বেশি। তাই বাংলাদেশের স্ট্রোকের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষ স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেন।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক, প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ বলেন, ৬০ বছরের বেশি বয়সিদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, কোলেস্টেরল বেশি, ডায়াবেটিস, খাদ্যাভাস (ফাস্ট ফুড, রেড মিট, অ্যালকোহল), বংশগত কারণে (বাবা-মার হলে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে) স্ট্রোক হতে পারে। তিনি বলেন, স্ট্রোকের রোগীদের ৬০ ভাগ সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে পারে। ২০ ভাগ মারা যায়। ২০ ভাগ পঙ্গু হয়ে জীবন-যাপন করে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আমল বলেন, আধুনিক বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও বিশ্বমানের স্ট্রোকের চিকিত্সা আছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ১০০ বেডের স্ট্রোক ইউনিট রয়েছে। সারা বিশ্বের উন্নত দেশে যে চিকিত্সাব্যবস্থা তার সব কিছু এখানে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই ইউনিট চালু হয়েছে। তিনি বলেন, ইসকেমিক স্ট্রোক বা রক্তনালী বন্ধ হয়ে গিয়ে যে স্ট্রোক হয় তার জন্য পুরো বিশ্বে প্রচলিত থ্রম্বোলাইসিস চিকিত্সা এখন বাংলাদেশেও বিদ্যমান। মাথায় রক্ত জমাট বাধা রোগীরা আক্রান্ত হওয়ার পর তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আসলে একটা ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতে স্বাভাবিক হয়ে বাসায় ফিরে যেতে পারে রোগী।

স্ট্রোকের লক্ষণ ও প্রতিকার

যদি কারও শরীরের এক দিকে অবশ বোধ হয় তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যদি এক হাত অন্য হাতের চেয়ে দুর্বল লাগে এবং কথা বলতে আড়ষ্ঠতা বোধ হয় তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে হঠাত্ করে শরীর ভারসাম্যহীন হয়। হাঁটতে গেলে পড়ে যায়। হঠাত্ করে তীব্র মাথাব্যথা দেখা দেয়। স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে যদি জরুরি ভিত্তিতে চিকিত্সা করানো যায় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। তারা বলেন, স্ট্রোক প্রতিরোধের আরেকটা উপায় হলো ওষুধের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা। সেসঙ্গে ওজন কমানো, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ত্যাগ করা।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *