শিরোনাম

নারী ফুটবলকে ছড়িয়ে দিতে হবে : গোলাম রাব্বানী ছোটন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ।

এএফসি অনূর্ধ্ব ১৭ ও ২০ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্বকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নারী ফুটবলাররা। নিবিড় পর্যবেক্ষণের গুরুদায়িত্বটা কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের কাঁধে। তারই এক ফাঁকে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশ নারী দলের কোচ। করোনাসৃষ্ট জটিলতা, দলের বর্তমান চ্যালেঞ্জ থেকে শুরু করে কথা বললেন ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়েও।

প্রায় ছয় মাসের বিরতির পর অনুশীলনে ফিরলেন ফুটবলাররা। ফিটনেস কেমন দেখলেন?

ছয় মাসে ফিটনেস তো ঠিক থাকার কথা না। আমরা এ সময়ে অবশ্য আমাদের চেষ্টাটা করে গেছি। কিছু কাজে তাদের ব্যস্ত রাখতে চেয়েছি, যেন ক্যাম্পে ফিরলে সে মানের সঙ্গে তারা মানিয়ে নিতে পারে। আমি মনে করি এ লক্ষ্যে আমরা সফল হয়েছি। মেয়েরা ক্যাম্পে এসেছে আমাদের প্রত্যাশিত ফিটনেস নিয়েই।

এএফসি বাছাইপর্বের আগে সময় পাচ্ছেন পাঁচ মাস। দীর্ঘ বিরতির পর এর প্রস্তুতির জন্যে পাঁচ মাস সময় কি কম হয়ে যাচ্ছে?

মেয়েদেরকে তিন দিন ধরে অনুশীলনে দেখছি। যে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করেছে, সেটা ধরে রেখে অ্যাক্টিভ থাকলে এ সময়ের মধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।

অনুশীলনে ফেরার পরে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা কী?

প্রথমত ফিটনেস ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরে টেকনিক্যাল-ট্যাকটিকাল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানসিক দিক। সবকিছুই তাই বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে অপেক্ষা করছে।

ম্যাচ অনুশীলনের কথা ভাবছেন কি?

অনুশীলন নিয়ে এগোচ্ছি আপাতত। ছয় সপ্তাহ আগে শারীরিক ফিটনেসের ওপর জোর দেব, তারপরে ম্যাচের দিকে ফিরব। সামনে দুটো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট আছে আমাদের। তার আগে ম্যাচ না খেলার ঘাটতিটা পুষিয়ে নিতে হবে।

বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে যে খেলোয়াড়দের শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে বয়সভিত্তিক দলে, সেটা কি পূরণ হচ্ছে?

গেল বছর ভুটানে যে অনূর্ধ্ব ১৭ দলটা খেলল, তার ১০ জনই এবার দলে নেই এ কারণেই। অনূর্ধ্ব ২০ দল থেকেও কৃষ্ণা, মৌসুমি, স্বপ্না, নার্গিস, রাজিয়া, শিউলিদের মতো ১০ জন বয়সের কারণে নেই। এটাই প্রক্রিয়া, কেউ যাবে তার জায়গা কেউ পূরণ করবে। প্রতিভাদেরকে পরিচর্যা করে উপযুক্ত করাটাই তো আমাদের কাজ!

বয়সভিত্তিক পর্যায়ে পাওয়া সাফল্য, যেমন সাফ অনূর্ধ্ব ১৫, ১৭ এর সাফল্যগুলো সিনিয়র পর্যায়ে কেন টেনে আনতে পারা যাচ্ছে না?

এখানে বাস্তবতাটা দেখতে হবে। ১৫ বছর বয়সি আপনি যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন ১৮ বছর বয়সির সঙ্গে তখনো তো পেরে ওঠা কঠিন। আমাদের মেয়েদের গড় বয়স ছিল ১৮ এর আশেপাশে। এই বয়স নিয়ে বালাদেবীদের (ভারতের) মতো খেলোয়াড় যারা প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলেই আছে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে, তাদের বিপক্ষে খেলা, জেতাটা তো সহজ কাজ নয়!

তবে অবস্থা পালটাচ্ছে। যারা এবার অনূর্ধ্ব ২০ থেকে বিদায় নিল, তারা সিনিয়র পর্যায়ে চলে আসছে। মারিয়াদের ব্যাচটা অনূর্ধ্ব ২০ এ এসেছে। এক বছর পরে তারাও সিনিয়র পর্যায়ে আসবে। এদের গড় বয়স ২২-২৫ হলে তখন ফলাফল আসতে শুরু করবে।

দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনাটা কেমন হওয়া উচিত?

নারী ফুটবলকে আরো ছড়িয়ে দিতে হবে। লিগের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও বয়সভিত্তিক লিগ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পুরো দেশেই খেলোয়াড় আছে, সারা বছর ফুটবলে থাকা নিশ্চিত করলে ফুটবলার উঠে আসার হারটা আরো বাড়বে, যাতে লাভটা বাংলাদেশ ফুটবলেরই হবে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *