শিরোনাম

কুমিল্লায় কিশোরীর শরীরে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ

কুমিল্লা অফিস । ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি

কুমিল্লায় ১৩ বছরের এক কিশোরীর শরীর এসিড নিক্ষেপে ঝলসে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

প্রেমের টানাপোড়েনের জেরে তাকে এসিড নিক্ষেপ করে হারুন নামের এক যুবক। হারুন এসিড নিক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করে রবিবার কুমিল্লার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া নোয়াপাড়া গ্রামে বাগড়া-কুমিল্লা সড়কের পূর্ব পাশের মো. হোসেন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের মোখলেছ মিয়া ও তার পরিবার। গত বৃহস্পতিবার রাতে মোখলেছ মিয়া, তার স্ত্রী, ১৩ বছরের মেয়ে মনি আক্তার ও ছোট ছেলেকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে মনিকে দুর্বৃত্তরা জানালা দিয়ে এসিড নিক্ষেপ করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। এসময় তাদের সহযোগিতায় মনিকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিশোরীর বাবা মোখলেছ মিয়া জানান, আমি রঙ মিস্ত্রির কাজ করি। পেশাগত কারণে পারিবারিকভাবে চট্টগ্রামে ছিলাম। সেখানে থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকার রঙ মিস্ত্রি হারুনের (২৬) পরিবারের সাথে আমাদের ঘনিষ্টতা বাড়ে। পরে আমি পরিবার নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়ার বাগড়া নোয়াপাড়া গ্রামে চলে আসার পর হারুনও ওই এলাকায় এসে বাসা ভাড়া নিয়ে রঙ মিস্ত্রির কাজ করতো। বিভিন্ন সময়ে সে তার মেয়ে মনিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু এতে সে সাড়া না দেয়ায় এসিড নিক্ষেপ করে আমার মেয়েকে হত্যার চেষ্টা করে। এদিকে হারুন আহত মনিকে দেখতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে শনিবার রাতে পুলিশের হাতে ধরা পরে।

কুমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. মির্জা তাইয়্যেবুল ইসলাম বলেন, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে এসিডে পড়েছে। ঝলসে গেছে ৪৫ থেকে ৫০ ভাগ। গভীর ক্ষতও রয়েছে। এই ধরনের রোগী কুমিল্লায় রাখা হয় না। কারণ সে ধরনের সাপোর্ট এখানে নেই। তবে তার বয়স কম হওয়ায় সে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে বলে আশা করছি। চিকিৎসা চলছে।

এসিড দগ্ধদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন এইড কুমিল্লার নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, আমরা তার খোঁজ খবর নিয়েছি। সরেজমিন গিয়ে তার পাশে দাঁড়াবো।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, ‘এ ঘটনায় হারুনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর রবিবার আদালতে প্রেরণ করা হলে সে (হারুন) মনির সাথে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে এসিড ছুড়েছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।’খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *