শিরোনাম

গণফোরাম দুই ভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ।

পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার আর বাহাসের পর শেষ পর্যন্ত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়লো প্রবীণ রাজনীতিক ড. কামাল হোসেনের প্রতিষ্ঠিত ২৭ বছর বয়সী গণফোরাম। করোনার সংক্রমণের মধ্যেই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বর্ধিত সভা শেষে নিজেদের পৃথক অবস্থান ঘোষণা করলেন দলটির তিন নেতা- সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মণ্টু এবং সাবেক দুই নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

গণফোরামের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়াসহ চারজনকে বহিষ্কার করে আগামী ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। কাউন্সিল সফল করতে মণ্টুকে আহ্বায়ক করে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন বর্ধিত সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘বাহবা বাহ্। ভালোই তো। সম্পূর্ণ ভুয়া। গণফোরামের কোনো বর্ধিত সভা হয়নি। যারা সভা করেছেন তারা গণফোরামের কেউ না। দেখি তারা কী করতে পারেন।’

আর ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘এর আগেও তারা আমাকে বহিষ্কার করেছিলেন। একটা মানুষকে কতবার বহিষ্কার করা যায়! দলের সভাপতি হিসেবে ড. কামাল হোসেনের ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার অনুমতি ছাড়া তো অন্য কেউ বর্ধিত সভা ডাকতে পারেন না। এখন মানুষ যদি তাদেরকে মেনে নেন, তাদের নেতৃত্ব মানেন- তাহলে তো কিছু করার নেই। এটাকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বলা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাপারটা খুব সিম্পল, তারা নিজেরাই নিজেদেরকে দল থেকে সরিয়ে নিলেন, তারা এখন আর এদলের সাধারণ সদস্যও নন। যা হয়েছে ভালোই হলো। দল থেকে বিরাট বোঝা সরে গেল, আলহামদুলিল্লাহ।’

বর্ধিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন- দলকে শক্তিশালী, গণমুখী এবং তৃণমূলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিল হবে। দলের সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক বর্ধিত সভার সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, ‘সংগঠনের শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্র অমান্য করে দলের ঐক্য ও স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহসীন রশিদ, আ ও ম শফিকউল্লাহ ও মোশতাক আহমেদকে সাধারণ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি আবু সাইয়িদের সভাপতিত্বে এই বর্ধিত সভায় ৫২টি জেলার ২৮৩ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন জানান সুব্রত চৌধুরী। বর্ধিত সভার মূল মঞ্চে ছিলেন মোস্তফা মহসিন মণ্টু, সুব্রত চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, আসাদুজ্জামান, খান সিদ্দিকুর রহমান, আবদুর রায়হান, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, ফজলুল হক সরকার এবং এম এ মতিন।

সংবাদ সম্মেলনে মণ্টু বলেন, আমাদের ধারণা কামাল হোসেনের স্মৃতি বিভ্রাট ঘটছে। আমরা উনাকে বারবার বলেছি, কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং ডেকে সম্মেলনের তারিখটা নির্ধারণ করেন। চিঠি দিয়েও বলেছি। তখন তিনি বলেছিলেন- বসেন। তারপরে বলেন যে- না, এরকম কোনো কথা আমি বলিনি। আমার মনে হয়, হয়তো উনি কিছু জিনিস ভুলে যান। স্মৃতি বিভ্রাট ঘটছে আর কী। তাছাড়া ওদের একটা অশুভ প্রভাব আছে, যে প্রভাবে উনি অনেক কিছু গুলিয়ে ফেলেন।

দল তাহলে ভেঙে গেল কি-না, প্রশ্ন করা হলে মণ্টু বলেন, এখনও আমরা আশা করি, সংগঠন এক থাকবে। কামাল হোসেন কী আপনাদের সাথে আছেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই মনে করি উনি আছেন। উনাকে এই সভা থেকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনি যেসব লোক বিতর্কিত তাদের পরিহার করুন এবং মাটির সাথে যাদের সম্পর্ক আছে, রাজনীতি করছেন তাদের সাথে নিয়ে এগিয়ে যান। কামাল হোসেনের সাড়া না পেলে কাউন্সিলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। কাউন্সিলে তাদের মতামত সাপেক্ষে উনার ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে রয়েছে গণফোরাম। তবে গণফোরামের এই অংশ ওই জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে দ্বিধান্বিত। জোটের বিষয়ে মণ্টু বলেন, সেই ঐক্য এখনও ভাঙা হয়নি। আমরা জাতীয় সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেব, সেই ঐক্যের ব্যাপারে কী করব।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *