শিরোনাম

কুমিল্লার বিলে বিরল প্রজাতির পদ্মফুলের সমাহার

কুমিল্লা অফিস । বুড়িচং প্রতিনিধি

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার দক্ষিণগ্রাম বিলে (জলাশয়) গোলাপি, সাদা ও নীলের সঙ্গে ফুটেছে হলুদ রঙের পদ্মফুল। এসব পদ্ম দখিনা বাতাসে দোল খাচ্ছে। পদ্ম ফুলের ওপর ওড়াউড়ি করছে নানা প্রজাতির পাখি। পাখিদের কিচিরমিচির আওয়াজে মুগ্ধ শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধরা। তবে এখানকার হলুদ রঙের পদ্মফুল সম্পূর্ণ নতুন ও বিরল একটি প্রজাতি বলে ধারণা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণা দল। তাদের দাবি, গবেষণাগারের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে উদ্ভিদবিজ্ঞানে হলুদ পদ্ম হবে অনন্য সংযোজন।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ‘জলজ ফুলের রাণি’ খ্যাত পদ্ম ফুল জলাশয়ে ভাসছে। দূর থেকে মনে হয়, বিস্তৃত এলাকা জুড়ে যেন রঙের মেলা বসেছে। সেখানে প্রকৃতি তার অপার সৌন্দর্য যেন নিজ হাতে বিলিয়েছে। প্রকৃতি মাঝেমধ্যে তার ভালোবাসা এভাবেই বিলিয়ে দেয়। এখন ঐ জলাশয়ের আশপাশে যেন সেই ভালোবাসারই চাষবাস। নীল আকাশের নিচে দিগন্তজোড়া পদ্মফুলের মেলা দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে নানা বয়সের অনেক প্রকৃতিপ্রেমী পদ্মবিলে ঘুরতে আসছেন, প্রাণের আনন্দে উপভোগ করছেন পদ্মফুলের সৌন্দর্য। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকৃতির আপন খেয়ালে এই জলাশয়ে পদ্মফুলের জন্ম। এবার বেশি ফুল ফুটেছে। অন্তত ১২ একর জায়গা নিয়ে বিস্তীর্ণ জলাশয় যেন রকমারী পদ্মফুলের বিছানা। জলাশয়ে পানি বেশি থাকার কারণে আপন শক্তিতে পদ্মরা বেড়ে উঠেছে। এখানে সাদা আর গোলাপির সঙ্গে ফুটেছে হলুদ বর্ণের নতুন প্রজাতির এক পদ্ম। সেখানে গবেষণার একটি সাইনবোর্ড দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ও বেঙ্গল প্লান্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে নতুন জাতের হলুদ পদ্ম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে।

গবেষকদের মতে, এখানে বিরল প্রজাতির হলুদাভ পদ্মফুল ফুটেছে। বিশ্বের মধ্যে এটা পদ্মের নতুন এক জাত। স্থানীয় কলেজ শিক্ষক হারুন অর-রশিদ বলেন, ‘এই জলাশয়ে অনেক আগে থেকেই পদ্মফুল ফোটে। গত দুই বছরের মধ্যে এবার বেশি ফুল ফুটেছে। বংশবিস্তারও ঘটেছে বেশি। প্রকৃতি যেন সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে উদার হাতে। রাতে পদ্ম ফুলের ওপর পাখিদের ওড়াউড়ি আর কিচিরমিচির শব্দে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।’

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসিল আরেফিন ভূঁইয়া জানান, ‘পদ্ম ফুলের আদিনিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। এই ফুল ফোটে রাতে। ভোর ও সকালের পর রৌদ্র প্রখর হয়ে ওঠার আগ পর্যন্ত প্রস্ফুটিত থাকে। এই ফুল মানবদেহে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে। চুলকানি ও রক্ত আমাশয় নিরাময়ে বেশ উপকারী।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর রাখহরি সরকার জানান, ‘এই পদ্ম নতুন প্রজাতির। বাংলাদেশে এই প্রথম এমন পদ্মফুলের সন্ধান মিলল। পরী¶া-নিরী¶ায় উত্তীর্ণ হলে পদ্মফুলের এই নতুন জাত বাংলাদেশের উদ্ভিদ জগতে নতুন সংযোজন হবে।’ কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, ‘এই বিলের পদ্মফুলের রঙ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এসেছেন। তারা জানিয়েছেন, আমেরিকাতে এমন পদ্মফুল ফোটে। আর বাংলাদেশের এই বিলে রয়েছে এমন পদ্মফুল। বিলটিতে কেউ যেন যত্রতত্র প্রবেশ করে ফুলগুলো নষ্ট না করে সেজন্য প্রশাসনের প¶ থেকে লাল নিশান টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *