df59b7369774f42e96309a764d1c3290-CHOCOLATEttt

নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, প্রতিদিন ১০০ গ্রামের মতো চকলেট খেলে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোক থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে। প্রতীকী ছবি।মায়া সভ্যতায় চকলেটের মূল উপাদান ক্যাকাওকে বলা হতো ঈশ্বরের খাবার! হালের বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রেমে পড়লে মস্তিষ্কে যে রাসায়নিক ছড়ায় চকলেট খেলেও সেই অভিন্ন রাসায়নিকই ছড়ায়। আর এখন নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, প্রতিদিন ১০০ গ্রামের মতো চকলেট খেলে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকজনিত মৃত্যুঝুঁকি কমে। তবে, কম বা বেশি বয়সী, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বা রোগাক্রান্তদের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে চকলেটের প্রতিক্রিয়া কী হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য নেই এই গবেষণায়।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল গ্রুপের ‘হার্ট’ সাময়িকীতে সম্প্রতি প্রকাশিত এই গবেষণা বেশ সাড়া ফেলেছে। ‘ডার্ক চকলেট’ এর কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা অনেক দিন ধরেই আলোচিত হলেও নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে ‘মিল্ক চকলেট’ এর ক্ষেত্রেও প্রায় একইরকম উপকার পাওয়া যায়। এ গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন দুটি চকলেট বার বা ১০০ গ্রামের মতো চকলেট খেলে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়। কিন্তু কেবল চকলেটই কি এই রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম নাকি বয়স এবং শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে? আর সুস্থ সবল মানুষেরা নিয়মিত চকলেট খেতে পারলেও রোগাক্রান্ত, বিশেষত অতিরিক্ত ওজন বা মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছে এমনদের জন্য কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি এই গবেষণায়।

স্কটল্যান্ডের এবারডিন বিশ্ববিদালয়ের গবেষকেরা ১২ বছর ধরে ২১ হাজার মানুষের ওপর চকলেটের প্রতিক্রিয়া নিয়ে এই গবেষণা চালান। ১৯৯০ সালের দিকে নরফোকের ওই মানুষদের স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে কথা বলেন গবেষকেরা। তাঁরা প্রতিদিন কয়টা চকলেট বার বা কয় টুকরা চকলেট খান, কিংবা হট চকলেট খান কি না ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর জানতে চান তাঁরা। ১২ বছর পর আবারও গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের চকলেট খাওয়ার অভ্যাস এবং স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন গবেষকেরা।

এতে দেখা যায় নিয়মিত ১০০ গ্রামের মতো চকলেট খেলে হৃদ্‌রোগ থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ২৫ ভাগ কমে যায়। পাশাপাশি স্ট্রোক থেকে মৃত্যুর ঝুঁকিও প্রায় ২৩ ভাগ কমে যায়। এই গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চকলেটের সঙ্গে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের সম্পর্ক নিয়ে চালানো অন্যান্য গবেষণার ফলগুলোও পর্যবেক্ষণ করেন এবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। আরও প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত নানা গবেষণাতেও চকলেটের এমন স্বাস্থ্য উপকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

চকলেটের নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে সাধারণভাবে কোনো দ্বিমত নেই চিকিৎসকেদের। কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর বিবেচনা ছাড়া অন্ধভাবে চকলেটের ওপর নির্ভর না করারই পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডের কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজিস্ট ডক্টর টিম চিকো বলেন,‘এই গবেষণা থেকে আমি যে বার্তা পেয়েছি তা হলো-আপনার ওজন ঠিকঠাক থাকলে পরিমিত মাত্রায় চকলেট খেলে হয়তো হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়বে না এবং হয়তো কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতাও পাওয়া যাবে। কিন্তু আমি আমার রোগীদের চকলেট খাওয়া বাড়াতে বলব না, বিশেষত মুটিয়ে যাওয়াদের।’

যুক্তরাজ্যের স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা যোগাযোগ ব্যবস্থাপক ড. শামীম কাদির বলেন,‘এই গবেষণায় আগের কিছু গবেষণার মতোই চকলেট খাওয়ার সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু একজন মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কেবল এমন একটা খাবারের ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করাটা খুবই মুশকিল। আমরা নিয়মিত ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবারদাবার খাওয়া এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারি।’ (দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে)

নৃপেন পোদ্দারলাইফ স্টাইল
নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, প্রতিদিন ১০০ গ্রামের মতো চকলেট খেলে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোক থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে। প্রতীকী ছবি।মায়া সভ্যতায় চকলেটের মূল উপাদান ক্যাকাওকে বলা হতো ঈশ্বরের খাবার! হালের বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রেমে পড়লে মস্তিষ্কে যে রাসায়নিক ছড়ায় চকলেট খেলেও সেই অভিন্ন রাসায়নিকই ছড়ায়। আর এখন নতুন এক গবেষণায়...