শিরোনাম

‘ধার্মিক থেকেও নারী-পুরুষে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব’

image_264421.dr-mizan
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, ধর্মে কোনো আঘাত না দিয়েও, ধার্মিক থেকেও নারী-পুরুষে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তার নজির আছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত আলোচনায় সভায় মিজানুর রহমান এ কথা বলেন।
মিজানুর রহমান বলেন, সরকার বলছে, জাতিসংঘের নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ বা সিডও সনদ বাস্তবায়নে সমাজ এখনো প্রস্তুত নয়। তবে আমার মনে হয়, সমাজ প্রস্তুত নয়, এ কথা না বলে বলা উচিত ছিল “পলিটিশিয়ানরা” প্রস্তুত নন।’
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে চাই সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সিডও কমিটির কাছে চলতি বছরের মে মাসে সরকারের পাঠানো অষ্টম সাময়িক প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম।
তিনি বলেন, ‘সরকার সিডও সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না করে প্রতিবেদনে যতই “ভাষার চাতুর্য” দেখাক, তা ধরা পড়বে। ভাষার চাতুর্যপূর্ণ প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় কমিটির এক্সপার্ট সদস্যরা মৃদু মৃদু হাসতে থাকেন। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের উন্নয়নে অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন, উল্লেখ করে আয়শা খানম বলেন, ‘সিডও সনদের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধারা থেকে আপত্তি তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী ভাববেন। আর এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছাটা বাড়াতে হবে।’
সভায় আলোচনায় বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘দেশের চুক্তি, আইন, ক্রিমিনাল ল, পেনালকোডসহ অন্যান্য আইনের ব্যাপারে ধর্মের কোনো বক্তব্য নেই। ব্রিটিশেরা ২০০ বছর আগে শিখিয়ে গিয়েছে, ধর্মীয় বিষয় শুধু পারিবারিক আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০০ বছর আগের শেখানো সে জায়গা থেকে আমরা বের হতে পারিনি। আমরা শুধু পারিবারিক আইনে নারী-পুরুষের সমতার ক্ষেত্রে ধর্মের অজুহাত দিই। সম্পূর্ণ ধাপ্পা দেওয়ার জন্য এ ধরনের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে।’
শাহদীন মালিক আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে নারীর অংশগ্রহণের সংখ্যা এখনো অনেক কম। সরকারের কোনো কমিশনের প্রধান নারী নেই। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নারীরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেতে পারছেন না। তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। অথচ গত ৩০ থেকে ৩৫ বছরে নারীর প্রতি বৈষম্যের প্রেক্ষিতে বলতে গেলে পাঁচটির বেশি মামলা করা হয়নি। এখন সময় এসেছে নারী বৈষম্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া। এতে নারীর প্রতি বৈষম্য একেবারে কমে যাবে, তা নয়। তবে বিষয়গুলো আদালতের নজরে আনা সম্ভব হবে।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, সনদের দুটি ধারা থেকে আপত্তি প্রত্যাহার না করে বিভিন্ন যুক্তি দিচ্ছে সরকার। তবে কোনো ধরনের যুক্তি বা কারণ দেখিয়েই এর বৈধতা দেওয়া যাবে না। দেশের স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্যই সিডও সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সভায় মূল বক্তব্য পড়ে শোনান মহিলা পরিষদের আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা। আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক অদিতি রহমান ও মিথিলা ফারজানা।
বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে সিডও সনদ অনুমোদন করে। তবে এখনো সরকার ‘সিডও সনদের প্রাণ’ বলে পরিচিত ধারা ২ এবং ধারা ১৬-১ (গ) থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করেনি।
সনদের ২ নম্বর ধারায় বলা আছে, নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার জন্য রাষ্ট্র আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনে আইন বা বিধিবিধানের পরিবর্তন, পরিবর্ধন অথবা বাতিল করবে। সনদের ১৬.১ (গ) ধারায় বিবাহ করা ও বিবাহ বিচ্ছেদের সময় নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে।