শিরোনাম

আগামী বছরের মধ্যে কিশোরগঞ্জ হবে বাল্যবিবাহ মুক্ত

1441209292
আসুন সবাই মিলে শিশু বিবাহ রোধ করি, সুন্দর সমাজ দেশ গড়ি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলার আটটি গ্রামকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছেন সেখানকার গ্রাম্য দূতেরা। গ্রামের কোথাও বাল্যবিয়ের খবর পেলেই ছুটে যাচ্ছেন তারা। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা করছেন কিশোরীদের। ঘুরে ঘুরে সচেতন করার চেষ্টা করছেন সবাইকে।

জানা গেছে, গত আট মাসে তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় ও উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্টেটের সহায়তায় প্রায় ১৪১ জন কিশোরী বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে। একই সঙ্গে তারা শিশু শ্রম, যৌতুক নিরোধ, নারী নির্যাতন, স্যানিটেশনসহ শিশুদের জীবন দক্ষতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছেন। কিশোরগঞ্জ উপজেলা ওয়ার্ল্ড ভিশন ২০১৩ সালে আলোর দিশারী শিশু ফোরাম নামে একটি সংগঠন তৈরি করে। উপজেলা নির্বাহী অফিস ও আলোর দিশারী শিশু ফোরাম সূত্র জানায়, সদর ইউনিয়নের গদা, বাজেডুমরিয়া, চাঁদখানার নগর বন্দ, বাহাগিলির উত্তর দুরাকুটি, পুটিমারীর ভেড়ভেড়ী, নিতাই এর মুশরুত পানিয়াল পুকুর, তেঁতুল তলা বাজার ও বড়ভিটার দক্ষিণ বড়ভিটা গ্রামকে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাম হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। গত ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ঔ আটটি গ্রামের লোকজনের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন রোধে গ্রাম্য দূত হিসাবে একজন করে দায়িত্ব পান। আটটি ইউনিয়নের গ্রাম দূতেরা গ্রামের প্রতিটি পরিবারের সদস্য ও কিশোরীদের নিয়ে মাসে একবার করে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনা সৃষ্টি করছেন। বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা কিশোরীদের তালিকা তৈরি করে গ্রামের সচেতন নাগরিক, শিক্ষক, ইমাম ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাদের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। ইতিমধ্যে তাদের সঙ্গে আটটি গ্রামের বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা ১২০ জন যোগ দিয়েছে। উপজেলা আলোর দিশারী শিশু ফোরামের সভাপতি জেরিন সুলতানা মৌ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, আমরা সবাই মিলে গ্রামে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে শিশুদের বুঝানোর চেষ্টা করছি যে, আঠার বছরের আগে বিয়ে দিলে অপুষ্ট মায়ের অপুষ্ট শিশু ছাড়াও সন্তান দুর্বল এমনকি বিকলাঙ্গ হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, কিশোরগঞ্জ একটি পিছিয়ে পড়া উপজেলা। এখানে বাল্যবিবাহের প্রবণতা অনেক বেশি। তাই বাল্য বিবাহ রোধে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি শুধু ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাম নয় ২০১৬ সালের মধ্যে এই উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে।