3472d2247e4da3ac69a63ceba3a6a27b-12.1
শোবিজে কাজ করব, কোনো দিন ভাবিনি। বাবা (সৈয়দ ফজলুল করিম) পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি করতেন। বাবার চাকরির সূত্রে বাংলাদেশের ১১টা স্কুলে পড়েছি, সারা দেশ ঘুরেছি। ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময় বাবা বদলি হয়ে ঢাকায় আসেন। মা (শিরীন আফরোজ) এবার আমাকে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। আমারও খুব আগ্রহ হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মা রেডিওতে নাটক করতেন। অভিনেতা ও নির্দেশক সৈয়দ মাহিদুল ইসলাম ছিলেন মায়ের চাচা। মা আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যান। তিনি আমার অডিশন নেন। তারপর বললেন, অভিনয়টা আমাকে দিয়ে ভালোই হবে।
আফসানা মিমি। ছবি: আনন্দআব্বার বদলির কারণে আমাদের বন্ধু তৈরির আগে শহর বদল হতো। বন্ধুত্ব জমাট বাঁধার আগেই তা শেষ হয়ে যেত। মনে হলো, এবার আমার অনেক বন্ধু হবে।
আমার অভিষেক হয়েছিল বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মঞ্চে। সৈয়দ মাহিদুল ইসলামের ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠীর হয়ে অংশ নিই রাজদর্শন নাটকে। মনোজ মিত্রের লেখা থেকে নির্দেশনা দেন সৈয়দ মাহিদুল ইসলাম। নাটকে আমি রানির চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। তখন আমার বয়স ছিল ১৮।
যেহেতু আগে নাটকে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না, তাই আমার অনুভূতি ছিল শিশুদের মতো। ছোটরা যেমন কোনো বিষয়ে ভয় পায় না, আমার অবস্থাও ঠিক তেমই ছিল। আমার যত ভয়, তা শুরু হয় বড় হওয়ার পর। যখন অভিনয় বুঝতে শিখেছি, দায়িত্ব অনুভব করেছি।
আমার সহজাত দুটি ব্যাপার ছিল—শুদ্ধ উচ্চারণে পরিষ্কার বাংলায় কথা বলতে পারতাম আর স্বতঃস্ফূর্ত ছিলাম। তাই খুব একটা সমস্যা হয়নি। সেদিন কেমন অভিনয় করেছিলাম, তার কিছুই বলতে পারব না। তবে যাঁরা দেখেছিলেন, সবাই প্রশংসা করেছিলেন।
আমার নাটকে অভিনয়ের ব্যাপারটি বাবা মোটেও পছন্দ করেননি। বাবা চেয়েছিলেন আমি পড়াশোনা করি। আমাকে মঞ্চ নাটকে নিয়ে এসেছিলেন মা। শুরুর দিকে মা খুশি হলেও পরে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। আমাদের বাসা ছিল ইস্কাটনে। মহড়া করতাম ১০৮ আজিমপুরে। সন্ধ্যা কিংবা বিকেলে গিয়ে মহড়া করছি, আড্ডা দিচ্ছি, নাটক করছি—তখন কাজটাকে ঘিরে আলাদা ভালো লাগা তৈরি হয়।
মা দেখলেন আমি নাটকে বেশি মনোযোগী হয়ে যাচ্ছি। তিনি বললেন, ‘শখে নাটক করো।’ কিন্তু তত দিনে শখটা পুরোপুরি আমার মাথার মধ্যে ঢুকে গেছে। একসময় মা বুঝতে পারলেন, নাটককে আমি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। এরপর অবশ্য অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি আর আপত্তি করেননি।
এরপর আমি যুক্ত হয়েছি টিভি নাটক আর চলচ্চিত্রের সঙ্গে। নির্দেশনার কাজও করছি। কিন্তু রাজদর্শন নাটকের স্মৃতি আমার মনে থাকবে।

বাহাদুর বেপারীবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শোবিজে কাজ করব, কোনো দিন ভাবিনি। বাবা (সৈয়দ ফজলুল করিম) পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি করতেন। বাবার চাকরির সূত্রে বাংলাদেশের ১১টা স্কুলে পড়েছি, সারা দেশ ঘুরেছি। ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময় বাবা বদলি হয়ে ঢাকায় আসেন। মা (শিরীন আফরোজ) এবার আমাকে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। আমারও খুব...