79776_s3
মিরপুর স্টেডিয়ামে তখন সন্ধ্যা হয় হয়। মাথার ওপর কাল মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরার অপেক্ষায়। মাঠে তখন দুজন পাশাপাশি কিপিং অনুশীলন করছেন। একজন জাতীয় দলের পরীক্ষিত অধিনায়ক ও কিপার মুশফিকুর রহীম অন্যজন টেস্ট অভিষেকেই মুশফিকের গ্লাভস হাতে পাওয়া লিটন কুমার দাস। পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে ফতুল্লা টেস্ট যখন ড্রর পথে তখন বাংলাদেশের সামনে ফলোঅনের শঙ্কা। তামিম, ইমরুল, মুমিনুল, মুশফিক, সাকিব সৌম্যসহ একে একে দলের ব্যাটিং ভরসারা মাথা নিচু করে হেঁটেছেন সাজঘরের পথে। ঠিক সেই মুহূর্তে অভিষেক টেস্টে ব্যাট হাতে ভারতের বোলারদের আতঙ্কিত করে তোলেন যিনি, তিনি লিটন। শেষ পর্যন্ত ফলোঅন এড়াতে পারেনি দল। কিন্তু এই তরুণের দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দল দেখতে পারে মুশফিকের বিকল্প এক কিপার-ব্যাটসম্যানকে। মাত্র ৪৫ বলে ৮টি চার ও একটি ছয়ের মারে সাজানো ইনিংসটা তাকে এখন আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে ওয়ানতে দলেও ভাল কিছু করার। মুশফিকুর রহীমের জায়গাটা লিটন দখল করে নিবেন এমনটাই অনেকের ধারণা। তাহলে যুদ্ধটা কি তার সঙ্গে? কিন্তু তা মানতে রাজি নন এই তরুণ। তিনি বলেন, ‘আসলে মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে আমার কোন যুদ্ধ নেই। তার সঙ্গে আমার কেন যুদ্ধ থাকতে যাবে। তিনি অনেক বড় মাপের ক্রিকেটার। আর আমি যদি দলে থাকি ফিল্ডিং করি আর কিপিং করি খুব আলাদা কিছুই নয়।’
গতকাল বাংলাদেশ দল মিরপুর শেরে বাংলা মাঠে দুপুর আড়াইটা থেকেই ব্যাটিং অনুশীলন করে। প্রথমে ব্যাটিং অনুশীলন সেরে নেন লিটন। এরপর মুশফিকের পাশে দাঁড়িয়েই কিপিং অনুশীলন করেন এই তরুণ। ফতুল্লা টেস্টের পর লিটনের ব্যাটিং নিয়ে বেশ প্রশংসাই করেন অধিনায়ক। লিটনের ব্যাটিং নিয়ে মুশফিক বলেছিলেন, ‘যদি আপনি খেয়াল করে দেখেন অফস্পিনে নরমালি ব্যাটসম্যানরা যেভাবে খেলে থাকে বা তার যেটা স্ট্রেন্থ সেভাবেই খেলেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ও যেভাবে খেলে, ফাইভডে, ফোরডে বা একদিনের ম্যাচে সে কিন্তু সাধারণত এভাবেই খেলে থাকে। হ্যাঁ, সে হয়তো আর একটু সময় নিয়ে আরও লম্বা ইনিংস খেলতে পারতো। অনেক সময় আপনাকে টেল এন্ডারদের সঙ্গে ব্যাটিং করতে হতে পারে। অনেক সময় কুইক রানেরও দরকার আছে। তো আমার মনে হয় এটা ওর প্রথম ম্যাচ ছিল। তাই কিছুটা নার্ভাস ছিল। আশা করছি সে যতো খেলবে ততো শিখবে।’ পরক্ষণেই অবশ্য ঘোষণা দিয়েছেন টেস্টে অঙ্গুলের চোটের জন্য না পারলেও ওয়ানডেতে ঠিকই কিপিংটা করবেন। তাহলে লিটনের জায়গা কি শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই হবে? লিটন ওয়ানডেতে সুযোগ পেলে তা কিভাবে কাজে লাগাবেন? লিটন বলেন, ‘দলে যদি সুযোগ পাই তাহলে দলকে কিছু দেয়ার জন্য। এর মানে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে সুযোগ পেলে শুধু ব্যাটিং করবো। আর যদি কিপিং করতে হয় তাও করবো।’
ফতুল্লা টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছে ২৫৬ রান। অশ্বিন একাই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপে ধন নামিয়েছেন ৫ উইকেট তুলে নিয়ে। সেই অশ্বিনকে একটি ছক্কাও হাঁকান এই তরুণ। নিজের এমন নির্ভার ব্যাটিং নিয়ে বলেন, ‘তখন টার্গেট ছিল ফলোঅন এড়ানোর, আমি সেই চেষ্টাই করছিলাম। যে বল মারার সে বলই মেরেছি। এমন কিছু না যে মারতেই হবে তাই। আমি আসলে নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিংটাই করেছি। আর একটুতো আনইজি লেগেছেই ভারতের এত বড় বড় ক্রিকেটারদের সামনে ব্যাটিং করছি। আসলে পার্থক্যটা এখানেই যে তারা অনেক বড় নামের ও মানের ক্রিকেটার। কিন্তু খেলার সময় এইসব চিন্তা করলে হবে না। আমি এসব নিয়ে ভাবছি না। ভাবলেই স্বাভাবিক খেলা যাবে না।’
অন্যদিকে মুশফিক যখন ফিল্ডিং করছিলেন তখন লিটন কিপিংয়ে। সেই সময় কি একটু অস্বাভাবিক লাগছিল তার? কিন্তু সোজা উত্তরে বলেন, ‘না, অস্বাভাবিক লাগবে কেন? আমার কাজটাই আমি করছিলাম। তেমন কোন কিছু মনে হয়নি।’

হীরা পান্নাখেলাধুলা
মিরপুর স্টেডিয়ামে তখন সন্ধ্যা হয় হয়। মাথার ওপর কাল মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরার অপেক্ষায়। মাঠে তখন দুজন পাশাপাশি কিপিং অনুশীলন করছেন। একজন জাতীয় দলের পরীক্ষিত অধিনায়ক ও কিপার মুশফিকুর রহীম অন্যজন টেস্ট অভিষেকেই মুশফিকের গ্লাভস হাতে পাওয়া লিটন কুমার দাস। পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে ফতুল্লা টেস্ট যখন ড্রর পথে তখন...