1434355604
অনেক সময় রাতে আমাদের একেবারেই ঘুম আসে না। দুশ্চিন্তা, অফিসের কাজ, পরীক্ষা, বিয়ে প্রভৃতি আরও অনেক কারণেই আমরা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দেই। ফলে শরীর ভালো না থাকায় পরের দিনটাও ভালো যায় না। কোন কাজেও মন বসে না। দৈনন্দিন কর্মকান্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই হলো ঘুম। এর ফলেই মন ও শরীর শান্ত, সতেজ ও সবল থাকে। কাজেই কর্মোদ্যম থাকতে সবারই ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। কেউ কেউ ঘুমানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। এগুলো পরবর্তীতে শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তখন ওষুধ গ্রহণেও আর ঘুম আসে না। অথচ এমন কিছু প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে যা ব্যবহারে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রশান্তিতে ঘুমানো সম্ভব।

জেনে নিন প্রশান্তির ঘুমে সাহায্য করবে কোন প্রাকৃতিক উপায়-

হপস
এটি এক ধরনের ফুল যেটি বিয়ার উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। যারা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না তাদের জন্য খুবই কার্যকর এই ফুলটি। এতে এমন এক ধরনের উপাদান রয়েছে, যা শরীরে এক ধরনের শান্ত অনুভূতি নিয়ে আসে। ফলে সহজেই ঘুম এসে যায়।

এল-থায়ানিন
কেবল সবুজ চায়ে এই অ্যামাইনো অ্যাসিডটি পাওয়া যায়। এটিও দিনের মানসিক চাপ কমিয়ে রাতে ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে। কাজেই প্রশান্তিতে ঘুমাতে চাইলে নিয়মিত সবুজ চা পান করুন।

ভ্যালেরিয়ান
অনিদ্রা প্রতিরোধে আরেকটি সাধারণ এবং কার্যকরী ভেষজ হলো ভ্যালেরিবান (একটি বহুবর্ষজীবী সম্পুষ্পক উদ্ভিদ)। মিষ্টি সুগন্ধিযুক্ত এই ফুলটি কেবল গ্রীষ্মকালেই পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফুলটিও গভীর ঘুমে সাহায্য করে।

টার্ট চেরি জুস
প্রাকৃতিকভাবে ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে এই জুস। কারণ এতে ট্রাইটোফান নামে এমন এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে, যা আমাদের শরীরের সেরাটোনিন এবং মেলাটোনিনের মাত্রাকে উন্নীত করে। ফলে শরীরের তাপ কমে যায় এবং ভালো ঘুম হয়। বিছানায় যাওয়ার আগে এক কাপ চেরি জুস খেলে তাড়াতাড়ি ঘুম আসে।

কলা
এই ফলটিতে ট্রিপটোফান নামে একটি কার্যকরী অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে। এছাড়া এতে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা রাতে ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে কলা খেলে মাংসপেশী সহজেই শিথিল হয়ে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হয়। তখন সহজেই ঘুম আসে।

ক্যামোমিল
কয়েক দশক ধরেই ঘুমের চিকিৎসায় মানুষ এই ফুলটি ব্যবহার করে আসছে। এতে এপিজেনিন নামে এমন এক ধরনের উপাদান রয়েছে, যা প্রশান্তিতে ঘুমাতে সাহায্য করে। এক কাপ গরম পানির মধ্যে দুই টেবিল চামচ শুকনো ক্যামোমিল মিশিয় নিন। চাইলে এর সঙ্গে সামান্য মধু এবং দুধও মেশাতে পারেন। ঘুমানোর ছয় মিনিট আগে এটি পান করলে রাতে গভীর ঘুম হয়।

ম্যাগনেসিয়াম
ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত যে কোন খাবার খেলেও রাতে ভালো ঘুম হয়। কাজেই আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে এই ধরনের খাবার রাখার চেষ্টা করুন।

লেবু
মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করে লেবু। হতাশা এবং চাপ কমাতে এটি অনেক বেশি উপকারী। কাজেই ঘুমানোর পাঁচ-ছয় মিনিট আগে লেবুর রস পান করলে প্রশান্তিতে ঘুমানো যায়। ভালো ফল পেতে চাইলে এর সঙ্গে আপনি দুই টেবিল চামচ ক্যামোমিলও মেশাতে পারেন।

এগুলো ছাড়াও এক গ্লাস হালকা গরম দুধ, যোগব্যায়াম এবং মেডিটেশনও আমাদের ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে। কাজেই যারা দীর্ঘদিন ধরেই অনিদ্রায় ভুগছেন তারা এই উপায়গুলো অবলম্বন করতে পারেন। তাহলে আপনাকে আর কখনই ঘুমের সমস্যা তাড়া করবে না। প্রাকৃতিক উপায়ে রাতে প্রশান্তিতে ঘুমান এবং দিনে কর্মোদ্যম থাকুন।

তথ্যসূত্র: ওয়েবসাইট

হীরা পান্নাস্বাস্থ্য কথা
অনেক সময় রাতে আমাদের একেবারেই ঘুম আসে না। দুশ্চিন্তা, অফিসের কাজ, পরীক্ষা, বিয়ে প্রভৃতি আরও অনেক কারণেই আমরা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দেই। ফলে শরীর ভালো না থাকায় পরের দিনটাও ভালো যায় না। কোন কাজেও মন বসে না। দৈনন্দিন কর্মকান্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই হলো ঘুম। এর ফলেই...