শিরোনাম

কেমন আছেন জিনাত?

90132_x6
একসময় ছিলেন আলোচনার শীর্ষে। মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন বহুবার। এরশাদের পতনের পর জেল খেটেছেন। জীবনে ওলট-পালট হয়েছে। হারিয়েছেন সকল রাজনৈতিক পরিচয়। এরপর কোথায় আছেন? কেমন আছেন জিনাত?
খরস্রোতা নদীর মতো বহমান জীবনের বাঁক পরিবর্তন হয় বারবার। মানুষের জীবনে নানা ঘটনা থাকে। অঘটনও থাকে। যেমনই হোক জীবন কেটে যায় আসলে জীবনেরই নিয়মে। জিনাতের জীবনও কেটে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি খবরের বাইরে। এখন শিরোনাম হন না কোথাও। একসময়কার রাজনীতির সঙ্গীরাও তার খোঁজ নেয় না। গুলশানের বাসায় নীরবে-নিভৃতে সময় কাটছে তার। সকল কিছুর আড়ালে গিয়ে নিজের মতো করে জীবন কাটাচ্ছেন। কেমন আছেন জানতে চাইলেই হাস্যমুখে উত্তর- খুব ভাল আছি। সাত ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় জিনাত। তার বড় বোনের স্বামী আমিনুল হক বাদশা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রেস সেক্রেটারি।

এক সময়কার প্রভাবশালী সিএসপি অফিসার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন জিনাত। তার নাম হয়ে যায় জিনাত মোশাররফ। মোশাররফ হোসেন পরে বিএনপি সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। এদিকে জিনাত জড়িয়ে পড়েন জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে। হয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যও। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সর্বশেষ ছিলেন জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে তার সম্পর্ককে ঘিরে তৈরি হয় নানা গল্পের। দেশী-বিদেশী মিডিয়ায় ঝড় তোলে তাদের সম্পর্ক। একসময় ভাঙন দেখা দেয় জিনাতের সংসারে।
এরশাদের পতনের পর ভাগ্য বিপর্যয় নেমে আসে জিনাতের। কারাভোগও করেন তিনি। দুর্নীতির মামলায় তার সাজা অবশ্য পরে হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায়। একসময় জিনাত চলে যান পর্দার অন্তরালে। শুরু করেন নিজের মতো করে জীবন। বর্তমানে রাজধানীর গুলশান এলাকার ১০৮নং রোডের একটি বাসায় থাকেন তিনি। জিনাত ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, তার সঙ্গে থাকেন ছোট ছেলে রানা ও তার স্ত্রী-সন্তানরা। রানার সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। এই নাতি-নাতনিই এখন জিনাতের পৃথিবী। দিনের বেশির ভাগ সময়ই নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। মাঝে মাঝে তাদের নিয়ে ঘুরতেও বের হন। ব্যবসা-বাণিজ্য কিছু করছেন কিনা জানতে চাইলে জিনাত বলেন, না! এখন আর সেই সময় নেই! বড় ছেলে রাসেল যুক্তরাষ্ট্রে থাকে। সেই টাকা-পয়সা পাঠায়। থাকি ছোট ছেলের সঙ্গে। এছাড়াও বোন ও কিছু আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন জিনাত। তার বাইরে কারও সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহ তার। দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটান ঘরে বসে। বলেন, আর কোনো কিছুতে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই না। পরিবার ও আত্মীয়স্বজন নিয়েই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই। জিনাতের আত্মীয়স্বজনরাও বলছেন, আলোচনাহীন জীবনে অনেক বেশি সন্তুষ্ট তিনি। তবে তার এক ঘনিষ্ঠজন বলেন, অতীতের জীবন নিয়ে প্রায় আফসোস করেন জিনাত। তার জীবনে বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেন জাতীয় পার্টির এক শ্রেণীর নেতাকর্মীকে। মনে করেন, তাদের কারণেই তার ব্যক্তি জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে জীবনের সহজ-সরল পথ। মিডিয়াও তাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে বলে মনে করেন তিনি। তবে সব মিলিয়ে বর্তমান জীবনে ভালই আছেন জিনাত।