আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ

1434301972_th
রিমঝিম রিমঝিম ঘন দেয়া বরষে।/কাজরি নাচিয়া চল, পুর-নারী হরষে/কদম তমাল ডালে দোলনা দোলে/কুহু পাপিয়া ময়ূর বোলে,/মনের বনের মুকুল খোলে/নট-শ্যাম সুন্দর মেঘ পরশে…। জাতীয় কবির আষাঢ়ের এমন রূপময় বর্ণনা মনকে উদাস করে। গ্রীষ্মের প্রচ- তাপপ্রবাহের মধ্যে এমন বর্ণনা কার না ভালো লাগে! নবধারাজলে শীতল হতে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে মন চায়। মনের বনে নতুন করে জেগে ওঠারও এই তো সময়। আজ থেকে শুরু বর্ষাকাল। আজ পহেলা আষাঢ়। বর্ষা ঋতুর প্রথম দিন। আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে রিমঝিম রিমঝিম বৃষ্টি হবে। কিংবা হবে না। তাতে কী! বর্ষপঞ্জি বলছে বর্ষা ঋতুর শুরু আজ। কদিন ধরেই বৃষ্টি অবিরাম। তবু আনুষ্ঠানিক শুরু আজই। বর্ষাকাল চলবে শ্রাবণের শেষ দিনটি পর্যন্ত।
বাংলায় আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষা ঋতু। এ সময় জলীয় বাষ্পবাহী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় বর্ষায়। তাই চারপাশের পরিবেশ বদলে যায়। এ বদলে যাওয়ার বর্ণনা দিয়ে প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মা বলেন, বর্ষার ভারী বর্ষণে শরীর ধুয়ে নেয় প্রকৃতি। পরিচ্ছন্ন হয়। নতুন করে জেগে ওঠে। বেলি, বকুল, জুঁই, দোলনচাঁপা, গন্ধরাজ, হাসনাহেনার ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারপাশ। আর ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল’-এর হাসি তো ভুবনভোলানো। কী গ্রাম, কী নগর সর্বত্রই বর্ষার আগমনী বার্তা দেয় কদম। যেন একই কথার জানান দিতে পেখম মেলে ময়ূর। বৃষ্টির জল গায়ে নিয়ে নৃত্য করে। কবিগুরু লিখেছেন : মন মোর মেঘের সঙ্গী,/উড়ে চলে দিগ্ দিগন্তের পানে/নিঃসীম শূন্যে শ্রাবণবর্ষণসঙ্গীতে/রিমঝিম রিমঝিম রিমঝিম…। রিমঝিম এ বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দে কাটে বাঙালির শৈশব। স্কুলে যেতে যেতে কিংবা ফেরার পথে দুরন্ত কিশোরী আনন্দে গায়ে মাখে বৃষ্টির ফোঁটা। আর যতœ করে ব্যাগে পুরে রাখে রঙিন ছাতা। তুমুল বৃষ্টিতে গাঁয়ের ছেলেরা পাল্লা দেয় ফুটবল নিয়ে। এই তো বর্ষার রূপ।
যৌবনকেও প্রভাবিত করে বর্ষা। প্রেমের বোধ জাগায় মনে। কবিগুরু আরও লেখেন : তুমি যদি না দেখা দাও, কর আমায় হেলা,/কেমন করে কাটে আমার এমন বাদল-বেলা…। নজরুলও খুলে দেন তার মনের ডালি : রিমঝিম রিমঝিম ঝরে শাওন ধারা।/গৃহকোণে একা আমি ঘুমহারা।/ঘুমন্ত ধরা মাঝে/জল-নূপুর বাজে,/বিবাগী মন মোর হল পথহারা….।
অবশ্য বর্ষার সবই উপভোগ্য, উপকারের এমনটি বললে কিছু বেশি বলা বৈকি। ভারী বর্ষণে, পাহাড়ি ঢলে গ্রামের পর গ্রাম যে ভাসিয়ে নেয়, সেও বর্ষা! বন্যাকবলিত নিচু এলাকার মানুষ তাই আতঙ্কে পার করে বর্ষা। একই কারণে সারা বছরের অর্জন ফসল তলিয়ে যায়। শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়। তবে সুখ স্মৃতিগুলো মনে রেখেই প্রতি বছর বর্ষাকে বরণ করে নেয় বাঙালি। বিশেষ করে শহরে-নগরে হরেক আয়োজনে চলে বর্ষাবন্দনা।