555555
গত দুদিনের ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের অভ্যন্তরে নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার দুপুরে ভারী বর্ষণে ডিএনডির নিম্নাঞ্চলে বিভিন্ন এলাকা বাড়িঘর, শিল্পকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ডিএনডির নিম্নাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। জন ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের সরকারি খালগুলো দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে শিমরাইলের পাম্প হাউজ কর্তৃপক্ষ বলেছে, ৫১২ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন ৪টি পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ চালালেও তা পর্যাপ্ত নয়। এই কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন করতে আরো দুটি পাম্প হাউজ স্থাপন করা প্রয়োজন।জানা গেছে, প্রবল বর্ষণের পানিতে রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ৪টি থানার ৮ হাজার ৩শ’ ৪০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রজেক্টের অভ্যন্তরে ব্যাপক জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ভারী বর্ষণসহ আগের বর্ষণে ডিএনডির নিম্নাঞ্চলে বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ডিএনডির বাঁধের অভ্যন্তরে বাড়িঘর, শিল্পকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, নার্সারি, মৎস্য খামার ও সবজি খেতসহ ডুবে গেছে। পানিতে তলিয়ে কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমর পানি পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রবল বর্ষণে ডিএনডি’র অভ্যন্তরের নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লার কোতালেরবাগ, দক্ষিণ সস্তাপুর, লালপুর, পূর্ব ইসদাইর, সেহাচর, রাজধানী ঢাকার ডেমরা ও শ্যামপুরসহ ৪টি থানার মিজমিজির পাইনাদী, সিআইখোলা, কালাহাতিয়ার পাড়, নতুন মহল্লা, মজিববাগ, রসুলবাগ, নয়াআটি, নিমাইকাশারী, সানারপাড়, টেংরা, কোদালদাহ, তুষার ধারা, বঙ্নগর, হাজীগঞ্জ, গিরিধারা, সাহেবপাড়া, বাঘমারা, সাদ্দাম মার্কেট, জালকুড়ি, হাজীনগর, মাতুইয়াল, শহীদ নগর, সবুজবাগ, ভূইঘর,দেলপাড়া, ডগাইর, মাতুয়াইল, নয়াপাড়া ও ধনকুন্ডাসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক বাড়িরঘর ও রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, সবজি খেত, নার্সারি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে বলে ভূক্তভোগীরা জানান।নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের মিজমিজি পুর্বপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণে তার বাড়ি পানিতে তুলিয়ে গেছে এবং উঠোনে হাঁটু পানি জমে গেছে।মিজমিজি রেকমত আলী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক এম এ মতিন জানায়, রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তাটি ডুবে গেছে। স্কুলের মাঠটিও পানিতে ভরে গেছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।নতুন মহল্লার নুরুল ইসলাম জানায়, বৃষ্টির পানিতে ড্রেন ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। ফলে ময়লা-আবর্জনা ও নর্দমার পানি একসঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। ফলে এ নোংরা পানি দিয়েই আমরা চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছি।ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল মালেক মজুমদার অভিযোগ করেন এলজিইডি এর উত্তর পাশে কালভার্টের নীচে নানারকম আর্বজনার কারনে বন্ধ হয়ে গেছে প্রবেশ মুখ।বিশেষ করে জুট ব্যাবসায়ী তাদেও পরিত্যাক্ত আর্বজনা ফেলে ঐ কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। এলাকা নিচু হলেও বাড়িঘর নির্মাণ হয়েছে পরিকল্পনামাফিক।এখানকার খাল দখল এবং কালভার্টে আর্বজনা জমে থাকার কারনে শিমরাইল পানির পাম্পে,জমে থাক পানি যেতে পারছেনা,যার ফলে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।পূর্ব ইসদাইরের (চাদমারী) মান্নান মিয়ার ভাড়াটিয়া, ফল ব্যাবসায়ী বিল্লাল মিয়া অভিযোগ করেন,আমরা এই বাড়িতে মোট ১৫ জন থাকি। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি উঠে যায়। তখন ঘরের মধ্যে খাটের উপর বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করা যায়না। এলাকার কালভার্টের নিচ দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন সংস্থার পাইপ লাইনে পানির স্রোতে ভেসে আসা ময়লা আর্বজনা জমে স্তুপ হয়ে গেছে। এগুলো পরিষ্কার না করার কারণে বৃষ্টির পানি বের হতে পারছে না। যার ফলে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই এই এলাকায় পানি জমে যায়,যা ৭দিন পর্যন্ত জমে থাকে।এই ময়লা পানি দিয়ে হাঁটা চলাচলের কারনে পায়ের মধ্যে চুলকানি, চর্মরোগ সহ নানা অসুখে পরতে হয়।নারায়ণগঞ্জ আর্দশ স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা নওরীনের মা সাইদা ইসলাম লাকী অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা বারবার আশ্বাস দেন,কিন্তু কাজ করেনা।এই জলাবদ্ধতার মধ্যে নিয়মিত কাজ করা যায়না।আজকে ৫ দিন পরে সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছি।বৃষ্টি এবং খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে এখানে আজ ৩ মাস যাবৎ পানিবন্দি রয়েছি।দক্ষিন সস্তপুরের বাসিন্দা সাজিদা বেগম জানান,আজ ৩ মাস যাবৎ পানিবন্দি অবস্থায় বাস করছি।পানির কারনে মৃত ব্যাক্তির জানাযা পরা যায় না। কোন গর্ভবতীকে হাসপাতালে নেওয়া যায়না,পানির কারনে এখানে রিঙ্া,সিএনজি কিছুই আসতে পারেনা।ফলে কোন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অনেক কষ্ট হয়।এছাড়া পানির কারনে এই এলাকার অধিকাংশ শিশুর স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।দক্ষিন সস্তাপুর তাকওয়া মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি জহিরউদ্দিন জানান, মসজিদ থেকে প্রতি ওয়াক্ত আযান দেয়া হয় কিন্তু পানিবন্দির কারনে কোন মুসল্লী আসতে পারে না। পঞ্চবটি, এনায়েতনগর, কোতোয়ালেরবাগ, গাবতলীসহ কয়েকটি এলাকার পানি এই এলাকা দিয়ে নেমে যায়।ডিএনডি বাধের খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে এই এলাকার পানি সরতে পারছেনা।মাসদাইর সরকারী ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন,প্রধান সড়কের উপরে যাত্রার খাল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ব্রিজের পুুর্বপাশে দখল হয়ে যাওয়ার কারনে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় শিমরাইলের পাম্প হাউজে সরেজমিন গিয়ে কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় ১২৮ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন ৩টি পাম্প চলতে দেখা গেছে।পাম্প অপারেটর মান্নান জানায়, নিষ্কাশন খাল দিয়ে ময়লা-আবর্জনা চলে আসায় ৪টি পাম্প চালানো যাচ্ছে না। তিনি জানান, এখন পাম্প হাউজের মুখে নিষ্কাশন খালে পানির উচ্চতা রয়েছে (পাম্প চালু থাকাবস্থায়) ২.৮৫ মিটার। পাম্প বন্ধ থাকলে ৩.১০ মিটারে চলে আসবে। ২ দশমিক ৭০মিটার উচ্চতা স্বাভাবিক অবস্থা বলে তিনি জানান।গতকাল শুক্রবার শিমরাইলের পাম্প হাউজের নির্বাহী প্রকৌশলী এম. গোলাম সারওয়ার তার মুঠো ফোনে জলাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে জানায়, ১৯৬৮ সালের পুরনো ৫১২ কিউসেট ক্ষমতা সম্পন্ন ৪টি পাম্প দিয়ে ডিএনডি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, অন্তত আরও ২টি পাম্প হাউজ নির্মাণ করলে ডিএনডিবাসীর জলাবদ্ধতা থেকে উপকৃত হবে।

– See more at: http://www.sangbad.com.bd/first-page/2015/06/13/12476#sthash.TRdi6JJK.dpuf

শুভ সমরাটজাতীয়
গত দুদিনের ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের অভ্যন্তরে নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার দুপুরে ভারী বর্ষণে ডিএনডির নিম্নাঞ্চলে বিভিন্ন এলাকা বাড়িঘর, শিল্পকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ডিএনডির নিম্নাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। জন ভোগান্তি...