5555
ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি
জনতা রিপোর্ট
ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও পার্শ্ববর্তী অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের গুয়াহাটিতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় পানি কমিশন (সিডবিস্নউসি) সতর্কতা জারি করেছে।

যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। কোথাও কোথাও বিপদসীমার উপর দিয়েও প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধায় নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ১৬টি নদ-নদীর পানি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। ধরলা ও ব্রক্ষ্মপুত্র নদের পানি বিপদ সীমার নিকট দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে যেকোনো মুহূর্তে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার দশমিক ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় তিস্তার পানি ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে মনে করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করতে কোথাও কোথাও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

আমাদের লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, এদিকে উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ সস্নুইস গেট খুলে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পানি অস্বাভাবিকহারে বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা নদীর চর এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। উজানের ভারী বর্ষণ ও ঢল নেমে আসায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে মরা তিস্তা নদী। শুকিয়ে থাকা তিস্তায় হু-হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নবযৌবন ফিরে এসেছে তিস্তায়।

ব্যারেজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তা নদীর পানি ৫১ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, তিস্তা নদীর পানি এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে নদীর পানি ব্যারেজ পয়েন্ট বিপদসীমার দশমিক ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, যেকোনো সময় তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। তাই দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি সস্নুইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে।

আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি ঢুকে নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ১০টি স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। জেলার ৭ উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে এসব বন্যাকবলিত মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রক্ষ্মপুত্র ৩১ সে.মি, ধরলায় ৩০ সে.মি, দুধকুমার নদে ৩১ সে.মি. পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।

এসময় চিলমারীর ব্রক্ষ্মপুত্র অববাহিকায় চিলমারীতে ১৫০ মি.মি ও ধরলা ফেরিঘাট পয়েন্টে ৮৪ দশমিক ৫ মি. মিটার ও তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে ১২৭ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে কুড়িগ্রাম শহরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, খাদ্য অফিস, আদর্শ জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা, খাদ্য গুদাম, হাটিরপাড়, ভেলাকোপা, মজিদা কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

চর ও দ্বীপ চরগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলার পাঁচগাছি, যাত্রাপুর, ঘোগাদহ, ভোগডাঙা, হলোখানা, মোঘলবাসা, উলিপুরের বুড়াবুড়ি, সাহেবের আলগা, বেগমগঞ্জ, হাতিয়া, চিলমারীর রাণীগঞ্জ, অষ্টমীরচর, নয়ারহাট, জোরগাছ ও চিলমারী সদর ইউনিয়নসহ রৌমারী ও রাজীবপুরের কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন চাঁদ জানান, এই ইউনিয়নের ৪টি চরের বেশিরভাগ বাড়িঘর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদ-নদীর পানি উত্তর দিক থেকে বয়ে এসে যাত্রাপুর হাটের পূর্বে ব্রক্ষ্মপুত্র নদের সাথে মিলিত হয়েছে। মিলিত স্রোতে চরযাত্রাপুর থেকে গারুহারা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রাম-ফুলবাড়ি সড়কটি হুমকির মুখে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাফুজার রহমান বলেন, নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করতে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, তিস্তা, করতোয়া, ঘাঘট নদীর পানিও অনেক বেড়েছে। ফলে বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জেলার চর, নিম্নাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল বলেন, উজানের ঢলে যে হারে পানি বাড়ছে, এতে এ মাসেই বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া, টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এরইমধ্যে জেলার নদী তীরবর্তী ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন (সিডবিস্নউসি)-এর তথ্যানুযায়ী, গুয়াহাটিতে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি সতর্ক সীমার কমপক্ষে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে বিপদসীমা হল ৪৯ দশমিক ৬৮ মিটার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আসামের ১৫ জেলায় বন্যায় ৩ লাখ ২৩ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন স্থানে ভাঙন পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাচ্ছে। এদিকে অরুণাচল প্রদেশের আট জেলায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

শুভ সমরাটজাতীয়
ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি জনতা রিপোর্ট ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও পার্শ্ববর্তী অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের গুয়াহাটিতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ওপর...