image_112855
সাধারণ মানুষ, ক্রেতা, বিক্রেতা ও বাজার সংশ্লিষ্ট সকলকে অবাক করে এখনো স্থিতিশীল রয়েছে নিত্যপণ্যের বাজার। পবিত্র রমজান মাসের আগে প্রচলিত ধারা অনুযায়ী বাজার পরিস্থিতিতে হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হলেও এবার তা ঘটেনি। দামের কিছুটা হেরফের হলেও অধিকাংশ পণ্যের দরই রয়েছে অপরিবর্তিত। রোজার আগে বাজারের প্রচলিত অস্থিরতার পরিবর্তন প্রসঙ্গে খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি বছর ‘দুষ্ট’ ও ‘সুযোগ সন্ধানী’ কিছু লোক কয়েকটি পণ্য টার্গেট করে কারসাজির মাধ্যমে বাজার অস্থির করে তোলেন। যার চাপ পড়ে জনসাধারণের পকেটের উপর। তারা তাদের ভোজবাজির মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছান, রোজা শুরুর সাত দিন আগে থেকে বাজার লন্ডভন্ড করে দেন। কিন্তু এবার সরকার সজাগ থাকায় এবং ব্যবসায়ীরা নিজেরাও সচেতন হওয়ায় এখন পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রোজার মাঝামাঝি পর্যায়ে বাজারের অবস্থা কি হবে তা বলা সম্ভব নয়।

সপ্তাহের শুরুতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের দরে কোনো পরিবর্তন না ঘটলেও বেড়েছে মানভেদে আদার দাম এবং কমেছে ব্রয়লার মুরগীর দাম। স্থিতিশীল থাকলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাজারে পিঁয়াজ, রসুনসহ মশলা জাতীয় পণ্যের দর বাড়তি রয়েছে। তবে চাল, ভোজ্য তেল, আটা ও ময়দার দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। ইতোমধ্যেই পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে ক্রেতারা কেনাকাটা শুরু করেছেন। বাজার পরিস্থিতিতে তাদের অনেকেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ক্রেতারা বলছেন, রমজান মাসের বেশিরভাগ সময় বাজারের এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে তেমন একটা সমস্যায় পড়তে হবে না।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর উত্তর বাড্ডা, রামপুরা ও ফকিরাপুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে আদার দাম গত সপ্তাহে সর্বনিম্ন ৯০ টাকা থাকলেও এ সপ্তাহের শুরুতে এই দাম বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে। একইরকমভাবে ব্রয়লার মুরগীর দাম ১৫০-১৭০ টাকা হলেও গতকাল এই দাম কমে ১৫৫-১৬৫ টাকা ছিলো। দেশি মুরগীর দাম ছিলো কেজি প্রতি ৩০০-৩২৫ টাকা, গরু কেজিপ্রতি ৩৫০-৩৮০ টাকা, খাসী ৫০০-৫৫০ টাকা, ইলিশ মাছ ৭০০-১০০০ টাকা এবং রুই মাছ ২০০-৩০০ টাকা। পিঁয়াজের দাম গত বছরের এই সময়ে কেজিপ্রতি ২৮-৩৫ টাকা থাকলেও গতকাল ছিলো ৩০-৪৫ টাকা। মানভেদে দেশি রসুন ছিলো ৬০-৮০ টাকা এবং আমদানিকৃত রসুন ৯০-১০০ টাকা, শুকনা মরিচ ১৪০-১৮০ টাকা, হলুদ ১৪০-১৯০ টাকা, জিরা ৩৫০-৪৫০ টাকা, দারুচিনি ৩০০-৪০০ টাকা, লবঙ্গ ১৪০০-১৫০০, এলাচ ১২০০-১৬০০, ধনিয়া ১২০-১৮০ এবং তেজপাতা বিক্রি হয়েছে ১২০-১৫০ টাকায়।

গতকাল চিনির কেজিপ্রতি মূল্য ছিলো ৪০-৪২ টাকা, সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৮০-২২০ টাকায়, ফার্মের ডিমের হালি ছিলো ৩০-৩২ টাকা, মশুর ডাল ৯০-১২০, তুরস্ক-কানাডার বড় দানা ডাল ৯০-৯৫ এবং মাঝারি ৯৫-১০০ টাকা, দেশি ডাল ১১০-১১৫, নেপালী ডাল ১১৫-১২০, মানভেদে মুগ ডাল ১০০-১২০, এঙ্কর ডাল ৪০-৪৬, ছোলা ৬০-৬৫ এবং আলুর কেজিপ্রতি দর ছিলো ১৬-২২ টাকা। খোলা আটা কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ২৮-৩২ টাকা এবং প্যাকেট আটা ৩৪-৩৬ টাকা, ময়দা ৩৬-৪৫ টাকা, লুজ সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০-৮২, ১ লিটার সয়াবিন তেলের বোতল ৯৩-১০০ এবং ৫ লিটারের বোতল ৪৫০-৪৮০ টাকা, লুজ পাম অয়েল লিটারপ্রতি ৫৮-৬০ এবং সুপার পাম অয়েল ৬১-৬৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

চালের বাজারে গত সপ্তাহের ধারাবাহিকতা গতকালও বজায় ছিলো। বাজারে সরু চাল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৮-৫২ টাকায়, সাধারণ মানের নাজির/মিনিকেট ৩৮-৪৬ টাকায় এবং উত্তম মানের ৪৬-৫২ টাকায়, সাধারণ মানের পাইজাম/লতা ৩৬-৪২ এবং উত্তম মানের ৪২-৪৪ টাকা এবং মোটা চাল স্বর্ণা ও চায়না ইরি বিক্রি হয়েছে ৩০-৩৪ টাকায়। গত সপ্তাহে এই চালগুলোর কেজিপ্রতি মূল্য একই ছিলো।

শুভ সমরাটপ্রথম পাতা
সাধারণ মানুষ, ক্রেতা, বিক্রেতা ও বাজার সংশ্লিষ্ট সকলকে অবাক করে এখনো স্থিতিশীল রয়েছে নিত্যপণ্যের বাজার। পবিত্র রমজান মাসের আগে প্রচলিত ধারা অনুযায়ী বাজার পরিস্থিতিতে হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হলেও এবার তা ঘটেনি। দামের কিছুটা হেরফের হলেও অধিকাংশ পণ্যের দরই রয়েছে অপরিবর্তিত। রোজার আগে বাজারের প্রচলিত অস্থিরতার পরিবর্তন প্রসঙ্গে খুচরা ও...