999
আইয়ুব আলী, চট্টগ্রাম ব্যুরো : ব্যাপক দূষণের মুখে পড়েছে হালদা নদী। শিল্প কারখানার বর্জ্য, ফসলি জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক নিঃসরণ, মানববর্জ্য, হাট-বাজার, পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য ইত্যাদি মিলে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন এশিয়ার একমাত্র মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র এ নদী। প্রতিদিন শিল্প-কারখানার বর্জ্য পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে রুই, কাতলা জাতীয় মাছের প্রজনন। যেখান থেকে রুই জাতীয় মাছের সরাসরি নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। জেলে ও ডিম সংগ্রহকারীরা এ নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করলেও বিগত কয়েক বছর ধরে দূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দূষণের সাথে সাথে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী হালদা নদী ক্রমাগত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। হালদা নদীর খালগুলো দিয়ে প্রতিদিন ব্যাপক বর্জ্য পড়ছে নদীতে। হাটহাজারীর খন্দকিয়া, বাথুয়া, কাটাখালীসহ বিভিন্ন খাল দিয়ে প্রতিদিন শিল্প-কারখানার বর্জ্য পড়ছে এ নদীতে। একদিকে শিল্প-কারখানার বর্জ্য, অপরদিকে রাবার ড্যাম নির্মাণ, বাঁক কাটা, বালি উত্তোলন ও লবণ পানির কারণে রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননে ব্যাঘাত ঘটছে। এখন হালদা নদীর বিরাট অংশজুড়ে কালো রঙ ধারণ করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর চান্দগাঁও বাহার সিগন্যাল এলাকায় আশপাশের শিল্প-কারখানা ও অক্সিজেন এলাকার চামড়ার ট্যানারির ব্যাপক বর্জ্য প্রতিদিন খন্দকিয়া খাল হয়ে হালদা নদীতে পড়ছে। এছাড়া বাথুয়া খাল ও কাটাখালী খাল দিয়ে নদীর অদূরে গড়ে ওঠা পেপার মিল ও হাটহাজারী সদরের পিকিং পাওয়ারের বর্জ্য পড়ছে এ নদীতে। হালদার উজানে ফটিকছড়ি, নারায়ণ হাট ও নাজিরহাটের মতো বেশকিছু বড় বড় বাজার ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের প্রচুর বর্জ্য নদীতে পড়ে। এছাড়া নদীর দুই পাড়ের কৃষি, বাজার ও পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য হালদা নদীতে অবাধে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর রুই জাতীয় ভূজপুর ও হারুয়ালছড়ি দুটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করায় নদীর স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন, লবণ পানির আগ্রাসন, মা মাছ নিধন ও হাটহাজারীর হালদা প্যারালাল ইরিগেশন প্রজেক্ট চালুসহ বেশকিছু কারণে হালদার পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত ট্যানারি, পেপার মিল, বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বিভিন্ন হাটবাজারের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে হালদা। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো সজাগ না হলে দূষণরোধ করা সম্ভব নয়। হালদা রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, ট্যানারি ও শিল্প-কারখানার বর্জ্যে ক্রমাগত দূষণ হলে হালদা একদিন বুড়িগঙ্গার ভাগ্য বরণ করতে পারে। হালদাকে দূষণ থেকে রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী ভূমিকা জরুরি। তিনি জানান, ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোঃ রইছউল আলম ম-লের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি সরকারি টিম হালদা নদী ও এর শাখা খাল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দূষণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

হীরা পান্নাস্বদেশের খবর
আইয়ুব আলী, চট্টগ্রাম ব্যুরো : ব্যাপক দূষণের মুখে পড়েছে হালদা নদী। শিল্প কারখানার বর্জ্য, ফসলি জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক নিঃসরণ, মানববর্জ্য, হাট-বাজার, পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য ইত্যাদি মিলে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন এশিয়ার একমাত্র মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র এ নদী। প্রতিদিন শিল্প-কারখানার বর্জ্য পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে রুই,...