15
পুরনো ভুলেই হারল বাংলাদেশ

কোনো ভুলই শুধরানো হয়নি। একই ভুল বার বার না করার জন্য যে মন্ত্র ফুটবলারদের শেখানো হয়েছিল তার কোনোটাই মাঠে দেখা যায়নি। আবার সেই সেটপিস থেকেই গোল হজম করেছে ক্রুইফের দল। আবার সেই বিপজ্জনক জায়গায় ফাউল করে পেনাল্টি দিয়েছে বাংলাদেশ। মাঠে নামানোর আগে যা কিছু শিখিয়ে পড়িয়ে দেয়া হয়েছিল তার কোনো কিছুই কাজে লাগেনি। দিন শেষে ম্যাচের স্কোর হচ্ছে বাংলাদেশ ১-৩ গোলে হেরেছে কিরগিজস্তানের কাছে। রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল এবং এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাইটায় শুরু হলো হার দিয়ে। অথচ ঘরের মাঠের ম্যাচটা জয়ের স্বপ্ন ছিল খেলোয়াড়দের চোখে। স্বপ্ন থাকলেই হয় না, বাস্তবতার সাথে মিল থাকতেও হয়। বাংলাদেশের ফুটবলারদের সাথে কিরগিজ ফুটবলারদের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। স্কিলের কাছে হারতে হয়েছে মামুনুলদের। কিভাবে বিপদে ফেলে খেলতে হয় তার ছবিটাই তুলে ধরেছে কিরগিজ ফুটবলাররা। শারীরিক সামর্থ্য নেই, বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল নেই। পরিস্থিতি অনুসারে কখন কোথায় কি করতে হবে সেটা সময়মতো করতে পারছে না। ক্রুইফ খুবই নাখোশ খেলোয়াড়দের ওপর। যেভাবে খেলানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে তার কোনোটাই কাজে লাগেনি।

বাংলাদেশের ফুটবলার গত কয় মাসে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচ খেলেছে। আর কিরগিজস্তান গত এগার মাসে একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলেনি বলে জানিয়েছে তারা। এই ব্যবধানের মধ্যেও কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে হারিয়ে কিরগিজদের মুখে হাসি ফুটেছে। অনেকে তারা আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখে না। জয় দেখছে না। অনেক প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কিরগিজরা কাল ম্যাচ জিতলো। আর তা দেখে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কিছু কিরগিজ সমর্থক আনন্দিত মনে বাড়ি গেছেন।

পুরো দেশ জুড়ে গরমে ক্লান্ত ছিলেন মানুষ। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিকাল তিনটার ম্যাচ ফিফার অনুমোদন নিয়ে বিকাল ৫টায় করা হলো। গরমটা বিকালে কমবে। কিন্তু কাল পুরো দেশ জুড়ে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তাতে রাস্তায় হাঁটুজল দেখা গেছে। আবহাওয়া ঠাণ্ডা হওয়ায় বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য ভালো হয়েছে। মামুনুলদের জন্য যতটা ভালো হয়েছে তার চেয়ে ঢের বেশি সুবিধা হয়েছিল কিরগিজদের জন্য। কিন্তু কিরগিজদের রাশিয়ান কোচ আলেক্সান্ডার ক্রিষ্টিনিন বলেন, ‘আবহাওয়া কোনো ব্যাপার না।’

অনেক প্রত্যাশার ম্যাচ ছিল কাল। পূর্ব অভিজ্ঞতায় প্রত্যাশার জাল বুনেছিল বাংলাদেশ। যদি ম্যাচটায় জয় এসে যায় তাহলে সেটা মঙ্গলই হবে। কিন্তু সেটা তো হলো না। কিরগিজ ফুটবলাররা পোলিশ লিগে খেলেছে। কেউ জার্মান লিগে এবং ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলে বেড়ায়। তাদের ব্যাসিক ফুটবলের সাথে বাংলাদেশের ফুটবলারদের পার্থক্যটা অনেক, সেটা মাঠের লড়াইয়ে না নামলে বুঝা যায় না। তারপরও একটা কথা সবার চোখে পড়ে, নিত্যনৈমিত্তিক যে ভুলগুলো করে থাকে বাংলাদেশ সেটা যেন না হয়, কথাটা বহুবার কানে তুলে দিয়েছিলেন ক্রুইফ। বক্সের বাইরে ফাউল করা যাবে না। কিন্তু মাঠে নেমে ক্রুইফ মন্ত্র ভুলে যান খেলোয়াড়রা। ম্যাচের মাত্র সাত মিনিট বয়স। ক্রুইফের প্রিয় ফুটবলার হেমন্ত সর্বনাশ করে বসলেন। কিরগিজস্তানের ফুটবলারকে অহেতুক ফাউল করে বসলেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিঙ্গাপুরের রেফারী সুখবির সিং বল থামালেন। সার্বিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার কিরগিজস্তানের জামলুহিয়ান এন্টন সেটপিস থেকে গোল করলেন ১-০। বৃষ্টি ভেজা মাঠ, যেখানে বাংলাদেশ ভালো খেলবে। প্রতিপক্ষের খেলা নষ্ট হবে। তা তো হলো না বরং কন্ডিশনের দিক থেকে কিরগিজদের জন্যই ভালো হলো বলা যায়। সাত মিনিটের গোলের পর দ্বিতীয় গোল পেলো কিরগিজস্তান। এই গোলটি পেনাল্টি থেকে হলেও এবং এটি এড়িয়ে গেলেও কিছু করার ছিল না। কারণ ইয়ামিন মুন্নার ফাউলটা বিপজ্জনক ছিল না। ভিডিও ফুটেজে দেখে মনে হচ্ছিল পেনাল্টি আদায় করে নিয়েছেন কিরগিজস্তানের ফরোয়ার্ড মাইয়ের ভিক্টর। রেফারী সুখবিরও যেন প্রস্তুত ছিলেন। পেনাল্টি থেকে বার্নহার্ড এগারের শটটা গোলকিপার লিটন ঠেকিয়েই দিয়েছিলেন প্রায়। হাতে লেগে জালে ঢুকে যায় বল ২-০। বাংলাদেশ প্রথম গোলের পরই রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত। পাল্টা আক্রমণ করে গোলের সুযোগ করে বাংলাদেশ। ৩১ মিনিটে অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের বল কিরগিজস্তানের ডিফেন্ডার কিচিনের মাথায় লেগে গোল হয় ১-২। রেফারী মামুনুল ইসলামের নামে গোল দেয়নি। আত্মঘাতী গোল দিয়েছে। পুরো ম্যাচে মামুনুল ইসলাম এবং জামাল ভুঁইয়াকে চোখে পড়েছে। এনামুল দুই-একটি ভুল করলেও তাকে বলের সাপ্লাইটা দিতে পারেনি তার সহযোগীরা। গোল করার দায়িত্ব ছিল স্ট্রাইকার এমিলির ওপর। তিনি ছিলেন সুপার ফ্লপ। ৯০ মিনিটে তার পায়ে বলই দেখা যায়নি। গোলমুখে একটা শটও তো দূরের কথা, টোকা মারতেও দেখা যায়নি। ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন অথচ কাদা মাঠে থেকেও জার্সিতে দাগ পড়েনি। দায়িত্ব নিয়ে ফুটবল খেলতে না পারলেও তাকেই বার বার সেরা একাদশে রেখে বাধ্যতামূলকভাবে ১০ জনের শক্তি নিয়ে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। কিরগিজ ডিফেন্ডারদের একটা বারের জন্যও বিপদে ফেলতে পারলেন না এমিলি। গোলকিপারকে বলই ধরতে হয়নি। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, কিরগিজ ডিফেন্ডাররা এমিলিকে নজরেই রাখার প্রয়োজন মনে করেনি। তাকে ফ্রি ছেড়ে দেয়ার পরও এমিলি সে সুযোগ নিতে পারলো না। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৩-১ স্কোর হয়ে যায়। ৪১ মিনিটে দুর্দান্ত একটা গোল করেছেন কিরগিজস্তানের সেই ফরোয়ার্ড এন্টন ৩-১।

ম্যাচটা ৩-১ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে। কখনো কখনো কিরগিজদের গোলমুখেও হানা দিয়েছে। আর তাতেই উল্লাসধ্বনি শোনা গেলো গ্যালারিতে আসা দর্শকদের। কয়েক হাজার দর্শক মাঠে ছিলেন মামুনুল, নাসির, এনামুল, সোহেল রানা, হেমন্ত, তপুর বর্মনদের সমর্থন দিতে। কিরগিজস্তান যেখানে দাঁড়িয়ে সেটপিস থেকে গোল আদায় করেছে। সেই একই জায়গায় বাংলাদেশও বল পেয়েছিল দুইবার। কিন্তু গোল করতে পারেনি। যেটা পেরেছে কিরগিজস্তান। আজ সকালে কিরগিজস্তান চলে যাবে, ১৬ জুন ম্যাচ খেলার জন্য তাজিকিস্তান আসবে ১৪ জুন।

শুভ সমরাটখেলাধুলা
পুরনো ভুলেই হারল বাংলাদেশ কোনো ভুলই শুধরানো হয়নি। একই ভুল বার বার না করার জন্য যে মন্ত্র ফুটবলারদের শেখানো হয়েছিল তার কোনোটাই মাঠে দেখা যায়নি। আবার সেই সেটপিস থেকেই গোল হজম করেছে ক্রুইফের দল। আবার সেই বিপজ্জনক জায়গায় ফাউল করে পেনাল্টি দিয়েছে বাংলাদেশ। মাঠে নামানোর আগে যা কিছু শিখিয়ে পড়িয়ে...