শিরোনাম
ইসিকে হেয় অপদস্ত করার জন্য সবই করছেন মাহবুব তালুকদার : সিইসিকরোনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ১২ শতাংশনির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকছে না : মাহবুব তালুকদারসুস্থ মুশতাকের হঠাৎ মৃত্যু অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে : ড. কামালবেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বন্ধ পাটকল চালুর নীতিতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিস্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় এলো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীবিমান বাহিনীর বার্ষিক শীতকালীন মহড়া ‘উইনটেক্স-২০২১’ শুরুপ্রকল্প পরিচালকদের এলাকায় অবস্থান করতে হবে : শিল্পমন্ত্রীপাহাড়ে খালি সেনাক্যাম্পে পুলিশ মোতায়েন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীবীমা পদ্ধতির আধুনিকায়নে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

জয়পুরহাটে বেরইল গ্রামের প্রায় ৬শ’ পরিবারের জীবিকার উৎস

1439579414
মাছ ধরার যন্ত্র খলসানি বা চাঁই তৈরি করে শত বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে জয়পুরহাটের বেড়ইল গ্রামের প্রায় ৬ শ পরিবার। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে সরবরাহ করা হয়ে থাকে । বছরের ৬ মাস তাদের ব্যবসা ভাল চললেও বাকী ছয় মাস অভাব-অনটনে কাটে তাদের সময়। তারপরও বাপ-দাদার এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন ওই গ্রামের মানুষ।
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই জেলার বেড়ইল গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন বাঁশের তৈরি মাছ ধরার বিশেষ এক ধরনের ফাঁদ খলসানি বানানোর কাজে। স্থানীয়ভাবে এর নাম খলসানি হলেও কোথাও কোথাও চাঁই বা ঢেউল নামেও পরিচিত এই যন্ত্রটি। জৈষ্ঠ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত খলসানি বিক্রি থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে আনন্দে দিন কাটে তাদের। বছরের বাকি ৬ মাস অন্য কাজ করে কোন মতে সংসার চালাতে হয় বলে জানালেন বেরইল গ্রামের খলসানি তৈরিকারক ও বিক্রেতা সুকুমার চন্দ্র।
একসময় জেলার বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর-দিঘী ও ধানক্ষেত পানিতে পরিপূর্ণ ছিল। তাই বাঁশের তৈরি মাছ ধরার খলসানির ব্যাপক চাহিদা ছিল। এখন আর সে অবস্থা নেই। সে স্থান দখল করে নিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির কারেন্ট জাল। ফলে হাট-বাজারে খলসানির আমদানির তুলনায় বেঁচা-বিক্রি কম বলে জানালেন খলসানি বিক্রেতা মোকলেছার রহমান। তবে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখানকার তেরি খলসানির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রুচির পরিবর্তন আর যান্ত্রিকতার দাপটের পরেও এই হস্তশিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য শত বছরের পুরনো বাপ-দাদার এ পেশাকে আঁকরে ধরে বাঁচার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বেরইল গ্রামের এই দরিদ্র পরিবার গুলো। সরকারি – বেসরকারি পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগীতা বা ঋণের সুবিধা পেলে তাদের এ পৈত্রিক ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারন করা সম্ভব হতো বলে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, খলসানি তৈরি কারক বিনয় চন্দ্র।
খলসানি তৈরীর কারিগরদের তালিকা তৈরি করে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখবেন বলে জানান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বিসিক জয়পুরহাটের উপ-ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিক।
সরকারী-বেসরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে একদিকে যেমন রক্ষা পাবে এই নান্দনিকতা পুর্ন হস্তশিল্পটি অন্যদিকে খলসানী তৈরির কারিগররা খুজে পাবে স্বাবলম্বী হবার পথ, এমন প্রত্যাশা করছেন বেরইল গ্রামের এই দরিদ্র পরিবার গুলো।