প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণে তেমন কাজে আসবে না : রওশন এরশাদ

image_231978.rowshon-ershad
২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু ভালো দিক যেমন রয়েছে তেমনি কিছু খারাপ দিকও আছে। তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় এ বাজেট জনকল্যাণে তেমন একটা কাজে আসবে না। এ মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। একই সঙ্গে বাজেট নিয়ে সংসদে সমালোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, নুরুল ইসলাম ওমর, ফখরুল ইমাম, সেলিম উদ্দিন।

বাজেটে মোবাইল ফোনকলের ওপর অতিরিক্তি চার্জ আরোপের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমাদের প্রয়োজনী যোগাযোগর জন্য মোবাইলে কথা বলতে হয়। নতুন বাজেটে ১০০ টাকা রিচার্জ করলেই ২০ টাকা ‘কর’ দিতে হবে। এই ‘কর’ না বাড়ালে ভাল হতো।

রওশন এরশাদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ শতাংশ। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে না পারলে এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। অর্থমন্ত্রী স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন, স্বপ্ন দেখাতে ভালোবাসেন। তাই সীমিত আয়ের মধ্যেও এতো বড় আকারের বাজেট দিতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো দেওয়া হলো। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাজারে দ্রব্যর মূল্যের ওপর প্রভাব পড়বে। বাড়বে জিনিসপত্রের দাম। এতে ভুক্তভোগী হবেন সাধারণ মানুষ। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে এর কোন দিক নির্দেশনা নেই। শুধুমাত্র কতগুলো কাগজের নোট ছাপালেই তো হবে না?

ব্যাংক সুধের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার সুপারিশ করে রওশন বলেন, আমাদের অনেক বেসরকারি বিনিয়োগকারী আছেন যারা শুধুমাত্র ব্যাংক সুদের কারণে বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ব্যাংক সুধের হার ৮ থেকে ৯ শতাংশে আনার প্রস্তাব করেন তিনি।

এ ছাড়াও জাতীয় পার্টির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে কোনো কল্যাণই সম্ভব হবে না। দেশের পরিস্থিতি বেসরকারি বিনিয়োগ বান্ধব নয়। তাছাড়া দেশে বিদেশি বিনিয়োগও কমে গেছে। এজন্য রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানান তিনি।