শিরোনাম
ইসিকে হেয় অপদস্ত করার জন্য সবই করছেন মাহবুব তালুকদার : সিইসিকরোনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ১২ শতাংশনির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকছে না : মাহবুব তালুকদারসুস্থ মুশতাকের হঠাৎ মৃত্যু অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে : ড. কামালবেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বন্ধ পাটকল চালুর নীতিতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিস্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় এলো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীবিমান বাহিনীর বার্ষিক শীতকালীন মহড়া ‘উইনটেক্স-২০২১’ শুরুপ্রকল্প পরিচালকদের এলাকায় অবস্থান করতে হবে : শিল্পমন্ত্রীপাহাড়ে খালি সেনাক্যাম্পে পুলিশ মোতায়েন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীবীমা পদ্ধতির আধুনিকায়নে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

জেলের জালে ইলিশ নেই

86576_x3
পদ্মা ও মেঘনা। ইলিশ নেই। অথচ মওসুম পার হতে চললেও এখনও নদীতে ইলিশ মাছ না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে জেলেরা। ফলে দাদন ব্যবসায়ী ও এনজিও ঋণের চাপে দিশাহারা হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন জেলেরা। ভেদরগঞ্জ উপজেলার তারাবুনিয়া এলাকার জেলে মজিবুর রহমান ও গৌরাঙ্গবাজার এলাকার জেলে আবদুর রহিম বকাউল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, সরকারি হিসাব মতে শরীয়তপুর জেলার চরাঞ্চলের প্রায় ১৬ হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। বেসরকারি হিসাব মতে, জেলে পরিবারের সংখ্যা অন্তত ২৫ হাজারেরও বেশি। সারা বছর পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মধ্যে ইলিশ মাছই তাদের মূল নিয়ামক। তাদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বনই হচ্ছে মাছ। এ বছর ইলিশ মওসুমের প্রায় আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র- এ তিন মাস পার হতে চলছে এখনও নদীতে ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে না। তাই অতি কষ্টে চলছে জেলেদের জীবন। দাদন ব্যবসায়ী ও এনজিওর ঋণের লাখ লাখ টাকা পরিশোধ করতে না পেরে মহাজনের চাপে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। বাংলাদেশে যে কয়টি স্থানে মিঠাপানির সুস্বাদু ইলিশ উৎপাদন হয়, শরীয়তপুরের জলসীমায় অবস্থিত পদ্মা ও মেঘনা নদী তার অন্যতম। ভেদরগঞ্জ, গোসাইরহাট, নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলাকে বেষ্টিত করে রেখেছে পদ্মা ও মেঘনা নদী। এই প্রমত্তা নদীর তীর ঘেঁষে বসবাস করছে এসব উপজেলার অন্তত ৩ লাখ মানুষ। যাদের একটা বৃহৎ অংশই সারা বছর ধরে নিয়োজিত থাকে মাছ ধরার কাজে। প্রতি বছর বড় একটা সময় ধরে ইলিশ শিকারে চলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। নভেম্বর মাস এলেই নদীতে ইলিশ ধরার ওপর বাড়ে সরকারের নজরদারি। বিভিন্ন ধাপে তা চলতে থাকে জুন মাস পর্যন্ত। এর মধ্যে কখনও মা ইলিশ না ধরা, আবার কখনও ইলিশের পোনা বা জাটকা শিকার না করা, কখনওবা ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয় নদীতে। আষাঢ় থেকে ভাদ্র- এ তিন মাস মাছ শিকারের জন্য মুখ্য সময়। তাই সারা বছরের লোকসান পুষিয়ে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে জেলেরা। কিন্তু ইলিশ ধরার ভরা মওসুমের আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস চলে গিয়ে ভাদ্র এসে দরজায় কড়া নাড়লেও কোন নদীতেই জালে ইলিশ আটকাতে পারছে না জেলেরা। হতদরিদ্র জেলে, জাল ও নৌকার মালিকরা জানালেন তাদের অসহায়ত্বের কথা। তারা বিভিন্ন এনজিও আড়ৎ মালিকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ আর দাদন নিয়ে তা পরিশোধ করতে পারছে না। নদীতে ইলিশ ধরা না পড়ায়, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে জেলে। সকাল থেকে বিকাল, সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত নদীর এপার থেকে ওপার, তারাবুনিয়া থেকে চাঁদপুর আর চাঁদপুর থেকে ভোলার তজুমদ্দিন পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার কোথাও জাল ফেলে আটকাতে পারছেন না স্বপ্নের ইলিশ। ফলে দুর্ভিক্ষের মতো সময় পার করছেন জেলেরা। শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোসীন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, নদীতে পানি প্রবাহ কম থাকা এবং সাম্প্রতিক অতি বর্ষণে ইলিশ মাছ নদীর গভীরে চলে যাওয়ায় ভরা মওসুমেও ইলিশ ধরা পড়ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাবে ও এমনটি হতে পারে। নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে পদ্মা-মেঘনায় পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করা যায় ।