du01
বিভিন্ন ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি বেদখলে যাওয়ার ফলে সংকুচিত স্থানে নতুন নতুন ভবন তৈরির ফলে ঘিঞ্জি হয়ে যাচ্ছে পরিবেশ। তাই বারবারই দাবি আসছিল ঢাকার বাইরে নতুন একটি ক্যাম্পান তৈরির। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় ক্যাম্পাস স্থানান্তরের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করলেও আলোর মুখ দেখেনি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস সূত্রে জানা যায়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেকটা নীতিগতভাবে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জন্য সম্মত হয়। তৎকালীন প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আফম ইউসুফ হায়দারকে প্রধান করে একটি মাস্টারপ্লান কমিটিও করা হয়। এজন্য রাজধানীর পূর্বাচলকে বেছে নেয়া হয়। কিন্তু জায়গা সংকটের কারণে পূর্বাচলের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের স্বপ্ন ভেস্তে যায়। তবে সান্ত্বনাস্বরূপ এখনো দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বিকল্প হিসেবে আশুলিয়া ও সোনারগাঁ এলাকাকে ভাবা হচ্ছে। পূর্বাচলে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে ২০ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাও বাস্তবায়িত হয়নি এখনো।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ক্রমশ ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিধি বিস্তারের ফলে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে যে জমিটুকু দরকার তার জন্য কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, কখনো বা খোলা জায়গায় ভবন নির্মাণ করে ক্যাম্পাসের মূল নকশা তছনছ করে ফেলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পাশে অডিটরিয়াম নির্মাণের জন্য প্রায় অর্ধশত গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। এর আগে লাইব্রেরির সামনে ফারসি স্টাডিজ সেন্টারের ভবন নির্মাণের জন্য অনেক গাছ কাটা হয়। মধুর ক্যান্টিনের পাশে বেশকিছু গাছ কেটে বহুতল বিশিষ্ট সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। জগন্নাথ হলের পাশেও গাছ কেটে বর্ধিত ভবন নিমাণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে এখন যে পরিমাণ গাছ রয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে এবং জমি সংকটের কারণে এ গাছগুলোও বিভিন্ন সময় কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে দিন দিন ক্যাম্পাস তার বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। হয়ে উঠছে ঘিঞ্জি। এখনো পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রশাসন বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বরং প্রশাসন ক্যাম্পাস থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

জমি ফিরিয়ে নিতে কয়েক দফা উদ্যোগ: বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস সূত্র জানায়, ১৯৩৬ সাল থেকে হুকুম দখল করা জমি ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছে দেনদরবার শুরু করে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে যথারীতি এ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এরশাদ সরকারের পতনের পর গণতান্ত্রিক সরকারের আমলের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ ১৯৯২ সালের জুলাই মাসে হুকুম দখল করা জমি সরকারের কাছে ফেরত দাবি করেন। তবে এর আগে ১৯৯০ সালের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাঁটাবনের জমি ও দোকানপাট সংক্রান্ত কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তর করা হয়। নিমতলী যাদুঘর এলাকা ও ভবন প্রাপ্তির চেষ্টাও ফলপ্রসূ হয়। এ বিষয়ে ১৯৯০ সালের অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তক্রমে জাদুঘর ভবনসহ ঐ এলাকা বিশ্ববিদ্যালয় দখলে নেয় ডিসেম্বরের প্রথম দিকে।

পরের উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদও বিশ্ববিদ্যালয়ের দখল হওয়া জমি ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি এক পত্রে সরকারের দখলে রাখা জমি এবং বিচারপতি ফজলে আকবর কমিশনের সুপারিশকৃত ৬৩ একর জমিসহ মোট ২১০ একর জমি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়ার দাবি জানান। তিনি নীলক্ষেতে অবস্থিত বর্তমান নিউমার্কেট থানার ২ একর ৬৮ শতাংশের খাস জমি, কার্জন হলের পূর্বদিকে ওসমানী উদ্যান ও ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন বাদে রেলওয়ের ২৪ একর ৩৯ শতাংশ জমি, আনন্দবাজারের ৭ একর ২৩ শতাংশ জমি এবং কর্মজীবী হাসপাতালের পূর্বদিকের ৩ একর ১৯ শতাংশ জমি ফেরত চান। বাকি জমি তিনি ১৯৬১ সালে টঙ্গিতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের যে জায়গা নির্ধারিত হয়েছিল সেখানে দাবি করেন। একইভাবে পূর্বের উপাচার্যদের মতো অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীও ১৯৯৭ ও ১৯৯৯ সালে মোট দুইবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া জমি দাবি করে সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। তিনি বেদখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে তা উদ্ধারের জন্য তৎপর হন। এছাড়াও পরবর্তী উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ জমি ফেরত চেয়ে সরকারকে পত্র দেন।

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকও জমি উদ্ধারের ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

১৯৬১ সালে সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তখন টঙ্গির ফৈজাবাদ, পুরাকর ও দক্ষিণখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ১ হাজার একর জমি একুইজিশন করা হয়। এ জমির মূল্য তখন ধার্য করা হয়েছিল ৩২ লাখ টাকা, যার মধ্যে ২০ লাখ টাকাই পরিশোধ করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস তৈরি এখন সময়ের ব্যাপার। এর আগেও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। বিভিন্ন কারণে হয়ে উঠেনি। তবে আশা করি শীঘ্রই আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব।

তুনতুন হাসানপ্রথম পাতা
বিভিন্ন ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি বেদখলে যাওয়ার ফলে সংকুচিত স্থানে নতুন নতুন ভবন তৈরির ফলে ঘিঞ্জি হয়ে যাচ্ছে পরিবেশ। তাই বারবারই দাবি আসছিল ঢাকার বাইরে নতুন একটি ক্যাম্পান তৈরির। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় ক্যাম্পাস স্থানান্তরের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করলেও আলোর মুখ দেখেনি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস...