10
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা ।
ডাক্তার থাকলেও আসেন না, মিলে না সাধারণ কোনো ওষুধও। আয়া আর প্রহরী মিলে খোলা রাখেন হাসপাতাল। ডাক্তার ও ওষুধ না পাওয়ায় আসেন না রোগীরাও। এমন অবস্থায় চলছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পেতেও এলাকার মানুষকে ছুটতে হয় পল্লী চিকিৎসক কিংবা জেলা সদরের হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে। সরজমিন হাসপাতাল ও এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
গত ৫ই নভেম্বর বেলা পৌনে ১১টায় হাসপাতালটির মূল ফটক খোলা পেয়ে ভেতরে গিয়ে দেখা গেল, ডাক্তারের কক্ষে তালা ঝুলছে। কক্ষের দরজার ওপরে সাঁটানো কম্পোজ করা কাগজে ডাক্তারের নাম ও মোবাইল নম্বর। জানা গেল, হাসপাতালটিতে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ডাক্তারের নাম মো. খলিলুর রহমান। পাশের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার কক্ষের দিকে এগোতেই দেখা মিললো এক নারীর। তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানালেন, তার নাম ফাতেমা আক্তার শিরিন। তিনি হাসপাতালটির আয়া। ডাক্তার সাহেব কোথায় আছেন জিজ্ঞেস করতেই তিনি জানালেন, তিনি স্যাটেলাইট ডিউটিতে আছেন। হাসপাতালে আর কে আছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, ভিজিটর আপা একটি ডেলিভারি কেইসের ডাক পেয়ে সকাল সোয়া ১০টার দিকে পাশের চরপাড়া গ্রামে গেছেন। সেটি শেষ করেই ফিরে আসবেন। ওই কক্ষের দরজার ওপরের নেমপ্লেটের লেখা দেখে জানা গেলো, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার নাম শামীমা আক্তার ঝর্ণা। আয়া ফাতেমা আক্তার শিরিনের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে হাসপাতালে ঢুকেন নিরাপত্তা প্রহরী হারুন-অর-রশীদ। তিনিও জানান, ডাক্তার সাহেব আজ স্যাটেলাইট ডিউটিতে রয়েছেন। তিনি আরো জানান, ডা. মো. খলিলুর রহমান সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এবং পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শামীমা আক্তার ঝর্ণা সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার স্যাটেলাইট ডিউটি করেন। তিনি তার কথার সমর্থনে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার টেবিলের ড্রয়ার থেকে মুভমেন্ট রেজিস্ট্রার বের করেও দেখান। হাসপাতালে কোনো রোগী নেই কেন জানতে চাইলে তারা দু’জনেই জানান, ১২টার পর রোগীরা আসে। এছাড়া আজ (শনিবার) বন্ধের পর প্রথম খোলা বলেও রোগীরা আসতে দেরি করছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০/৬০ জন রোগী হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসেন বলেও আয়া ফাতেমা আক্তার শিরিন এবং নিরাপত্তা প্রহরী হারুন-অর-রশীদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, হাসপাতালের সামনের মহিনন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে কথা হলে তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানায়, কাছেই গালিমগাজী বাজার, সেখানে লোকজন পাবেন। হাসপাতালের সামনের কাঁচা রাস্তা ধরে গালিমগাজী বাজারে ঢুকতেই মোস্তফার চা দোকানে বেশ কয়েকজনকে পাওয়া যায়। হাসপাতাল সম্পর্কে কথা তুলতেই তারা হাসপাতালের দুরবস্থার বিবরণ এবং সেবা সম্পর্কে নানান অভিযোগ করতে থাকেন। চাদোকানী মোস্তফা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, এই হাসপাতালে কোনো ওষুধও নেই, ডাক্তারও নেই। গালিমগাজী গ্রামের আবদুস সাত্তার রেগে গিয়ে বলেন, তিনি তার গর্ভবতী স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু একটি আয়রণ ট্যাবলেট পর্যন্ত তাকে দেয়া হয়নি। নাথপাড়া গ্রামের যুবক মিঠুন দেবনাথ জানান, হাসপাতালে গেলে ডাক্তার পাওয়া যায় না। হঠাৎ কোনো দিন ডাক্তার পাওয়া গেলেও ওষুধ পাওয়া যায় না। একই গ্রামের আফতাব উদ্দিন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার-ওষুধ কিছুই পাওয়া যায় না। এই কারণে হাসপাতালে এখন রোগীও যায় না। সেখান থেকে এগিয়ে ফরিদ মিয়ার চা দোকানে গিয়ে আরো বেশ কয়েকজনকে পাওয়া যায়। হাসপাতালের সেবা সম্পর্কে তাদেরও অভিন্ন অভিযোগ। স্থানীয় সাইদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, হাসপাতালের সাইনবোর্ড থাকলে কি হবে, কাজ তো লাগবে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদস্য মঞ্জিল মিয়া ও ষাটোর্ধ্ব গোমেজ আলীও ওষুধ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন। সেখানে পরিচয় হয় ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবুল কাশেম ভূঁইয়ার সঙ্গে। তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানালেন, মাসখানেক আগে মহিনন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুনসুর আলী হাসপাতালটি পরিদর্শন এসে পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। নোংরা, দুর্গন্ধময় হাসপাতালটিই যেন এক বড় রোগী। হাসপাতাল ভবনের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ গেলেও হাসপাতালটিতে বিদ্যুৎ পর্যন্ত নেই। অনেকেই বলেন, এই হাসপাতালে কোন ডাক্তার কাজ করেন, সেটিও জানেন না তারা। দুপুর সাড়ে ১২টায় হাসপাতালে কোনো রোগীকে পাওয়া যায়নি। তখন নিরাপত্তা প্রহরী হারুন-অর-রশীদের কাছে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শামীমা আক্তার ঝর্ণা ফিরেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো ফিরেননি। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে দুপুর সোয়া ১টার দিকে এই প্রতিবেদকের মোবাইলে কল করেন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শামীমা আক্তার ঝর্ণা। তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘শুনেছি আপনি এসেছেন। এখন কোথায় আছেন? আমি এখন হাসপাতালে আছি।’ এদিকে এ প্রতিবেদকের হাসপাতাল পরিদর্শনের খবর পেয়ে দেড়টার দিকে শহরে এসে প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করেন মহিনন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. খলিলুর রহমান। তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, স্বাস্থ্য শিক্ষা দেয়ার কাজে তিনি মহিনন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে ছিলেন। তিনি নিয়মিত হাসপাতালে যান দাবি করে বলেন, সরকারিভাবে ছয় মাস হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এ কারণে এলাকাবাসী কোনো ওষুধ পায়নি। গত অক্টোবর মাস থেকে ওষুধ সরবরাহ শুরু হয়েছে যা সেবা গ্রহীতাদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। তবে যে পরিমাণ ওষুধ পাওয়া যায়, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ওষুধ শেষ হয়ে গেলে রোগীরাও আর সেভাবে হাসপাতালমুখী হন না। এরপরও কেবল গত অক্টোবর মাসেই মোট ৪৫৯ জন নারী-পুরুষকে সেবা দেয়া হয়েছে। হাসপাতালটিতে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম বেশ ভালোভাবে চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে ডা. মো. খলিলুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, অক্টোবর মাসে ২৭২ জনের মাঝে খাবার বড়ি, কনডম, ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৮২ জন শিশু, ৯১ জন কিশোর-কিশোরী এবং ১৫ জন গর্ভবর্তীসহ মোট ৬০ জন নারীকে গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা দেয়া হয়েছে।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2016/11/1023.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2016/11/1023.jpgসুরুজ বাঙালীএক্সক্লুসিভ
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা । ডাক্তার থাকলেও আসেন না, মিলে না সাধারণ কোনো ওষুধও। আয়া আর প্রহরী মিলে খোলা রাখেন হাসপাতাল। ডাক্তার ও ওষুধ না পাওয়ায় আসেন না রোগীরাও। এমন অবস্থায় চলছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পেতেও এলাকার মানুষকে ছুটতে হয় পল্লী চিকিৎসক কিংবা...