444
সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন থাকলো সারাটা দিনই। এই বুঝি আকাশের কান্না অঝোর ধারায় নামলো জমিনের বুকে এমনই মনে হচ্ছিল যখন তখন। তবে এরই মধ্যে সকালে ফ্লাডলাইট থাকায় কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশ-ভারত একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি। তবে খেলার মধ্যে একপর্যায়ে আকাশের কান্না ঠিকই শুরু হলো। তাতে প্রায় চার ঘন্টার মতো বন্ধ থাকলো খেলা। চারঘন্টা খেলা বন্ধ থাকার পরও বেশ দিন শেষে বেশ উজ্জল অতিথিরাই। কেননা আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শিখর ধাওয়ানের ব্যক্তিগত ১৫০ রানের সুবাদে ভারতের সংগ্রহ ২৩৯ রান। যেখানে মুরালি বিজয়ের সংগ্রহ ৮৯ রান। আর বাংলাদেশের উইকেট প্রাপ্তির খাতা শূন্য। অর্থাৎ মেঘাচ্ছন্ন দিনে দিন শেষে আরো মলিন বাংলাদেশ। আর ফতুল্লা টেস্টের প্রথম দিনটি ভারতেরই হয়ে রইল। যেখানে শিখর ধাওয়ান ও মুরালি বিজয় গড়লেন রেকর্ড উদ্বোধনী জুটি। টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে এর আগে ভারতের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছিল দিনেশ কার্তিক ও ওয়াসিম জাফরের অধিকারে। ২০০৭ সালে ঢাকায় অবিচ্ছিন্ন ১৭৫ রানের জুটি গড়েছিলেন এই দুই জন। গতকাল বুধবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে ভালো সূচনা এনে দেন ধাওয়ান ও বিজয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ধাওয়ান আর অন্য প্রান্ত আগলে রাখার দিকেই মনোযোগ ছিল বিজয়ের। বৃষ্টির কারণে প্রায় চার ঘণ্টার জন্য খেলা বন্ধ হওয়ার আগে একমাত্র সুযোগটি পায় বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট মিডউইকেট ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান সে সময় ৭৩ রানে ব্যাট করা ধাওয়ান। ঝাঁপিয়ে পড়লেও সহজ ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি শুভাগত হোম চৌধুরী। সাড়ে এগারোটায় বন্ধ হয়ে সাড়ে তিনটায় খেলা শুরু হলেও ভারতের খেলায় কোনো ছন্দপতন ঘটেনি। ধাওয়ান, বিজয়দের খুব একটা পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। বিক্ষিপ্ত কয়েকটি এলবিডবিস্নউর আবেদন ছাড়া আর তেমন কিছু করতে পারেননি তারা।

প্রথম ঘণ্টার পানি বিরতির আগেই অর্ধশতকে পৌঁছান ধাওয়ান। ৪৭ বলে অর্ধশতক করার পথে ১০টি চার হাঁকান তিনি। নিজের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যেতে সব মিলিয়ে খেলেন ১০১ বল। শেষ পর্যন্ত ১৫০ রানে অপরাজিত থাকা ধাওয়ানের ১৫৮ বলের ইনিংসটি গড়া ২১টি চারে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লোকেশ রাহুল ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত না হলে হয়তো ফতুল্লা টেস্টে হয়তো খেলাই হতো না ধাওয়ানের। বাজে পারফরম্যান্সের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে বাদ পড়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তৃতীয় সেশনে খেলা শুরুর পর অর্ধশতকে পৌঁছান বিজয়। ৮৯ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটসম্যানের বলের ১৭৮ ইনিংসটি সাজানো ৮টি চার ও ১টি ছক্কায়। মুরলি বিজয়ের একটু আফসোস থাকতেই পারে দিন শেষে। কেন তিনি শিখর ধাওয়ানের মতো ব্যাট চালাতে পারেন না। ওপেনিং-সঙ্গীর মতো আগ্রাসী ব্যাট চালাতে পারলে হয়তো সেঞ্চুরিটা নিয়েই হোটেলে ফিরতে পারতেন তিনি। সেটা অবশ্য হয়নি। শিখর ধাওয়ানের মতো সেঞ্চুরি পাননি মুরলি বিজয়। ফতুল্লা টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের একমাত্র ‘সাফল্য’ বলতে এটিই। মুরলিকে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত রাখা! এদিকে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে প্রায় নয় বছর পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। ফতুল্লায় সর্ব প্রথম ও সর্ব শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ২০০৬ সালের ৯ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার সাথে। এরপর শুধুই অপেক্ষার প্রহর কাটে নারায়ণগঞ্জবাসীর। তবে এবার সেই অপেক্ষার অবসান হলেও খেলায় আনন্দ আর হতাশা দুই থাকছে। কেননা প্রথম দিনেই ৩৪ ওভার খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছে যদিও বৃষ্টির কারণে। এছাড়াও বাকি চারদিনের খেলারও কোন সুসংবাদ নেই খেলাপ্রেমী মানুষগুলোর জন্য। কেননা, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য, মৌসুমি বায়ু ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মধ্যভাগ অর্থাৎ ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকায় পৌঁছে গেছে। এ বায়ুর প্রভাবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ এর আশপাশের এলাকায় হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে। রাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়ও, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে নারায়ণগঞ্জে আগামী দুই-তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। দিন-রাত মিলিয়ে একাধিকবার বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর। আর তেমনটি হলে পাঁচ দিনের টেস্টে প্রতি দিনই কাটা পড়তে পারে ওভারের সংখ্যা। আর আফসোসে পরতে হবে ক্রীড়াপ্রেমীদের

তুনতুন হাসানখেলাধুলা
সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন থাকলো সারাটা দিনই। এই বুঝি আকাশের কান্না অঝোর ধারায় নামলো জমিনের বুকে এমনই মনে হচ্ছিল যখন তখন। তবে এরই মধ্যে সকালে ফ্লাডলাইট থাকায় কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশ-ভারত একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি। তবে খেলার মধ্যে একপর্যায়ে আকাশের কান্না ঠিকই শুরু হলো। তাতে প্রায় চার...