চাঁপাইনবাবগঞ্জে হুমকির মুখে ২৭ হাজার মানুষ

1438422954
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ১০০ মিটার বাঁধ ধসে গেছে। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলাসহ বাঁধ মেরামত কাজ শুরু করেনি স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে নদী ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ২৭ হাজার মানুষ।

জানাগেছে, প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যায়ে ২০১৩-১৪ সালে পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয় সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ও সুন্দরপুর ইউনিয়ন অংশে এবং শিবগঞ্জ অংশে। কিন্তু পদ্মা নদীর প্রবল পানির স্রোতে গত বুধবার চরবাগডাঙ্গা অংশে ৪ নম্বর বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার এবং ১০ নম্বর বাঁধের প্রায় ৫০মিটার এলাকা ধসে গেছে।

অন্যদিকে ১০ নম্বর বাঁধের পাশে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙনে ইতিমধ্যে মাত্র কয়েকদিনে প্রায় ১৫টি বাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে গোয়ালডুবি গ্রাম, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, বাখের আলী ও চরবাগডাঙ্গা বিওপি, গোয়ালডুবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক মসজিদ, মাদ্রসাসহ প্রায় ১৫’শ বাড়িঘর ও ফসলী জমি। শুক্রবার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহী বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মীর মোশারফ হোসেন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ভাঙন প্রতিরোধে কোনো বাস্তব উদ্যোগ নেননি। চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওমর আলী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙ্গণ প্রতিরোধে উদ্যোগ না নেয়া হলে তার ইউনিয়নে প্রায় ১২হাজার বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়বে এলাকার ২৭হাজার মানুষ।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহী বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মীর মোশারফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, অর্থের অপ্রতুলতার কারণে জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি উর্দ্ধতন মহলে জানানো হয়েছে। অশা করা যায় আচিরেই নদী ভাঙন প্রতিরোধ কাজ শুরু করা হবে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, ভাঙন যেন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে না পারে এজন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।