222মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কিশোরগঞ্জের পলাতক আসামি রাজাকার কমান্ড হাসান আলীর মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় দেন। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রায় পড়া শুরু হয়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে তা শেষ হয়। মোট ১২৫ পৃষ্ঠার রায়ে তাকে এ শাস্তি দেয়া হয়।

পলাতক হাসান আলীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জে ২৪ জনকে হত্যা, ১২ জনকে অপহরণ ও আটক এবং ১২৫টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের ছয়টি অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদন্ড ও তিনটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়। এছাড়া একটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সেটিতে তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

রায়ে বলা হয়, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা মৃত্যু পর্যন্ত গুলি চালিয়ে আসামির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে হবে। এর আগে দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত ২০ এপ্রিল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।

গতবছর ১১ নভেম্বর হাসান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। আসামির অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার কার্যক্রম চলে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ গতবছর ২১ আগস্ট হাসান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন। ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়।

পরোয়ানা জারির পরও পুলিশ হাসান আলীকে গ্রেফতার করতে না পারায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে তাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দেয় প্রসিকিউশন। তাতেও তিনি হাজির না হওয়ায় বিচারক আসামির অনুপস্থিতিতেই বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলেন। আসামির পক্ষে মামলা লড়ার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আবদুস শুকুর খানকে আইনজীবী নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

হাসান আলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন তিনি। ঐ এলাকায় তিনি পরিচিত ছিলেন ‘রাজাকারের দারোগা’ ও ‘রাজাকার ওসি’ হিসেবে।

সৈয়দ হাসান আলীর বাবা সৈয়দ মুসলেহ উদ্দিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে অখন্ড পাকিস্তানের ধারণা মাথায় নিয়ে তিনি রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত ১৯টি মামলার রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ৪টি মামলায় মোট ৫জন পলাতক আসামির সাজার আদেশ দেয়া হয়।

হাসান আলীর বিরুদ্ধে ছয় অভিযোগ-১ : একাত্তরের ২৭ এপ্রিল হাসান আলীর নির্দেশে তাড়াইল থানাধীন সাচাইল গ্রামের পূর্বপাড়ার হাছান আহমদ ওরফে হাচু ব্যাপারীর বসতবাড়ির ৭টি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা। এই অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

অভিযোগ ২ : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৩ আগস্ট হাসান আলীর নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা তাড়াইল থানাধীন কোনাভাওয়াল গ্রামের শহীদ তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া ওরফে লালু ভূঁইয়াকে হত্যা করে দুটি ঘরে লুটপাট চালানো হয় এবং আরও দুজনকে অপহরণ ও আটক করা হয়। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়।

অভিযোগ ৩ : একাত্তরের ৯ সেপ্টেম্বর তাড়াইল থানার শিমুলহাটি গ্রামের পালপাড়ায় অক্রুর পালসহ ১২ জনকে হত্যা এবং ১০টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে হাসান আলীর লোকজন। ঐ গ্রামের পুরুষদের ধরে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হয়। এই অভিযোগটি প্রমাণিত হওয়ায় ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়।

অভিযোগ ৪ : একাত্তরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাড়াইল থানাধীন ভোরগাঁও গ্রামের বেলংকা রোডে সতীশ ঘোষসহ ৮ জনকে হত্যা ও ১০ জনকে অপহরণ এবং এবং ২৫ হাজার টাকার মালামাল লুটপাটে নেতৃত্ব দেন হাসান আলী। এই অভিযোগটি প্রমাণিত হওয়ায় ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়।

অভিযোগ ৫ : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৮ অক্টোবর তাড়াইল থানাধীন আড়াইউড়া গ্রামের কামিনী কুমার ঘোষের বসতবাড়ি থেকে কামিনী কুমার ঘোষ ও জীবন চক্রবর্তীকে অপহরণের পরে হত্যা এবং ৬টি ঘরে লুটপাট চালায় হাসান আলীর লোকজন। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়।

অভিযোগ ৬ : একাত্তরের ১১ ডিসেম্বর হাসান আলীর নেতৃত্বে তাড়াইল থানাধীন সাচাইল গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় রাশিদ আলী ব্যাপারীকে হত্যা এবং ১শ ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়।

শুভ সমরাটজাতীয়
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কিশোরগঞ্জের পলাতক আসামি রাজাকার কমান্ড হাসান আলীর মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় দেন। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রায় পড়া শুরু হয়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে তা শেষ হয়। মোট ১২৫ পৃষ্ঠার রায়ে...