রামগঞ্জে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার কাজ ভাগবাটোয়ারা

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার কাজ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে।

সোমাবার সমঝোতার মাধ্যমে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও এডিপির (রাজস্ব) আওতায় ১১টি

প্যাকেজের জন্য ৩৩টি দরপত্র দাখিল করা হয়। দরপত্র দাখিলের শেষদিন ছিল সময় ৮ জুন সোমবার দুপুর ১টায় পর্যন্ত। অভিযোগ উঠেছে গত রোববার উপজেলায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের একটি গ্রুপের ঠিকাদারী কাজের টেন্ডার ফরম বিক্রিতে বাধা দেয়ার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়ে কজন ঠিকাদার জানান, গত শনিবার রাতে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার কার্যালয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র কয়েকজন নেতাকর্মী ভাগ-বাটোয়ারার জন্য বৈঠকে বসেন। ক্ষমতাসীন দলের বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যেকটির দরপত্রে বিপরীতে নিয়ম রক্ষার জন্য তিনটি করে দরপত্রের সিডিউল দাখিল করে এডিপির কাজগুলো ভাগ করে দেয়া হয়েছে বলে। অভিযোগ রয়েছে

ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের সিন্ডিকেট এ জন্য তাদের দলীয় তহবিলে শতকরা ১০ ভাগ হারে টাকা অগ্রিম জমা গ্রহণ করেছেন।

রামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সমপ্রতি ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও এডিপির (রাজস্ব) আওতায় ১১টি প্যাকেজে দরপত্রের সিডিউল আহ্বান করা হয়। টেন্ডারে রাস্তা-ঘাট মেরামত, হাট-বাজার ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এক কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার কাজের বাজেট ধরা হয়। দরপত্র বিক্রির শেষ দিন ছিল ৭ জুন রোববার। দরপত্র দাখিলের শেষদিন ছিল সময় ৮ জুন সোমবার দুপুর ১টায় পর্যন্ত।

এদিকে সোমবার ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় গিয়ে দেখা যায়, দরপত্র দাখিলের জন্য প্রকৌশলীর কক্ষে টেন্ডার বঙ্ রাখা হলেও প্রকৌশলী ও পুলিশ প্রশাসনের কেউ কার্যালয়ের সামনে এবং কক্ষে পাওয়া যায়নি। তবে প্রকৌশলীর পক্ষে প্রবেশ করতে গেলে দু’জন যুবক এসে বলেন প্রকৌশলী ভাই কোথায় যায়, কক্ষে প্রকৌশলী নেই, কোনো কিছু জানার থাকলে পাশের রুমে একাউন্টিং অফিসারের সাথে কথা বলেন। পরে ঐ দু’যুবকের কথা মতে একাউন্টি অফিসারের কক্ষে গেলেও সেখানে একাউন্টিং অফিসারকে পাওয়া যায়নি। না পাওয়ার জন্য অফিসে থাকা অন্য কর্মচারীরা কিছু বলতে পারেনি।

অভিযোগ রয়েছে, রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ ক ম রুহুল আমিন সিন্ডিকেট করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু সংখ্যক নেতাকে দিয়ে এ টেন্ডারের ফরম বিক্রি-নিয়ন্ত্রণ করা, তাদের বাইরে কোনো ফরম জমা না পড়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা ঠিকাদারদের ফরম কিনতে ও জমা দিতে বাধা দেয়। আলাপ কালে রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ ক ম রুহুল আমিন ও অন্যরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন । পরে তিনি নিজেকে নির্দোশ দাবি করে বলেন, টেন্ডার ফরম বিক্রি হচ্ছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে শুনেছি এলজিইডি অফিসের সামনে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে দু’জনের হাতাহাতি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিইডি কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার দাবি, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা অফিসে এসে টেন্ডারের ফরম বিক্রি ও জমা না দিতে তাদের নিষেধ করেছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তারা জানান। সাধারণ ঠিকাদাররা যেন কোনো ফরম কিনতে বা জমা দিতে না পারে এজন্য তারা (যুবলীগ-ছাত্রলীগ) অফিসের সামনে ও ভেতরে ঘোরাঘুরিও করে। তাই অফিসে কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নেই।

রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ঠিকাদার এমরান হোসেন বাচ্চু বলেন, আমি টেন্ডার ফরম কিনতে গত রোববার দুপুরে ‘এডিপি প্রকল্প কাজের’ ফরম কিনতে এলজিইডি কার্যালয়ে যাই। এ সময় আঙ্গারপাড়া এলাকার যুবলীগ নেতা মিল্লাদ তাকে ফরম কিনতে বাধা দেয়। এ নিয়ে আমার সাথে মিল্লাদের হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে প্রকৌশলীর হিসাব রক্ষকের টেবিলের গ্লাস ভাঙচুর করা হয় হাতাহাতি হতে। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফরম কিনতে না পারায় কাজটিতে অংশ গ্রহণ ইচ্ছাশর্তেও দরপত্র জমা দিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈকত মাহমুদ শামছু বলেন, ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী ঠিকাদারদের ফরম কিনতে ও জমা দিতে কোনো বাধা দেয়নি ছাত্রলীগ যা শুনেছেন তা মিথ্যা আপনারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমাদের নেতা আ ক ম রুহুল আমিনের সাথে একবার দেখা করেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মাহাবুবুল আলম বলেন, ফরম কিনতে ও জমা দিতে বাধার বিষয়টি কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি। যদি কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেনি তিনি।