দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। দীর্ঘ দু’যুগের বেশি সময় ধরে কানুনগো পদে কোনো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। আর সহকারী কমিশনার ভূমির (এসিল্যান্ড) পদ শূন্য রয়েছে শতাধিক। একইভাবে সহকারী হুকুমদখল কর্মকর্তা (এএসও) পদেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আর অন্যান্য পদ-পদবির কর্মচারীর সংখ্যাও খুবই অপ্রতুল। এ পরিস্থিতিতে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় হযবরল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় সংশিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে জনবলের অভাবে মাঠপর্যায়ে ভূমিক ব্যবস্থাপনায় প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার পদে দ্বিতীয় শ্রেণী, দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার পদে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী এবং তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর পদে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারিরা দায়িত্ব পালন করছেন। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে মাঠপর্যায়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা। এ পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অভাবে দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা ব্যক্তিগত লাভবান হতে একজনের জমি অন্যজনের নামে নামজারি করে দিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের বিড়ম্বনা বাড়ছে। এভাবেই জোড়াতালি দিয়ে চলছে মাঠপর্যায়ে ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম। সূত্র জানায়, বিগত ১৯৮৯ সালে একাধিকবার কানুনগো পদে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তারপর ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৯৭ সালে কানুনগো, সার্ভেয়ার, চেইনম্যান এবং অডিটর পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে ওই বিজ্ঞপ্তির শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করা যায়নি। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে আবারো কানুনগোসহ বিভিন্ন শূন্য পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় ভূমি মন্ত্রণালয়। আর ২০০৫ সালের আগস্টে কানুনগো পদের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ওই লিখিত পরীক্ষায় কানুনগোর চাকরিপ্রত্যাশী সাড়ে ১২ হাজার পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণদের ডাকা হয়নি। এসময়ে শুধুমাত্র যে কানুনগো পদেই জনবল নিয়োগ ঝুলে আছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় কানুনগো নিয়োগ না হওয়ায় পরিস্থিতি এখন জটিল আকার ধারণ করেছে। কারণ ইতিমধ্যে অনেকেই অবসরে চলে গেছেন। এমনকি সামপ্রতিক সময়েও কানুনগোসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে যাচ্ছেন। ফলে মাঠপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক ভূমি তদারক কর্মকর্তা-কর্মচারী পরদ শূন্য হয়ে পড়ছে। তাতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের হয়রানি বাড়বে, অন্যদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্বও বেহাত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিও বেদখলে চলে যেতে পারে।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে দেশে সহকারী কমিশনার ভূমির মঞ্জুরকৃত পদ ৪৮৭টি। তার মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৪১ জন। ১৪৬টি পদই শূন্য। এসিল্যান্ডের শূন্য পদগুলোতে অলিখিতভাবে দ্বিতীয় শ্রেণীর কানুনগোরা কাজ করছেন। ফলে নানা ধরনের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। সহকারী ভূমি হুকুমদখল কর্মকর্তার (এএসও) প্রথম শ্রেণীর ৫০টি শূন্য পদেও কানুনগোরা দায়িত্ব পালন করছে। অথচ মাঠপ্রশাসনে কানুনগোর মঞ্জুরকৃত ১ হাজার ৫৯৭টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৪৪৮ জন কানুনগো হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে কানুনগোর ১ হাজার ১৪৯টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে দায়িত্ব পালন করছেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী সার্ভেয়ার। তাছাড়া এক কানুনগোকে একাধিক উপজেলার চলতি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আর এ চলতি দায়িত্ব পেতে লাখ লাখ টাকা খরচ করছে অসাধু কাননগোরা। তাছাড়া সার্ভেয়ারের শূন্য পদ রয়েছে ১৮৬টি। এসব পদে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন নামজারি সহকারীরা।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় জনবল নিয়োগ প্রসঙ্গে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মো. সাইফুজ্জামান জানান, মাঠপর্যায়ে ভূমি ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে ভূমির মতো জটিল বিষয়ে কাজ করা অসম্ভব। জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা থাকায় দ্রুত জনবল নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে।-এফএনএস
du01

শুভ সমরাটশেষের পাতা
দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। দীর্ঘ দু'যুগের বেশি সময় ধরে কানুনগো পদে কোনো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। আর সহকারী কমিশনার ভূমির (এসিল্যান্ড) পদ শূন্য রয়েছে শতাধিক। একইভাবে সহকারী হুকুমদখল কর্মকর্তা (এএসও) পদেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আর অন্যান্য পদ-পদবির কর্মচারীর সংখ্যাও খুবই অপ্রতুল। এ...