শিরোনাম

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে মা-মেয়ের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩

1437974793
কক্সবাজারে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে মা ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে নারী ও শিশুসহ তিনজন। গতকাল রোববার রাত দুইটায় কক্সবাজার শহরের দনি বাহারছড়ার কবরস্থান পাড়াস্থ রাডার ষ্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-খায়রুল আমিনের স্ত্রী জুনু বেগম (২৮) ও তার শিশু কন্যা নীহা মনি (৭)। আহতাবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে- শাহ আলম (২৮) ও নুরুন নবী (২২)। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া এখনো নিখোঁজ রয়েছে শাহ আলম ( ৪৫),তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও কেন্যা রিনা আকতার।

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে মা-মেয়ের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩উদ্ধার হওয়া শাহ আলম জানিয়েছেন, রাত দুইটার দিকে বিকট শব্দে পাহাড় ধসে বাড়িতে চাপা পড়ে। স্থানিয়রা তাকে উদ্ধার করে। এদিকে পাহাড় ধসের খবর পেয়ে দ্রুত কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার দল ছুটে আসে এবং উদ্ধার কাজ শুরু করে। এরপরই উদ্ধার কাজে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর একটি দল। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার দল দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে নুরুন নবীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে চারটি বাড়ি মাটি চাপা পড়েছে। এ পর্যন্ত দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে উদ্ধার কাজ চালাতে যোগ দিয়েছে পেকুয়া ও চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার দল।

কক্সবাজারস্থ ১৬ ইসিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মাহবুবুর রহমান খান জানান, বৃষ্টির মধ্যেও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এ পর্যন্ত একটি শিশু ও মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ তিনজনকে উদ্ধারে তাদের কাজ চলছে।

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে মা-মেয়ের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩ ঘটনা পরবর্তী ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ, সদর থানার ওসি মতিউর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক বার্তা প্রচার করেছে জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ। জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশের এ বিবরণীতে বলা হয়েছে, কক্সবাজার, টেকনাফ ও চট্টগ্রামে যেকোনো সময় অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে ভূমিধস হতে পারে। এ খবর পেয়ে গতকাল রোববার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার তৎপরতা শুরু করে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্ব বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে নিদের্শও দেওয়া হয়।