বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
Uncategorized

৬৪০ একরের সাড়ে ৩শ একর জমিই বেহাত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৮ জুন, ২০১৫
  • ১৮ দেখা হয়েছে

du01ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি। ভয়াবহ জমি সঙ্কটে পড়েছে দেশের গৌরবোজ্জ্বল এই বিদ্যায়তনটি। ১৯২১ সালে ৬৪০ একর জমি নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় সাড়ে ৩শ একর জমিই বেদখলে। অবশিষ্ট জায়গার কিছু অংশ লিজ দেয়ার পাশাপাশি বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ঘিঞ্জি করে তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের অবহেলা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সরকারি অধিগ্রহণের কারণে বেদখল হয়েছে এ জমি।

সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত অধ্যাপক জিসি দেবের ধানমন্ডির ৭ কাঠার বাড়িটি দীর্ঘ ৪৪ বছর পর উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়। এটি জিসি দেব মৃত্যুর পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে লিখে দিয়ে যান। বর্তমানে এটিতে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য আবাসিক কোয়ার্টার নিমার্ণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি রেজিস্ট্রি করা হয়নি। তবে ১৯২৭ সালে গঠিত সেডলার কমিশন ২৫৭ একর জমি বিশ্ববিদ্যালয়কে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার সুপারিশ করে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. এ এফ রহমান এবং সেক্রেটারি অফ স্টেট ফর ইন্ডিয়া ইন কাউন্সিল এম এম স্টুয়ার্টের মধ্যে একটি দলিল স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৮০ বর্গফুট ফোর স্পেস সংবলিত ভবনাদিসহ ২৫৭ একর ৭০ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়। ঐ দলিল স্বাক্ষরের ফলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি বেহাত হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। প্রায় ৬শ ৪০ একর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কমে আসে ২৫৭ একরে। তবে ১৯৪৭ সালের পর অনুষ্ঠিত প্রতিটি সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি দাবি করা হত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ক্রমাগত দাবি ও চাপের মুখে ১৯৫০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য গঠিত হয় বিচারপতি ফজলে আকবর কমিশন।

কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, ২৫৭ একর জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অপ্রতুল। কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো ৬৩ একর জমি দেয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু তা দেয়া হয়নি বরং পাকিস্তান আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও জমি সরকার অধিগ্রহণ করে নেয়। ফলে তৎকালীন সময় থেকেই জমি সঙ্কটে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়। আর তা এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তবে বর্তমানে ক্যাম্পাসকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এবং উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে তাল মেলাতে গিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন নতুন ভবন। ফলে ক্যাম্পাসে কমে যাচ্ছে ফাঁকা জায়গা। যার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ পাচ্ছে না। আবার সবুজায়নের নামে খেলার ছোট ছোট মাঠগুলোতে ফুলের বাগান করায় প্রায় একেবারে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের গাছ কেটে বড় বড় অট্টালিকা তৈরিতে ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝেও। ক্ষুব্ধ এক শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ঐতিহ্য হল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশ। কিন্তু সম্প্রতি আমরা দেখছি যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গাছপালা কেটে বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করছে। কেমন যেন বিশ্ববিদ্যালয়কে গার্মেন্টস পাড়া বানিয়ে ফেলা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, ১২টি বিভাগে ৮৭৭ জন ছাত্র এবং ৬০ জন শিক্ষক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়েছিল। ৯১ বছরে পা রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক আছেন প্রায় দুই হাজার, ছাত্র-ছাত্রী প্রায় ৩২ হাজার। তাছাড়া বিভাগ ৬৯টি, ইনস্টিটিউট ৯টি, ১৩টি অনুষদ, ব্যুরো ও গবেষণা কেন্দ্র ৩৭টি এবং ১৭টি আবাসিক হল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস থেকে জানানো হয়েছে, গত ৯৪ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৭ গুণ এবং শিক্ষকের সংখ্যা ২৫ গুণ বেড়েছে। কিন্তু কমে গেছে জমির পরিমাণ। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট জমির পরিমাণ ২৪০ একর। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে জায়গা রয়েছে তার মধ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আনবিক শক্তি কমিশন ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজকে লিজ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিভিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি বেদখলে চলে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি উদ্ধার করা হবে।

পরিবেশ ঘিঞ্জি হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বলেন, প্রয়োজনের দাবিতে নতুন ভবন তৈরি করতে হচ্ছে। এখন যে জমি আছে তাতেই ভবন তৈরি করতে হবে। তবে পরিবেশ যেন বসবাস উপযোগী থাকে সেই ব্যাপারে আমাদের লক্ষ্য রয়েছে।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী

© All rights reserved by Crimereporter24.com
themesba-lates1749691102