বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
Uncategorized

নতুন করে চলেছে সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৫
  • ১০ দেখা হয়েছে

1437663328
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত জুনের ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের ৪৪ বছরের সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে। এটি সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে দুই দেশের মানচিত্র।

সামনের বছরের ৩০ জুনের মধ্যে দুই দেশের নতুন সীমানা চূড়ান্ত করা হবে। বাংলাদেশ-ভারতের ভৌগোলিক এলাকা নতুনভাবে চিহ্নিত করতে দুই দেশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটিও কাজ শুরু করেছে। এ নিয়ে ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে বৃহস্পতিবার দুই দেশের প্রতিনিধিরা দিনব্যাপী বৈঠক করেন। ওই বৈঠক সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনই কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্টরা।

তবে একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হওয়ার পর মানচিত্র ঠিক করতে ঢাকায় বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো দুই দেশের যৌথ প্রতিনিধি কমিটির আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ের বৈঠক। দুই দেশের মানচিত্রে কোথায় কোথায় সংশোধন আসবে, সীমান্তে নতুনভাবে সীমানা চিহ্নিতকরণ পিলার কোথায় কোথায় বসবে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয় ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। এ রকম বৈঠক আরও হবে। এ সব বৈঠকের পর যৌথ কমিটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধির কাছে তা উপস্থাপন করবে। এরপর অনুমোদন পেলেই তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. শফিকুর রহমান। তিনি বৃহস্পতিবার রাতে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত করতে বৈঠক করেছি। চূড়ান্ত হলে সব জানাব।’

পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক জানান, স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের একটি অংশ হল দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ঠিক করা। এ নিয়ে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি কাজ করছে।

জানা গেছে, সীমান্ত নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুসারে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট জরিপকারী দল মানচিত্রে দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত করার কাজ ২০১৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করবে।

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত জুনে ঢাকা সফরের সময় ৬ তারিখে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ও এস জয়শঙ্কর ছিটমহল বিনিময় সংক্রান্ত নথিপত্র বিনিময় করেন। এর আগে গত মে মাসে দীর্ঘ ৪০ বছর পর বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য ভারতের লোকসভায় ও রাজ্যসভায় পাস হয়।

এরও আগে ১৯৭৪ সালের ১৬ মে দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রটোকল চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে ভারত ও বাংলাদেশ নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরে ছিটমহল বিনিময়ে সম্মত হয়।

ভারতে বাংলাদেশী ছিটমহল রয়েছে ৫১টি। যার মোট এলাকা প্রায় সাত হাজার ১১০ একর। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। সেই জমির পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ১৬০ একর। ছিটমহল হস্তান্তর হলে ভারত পাবে সাত হাজার একর জমি আর বাংলাদেশ পাবে প্রায় ১০ হাজার একর জমি।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী

© All rights reserved by Crimereporter24.com
themesba-lates1749691102