bandwidth_Italyআগামী শনিবার ভারতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি চুক্তি শেষ হওয়ার পরপরই ইতালিতেও ব্যান্ডউইথ রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু করছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি (বিএসসিসিএল) বোর্ড ইতালিতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি ফাইল পাঠিয়েছে। টেলিকম ইতালিয়া স্পার্কালস নামের কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক অবস্থায় এক বছর মেয়াদি ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ চেয়েছে। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

ইতালিয়া স্পার্কালস কোম্পানিটি এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ থেকে বিএসসিসিএলের আওতাধীন সাবমেরিন ক্যাবলের ক্ষমতার অর্ধেকটা ১৬ কোটি টাকায় কিনে নিতে প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দাম হওয়াতে স্বয়ং বিএসসিসিএলের ভেতরে এই নিয়ে সমালোচনা হয়। পরে তারা নতুন করে এক বছর মেয়াদি ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের প্রস্তাবনা দিলে তা মেনে নেয় বিএসসিসিএল কর্তৃপক্ষ।

তবে অভিযোগ উঠেছে ইতালির কাছে যে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা হবে তার মূল্য রাখা হয়েছে খুবই সীমিত। এমনকি ভারতের কাছে যে মূল্যে রপ্তানি করা হবে তার এক ষষ্ঠাংশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতালিতে যে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা হবে তার মূল্য ধরা হয়েছে মাসে ১৪ হাজার মার্কিন ডলার। যদিও একই পরিমাণ ব্যান্ডউইথ ভারতে রপ্তানি হবে প্রতি মাসে ১ লাখ ডলারে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সাবমেরিন ক্যাবলের কাছে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৩২ জিবিপিএস। যে পরিমাণ ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হচ্ছে তা দেশের বাইরে রপ্তানি করার জন্য গত তিন বছর আগে থেকেই তৎপর রয়েছে বিএসসিসিএল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক অবস্থায় এটা ভারত পাচ্ছে। এরপর ইতালি। পরের ধাপে অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশ ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা। এই দেশগুলো তিন বছর আগে থেকেই ব্যান্ডউইথ ক্রয় করার জন্য আবেদন করেছিল।

বাংলাদেশ-ভারতের সঙ্গে ওএফসি চুক্তির অধীনে আন্তর্জাতিক গেটওয়ের প্রয়োজনীয় সংযোগ চাহিদা পূরণে সার্কভুক্ত দেশ নেপাল ভুটানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনই কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব-পশ্চিম ইউরোপ ৪ (সি-মি-উই-৪) সাবমেরিন কেবলের সহমালিক হচ্ছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত এই সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ বিস্তৃত। সংযোগ পথেই বাংলাদেশ এ মুহূর্তে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, তিউনিশিয়া এবং আলজিরিয়া পড়েছে। এই বিশাল ক্যাবল দিয়েই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত উপমহাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের সঙ্গে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বিএসসিসিএল’র এমডি মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে বিকল্প পথে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ আনার জন্য সিমিউই-৫ নামের নতুন কনসোর্টিয়ামের সদস্যপদ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সিমিউই-৪ এর (সাউথ এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ) ক্যাবলের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। এর মালিক হচ্ছে ১৬ দেশ। সদস্য দেশগুলো হচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, ইতালি, তিউনিশিয়া, আলজিরিয়া ও ফ্রান্স। সিমিউই-৫ নতুন কনসোর্টিয়ামটি গঠিত হবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ নিয়ে।
তথ্যসূত্রঃ প্রিয়.কম

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/06/bandwidth_Italy.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/06/bandwidth_Italy-300x300.jpgশুভ সমরাটবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
আগামী শনিবার ভারতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি চুক্তি শেষ হওয়ার পরপরই ইতালিতেও ব্যান্ডউইথ রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু করছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি (বিএসসিসিএল) বোর্ড ইতালিতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি ফাইল পাঠিয়েছে। টেলিকম ইতালিয়া স্পার্কালস নামের কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক অবস্থায় এক...