1436724749

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কারোর ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না, কারো কাছে হাত পাততেও চাই না। বিজয়ী জাতি হিসেবে কারো কাছে মাথা নত না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের ওপর দেশের মানুষের আস্থা আছে। আর এই আস্থা নিয়েই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবো।

গতকাল রবিবার ঢাকায় খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০১৫ এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা ২০১৫ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা সরকার চালাই দেশের স্বার্থে। ইতিমধ্যে তা আমরা প্রমাণ করেছি। বিশ্বব্যাংক আমাদের অনেক যন্ত্রণা দিয়েছে। সবার মনে রাখতে হবে আমরা তাদের কাছ থেকে ঋণ নেই, ভিক্ষা নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু তহবিল গঠন করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি টেকসই সবুজ প্রবৃদ্ধির জন্য পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা আরো বলেন, ইতিমধ্যে আমরা নিম্ন-মধ্যম আয়ের জাতি হয়েছি। আমাদের মাটি সোনার মাটি। সবাই আন্তরিকতার সাথে কাজ করলে আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে।

দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের স্বার্থে এটি করতে হবে। সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও তিনটি করে গাছ লাগানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের উচিত অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানো। বনায়নে তার সরকারের সফলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ছয় বছরে দেশের বনভূমির পরিমাণ ৯ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এটিকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা আছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা লেকের দুরবস্থার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় এখানে ভোলা গ্রাম ছিলো। সেখানে এখন যারা বসবাস করেন তারা বড়লোক। অনেকে বড় হাসপাতাল করেছেন। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোন ব্যবস্থা নেননি। আবার অনেকে লেক ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের স্বার্থে লেকগুলো বাঁচাতে হবে। ইতিমধ্যে সরকার এ বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ‘জগত্ মাতার’ সুরক্ষায় আমরা সবাই যত্নবান হলে সবুজ প্রবৃদ্ধি বিকাশের মাধ্যমে দেশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এ পৃথিবীকে যতটুকু যত্নে লালন করব, পৃথিবী ঠিক ততটুকু সম্ভাবনা ধারণ করবে আমাদের জন্য। কাজেই প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং সংরক্ষণ আমাদের নিজেদের ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের স্বার্থে করতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের একার পক্ষে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার মতো কঠিন কাজ করা সম্ভব নয়। এ জন্য তিনি দেশের সব নাগরিককে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন ও পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগী হতে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেককে অন্তত ১টি বনজ, ১টি ফলদ ও ১টি ভেষজ বৃক্ষের চারা রোপণের আহ্বান জানান।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জেকব, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাইসুল আলম মণ্ডল বক্তৃতা করেন।

অর্ণব ভট্টজাতীয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কারোর ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না, কারো কাছে হাত পাততেও চাই না। বিজয়ী জাতি হিসেবে কারো কাছে মাথা নত না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের ওপর দেশের মানুষের আস্থা আছে। আর এই আস্থা নিয়েই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবো। গতকাল রবিবার...