83347_e2
বাংলাদেশের অভিনয় জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র জয়া আহসান। টিভি জগতে টানা দীর্ঘ সময় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। টিভি থেকে বর্তমানে চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় ও চাহিদাসম্পন্ন নায়িকা জয়া। এরই মধ্যে তার অভিনীত ছবিগুলো বেশ দর্শকনন্দিত হয়েছে। জয়া আহসান চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে পেয়েছেন অন্যরকম একটি গ্রহণযোগ্যতা। বাংলাদেশের পর এখন ওপার বাংলার চলচ্চিত্রেরও জনপ্রিয় মুখে পরিণত হয়েছেন তিনি। সেখানে তার কয়েকটি ছবি মুক্তি পেয়েছে, কয়েকটি রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। সম্প্রতি ভারতের অন্যতম শীর্ষ সংবাদ মাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ দুই বাংলার জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীকে নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। সেই সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জয়া আহসান। বাংলাদেশের একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবে টলিউডে নিজেকে কতটা আমন্ত্রিত অনুভব করেন? এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জয়া আহসান বলেন, অনেক বড় আর উষ্ণ অভ্যর্থনা এখানে আমি পেয়েছি। এ বাংলার লোকজন সব সময়ই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, আমি তাদেরই একজন, বাইরের কেউ নই। আমি টলিউডের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখানকার পরিচালক, শিল্পী, টেকনিশিয়ানের কাছে আমি ঋণী। ছবি দেখতে আসা দর্শকরা আমাকে নিয়ে আগ্রহী। আমার কাছে এটা একটা ইতিবাচক ব্যাপার। টলিউড আপনার প্রতিভার সঠিক প্রকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে কি? উত্তরে জয়া আহসান বলেন, না। এত অল্প সময়ে এটা সম্ভব নয়। সবেমাত্র এখানে ক্যারিয়ার শুরু করেছি। নিজেকে আমার প্রমাণ করতে হবে। লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। নিজেকে প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের অপেক্ষায় আছি। এখানকার পরিচালকরা ঝুঁকি নিতে ভয় পান, আর ‘আবর্ত’র পর একই ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব পেয়ে যাচ্ছি। তাই আমি একটা বিরতি নিয়েছিলাম। এরপর শ্রীজিত মুখার্জি আমাকে ‘রাজকাহিনী’তে অসাধারণ একটি চরিত্রের প্রস্তাব করলে আমি তা লুফে নিই। এ ছবি দেখার পর দর্শকদেরই সিদ্ধান্ত নিতে দিন যে, অভিনেত্রী হিসেবে জয়া আহসান কী করতে পারেন! আমি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। বাংলাদেশে পরিচালকরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে যুক্ত করেছেন, হয়তো তারা জানতেন যে আমি তাদের নিরাশ করব না। বাংলাদেশে আগামীতে একটি ছবি আসবে, যেখানে আমি সার্কাসে (সার্কাস) কাজ করা একজনের চরিত্রে অভিনয় করেছি। আরেকটা ছবিতে আমি নারী সুপার হিরোর (মেসিডোনা) চরিত্রে অভিনয় করেছি। কলকাতার আর কোন কোন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে আপনি আগ্রহী? জয়া আহসান বলেন, আমি প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি এবং দেবের সঙ্গে কাজ করতে চাই। এছাড়াও ঋত্বিক চক্রবর্তী, পরমব্রত চ্যাটার্জি আর শাশ্বত চ্যাটার্জি সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা আমার। ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার বন্ধু কারা? জয়া আহসান হেসে বলেন, এখানকার সবাইকে বন্ধু ভাবতেই ভাল লাগবে। ‘রাজকাহিনী’তে ১১ জন অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করার পর তাদের সঙ্গে বিশেষ এক ধরনের বাঁধন তৈরি হয়েছে। এটা পবিত্র, যেখানে শুধু বন্ধুত্ব আছে, কোন শত্রুতা নেই। আর আমি এটাকেই গুরুত্ব দেই। বাংলাদেশে আপনি অবাণিজ্যিক ছবির জন্য পরিচিত। আর টলিউডে ‘আবর্ত’, ‘রাজকাহিনী’ আর ‘একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো’র মতো ছবি। আপনি কী ইচ্ছে করেই বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করা এড়িয়ে চলেন? জয়া বলেন, ঠিক তা নয়। অবশ্যই স্বাধীন আর মধ্যবর্তী ছবি আমার মূল প্রাধান্য। কিন্তু আমি অর্থপূর্ণ বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করার চ্যালেঞ্জ নিতে চাই। তবে চিত্রনাট্য আর চরিত্র আমাকে নাড়া দিতে হবে। না হলে নয়। টলিউডের তুলনায় বাংলাদেশে ছবির কেমন অবস্থা বলে মনে করেন? জয়া বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে আমি আবেগপ্রবণ আর আমি নিরপেক্ষ হতে পারব না। তবে আমাকে বলতেই হবে, ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে টলিউড বেশি পেশাদার। হয়তো তা আপনাদের বড় বাজার আর কাঠামোর জন্য। আমাদের থিয়েটার, প্রজেকশন সিস্টেম আর পোস্ট প্রডাকশন সুবিধা নিয়ে বড় সমস্যা আছে। কিন্তু একই সঙ্গে ছবির জন্য আমাদের গভীর ভালবাসা আছে। যা অন্য সব দোষ ছাপিয়ে যায়। প্রতি বছর বাংলাদেশে অনেক ভাল ছবি তৈরি হয় এবং সরকারও এ শিল্পকে সাহায্য করার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিচালক আর শিল্পীদের এক নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসছে। আর ছবি ও তার গল্পের জন্য আমাদের আগ্রহও দারুণ। ব্যক্তিগত দিক থেকে কী ঘটছে জয়ার জীবনে? খানিক হেসে জয়া বলেন, কিছুই না। যেহেতু আমার জীবনটাই নিবেদিত ছবির জন্য। আমার ব্যক্তিগত কোন স্বপ্নই নেই। কেননা আমি স্বপ্নই দেখি ছবি নিয়ে। আর তার মাঝেই বাস করি।

ওয়াজ কুরুনীবিনোদন
বাংলাদেশের অভিনয় জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র জয়া আহসান। টিভি জগতে টানা দীর্ঘ সময় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। টিভি থেকে বর্তমানে চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় ও চাহিদাসম্পন্ন নায়িকা জয়া। এরই মধ্যে তার অভিনীত ছবিগুলো বেশ দর্শকনন্দিত হয়েছে। জয়া আহসান চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে পেয়েছেন অন্যরকম একটি গ্রহণযোগ্যতা। বাংলাদেশের পর এখন ওপার বাংলার চলচ্চিত্রেরও জনপ্রিয়...